18/09/2024
#স্মল_ওয়াটার_ডগ
গুগলে ল্যাব্রেডোর লিখে সার্চ করলে বলে 'a small water dog'. তো আমাদের 2 BHK এপার্টমেন্টে এ থাকা এই ওয়াটার ডগটি বালতির মধ্যে থেকে মগ, গা ঘষার ব্রাশ ইত্যাদি অনেক রেসকিউ টেস্কিউ করেছিল বলে একদিন তাকে আমরা ডগি পুল পার্টিতে নিয়ে গেছিলাম। তার সাঁতারের বাহার দেখে বড় আশা জেগেছিল যে সে হয়তো বড় হয়ে ইংলিশ চ্যানেল পার-টার হয়ে যাবে। তাই ঠিক হলো আবার যেদিন আমি সমুদ্র স্নানে যাবো, আকিরাকে সাথে নেবো।
এমন এক শরতের প্রাক্কালে গোটা পরিবার মিলে বকখালী যাওয়ার পরিকল্পনা হলো। কারণ, বকখালিটা কাছে, তাই বেশি জার্নি হবে না। আর তুলনামূলক ভাবে কম ভিড়। চিন্তা ছিল আকিরা এতখানিটা জার্নি একভাবে বুঝি করতে পারবে না। তা আমাদের স্মল ওয়াটার ডগ যে ল্যান্ডেও বেশ মাঝারি মাপের ট্রাভেলার তা সেইদিন বুঝলাম। সবাই সামনের দরজা দিয়ে গাড়িতে উঠে বসে পড়ছে দেখে চিন্তায় আকিরা ভুরুতে যারপরনাই ভাঁজ পড়ল। ভাবলো তাকে রাস্তায় বের করেছি দেখানোর জন্য যে তাকে গাছের সাথে বেঁধে রেখে দিয়ে আমরা কেমন ড্যাং ড্যাং করতে করতে বেড়াতে যাচ্ছি। দুশ্চিন্তায় যখন আকিরার রক্তচাপ প্রায় বাড়বে, তখন আমি দিলাম গাড়ির পিছনের দরজা খুলে। ব্যাস! আর কে পায়! তাড়াহুড়ো করে অত উঁচুতে উঠতে গিয়ে মোটকু পেঁচি গেল আটকে। হাফ বডি গাড়িতে, বাকি হাফ ঝুলছে। মুখে একটা গোঁৎ শব্দ করতেই পদু ধরে দিলাম তুলে। উঠেই আবার দুশ্চিন্তা! মিমো বোধহয় পড়ে রইলো! হাফ বডিও তুলতে পারে নি বুঝি। ব্যস্ত হয়ে মিমোর গাড়িতে ওঠার সরজমিনে পর্যবেক্ষণ করে জুত করে মিমোর কোলে বসলো। সারা রাস্তা অসংখ্য বার মিমোকে চেটে দেখলো যে যতখানি মজা ওর হচ্ছে ঠিক ততটাই মিমোরও হচ্ছে কিনা। সেদিন খাওয়া দাওয়ারও কোন অ্যাম্বিশন নেই।
পৌঁছে প্রথমে তাকে খেতে দেওয়া হলো। নতুন জায়গা শুঁকতে পাওয়ার আনন্দে তার খাওয়ায় দিকে বিশেষ মন নেই। ভাবলাম সমুদ্রের পাড়ে গিয়ে ওকে নিয়ে বসবো। হালকা ধাতস্ত হলে আস্তে আস্তে সমুদ্রে নামাবো। ভীতু বাচ্চা যেন ভয় না পেয়ে যায় প্রথমেই। কিন্তু আমি তো আকিরার সেই জিব্রাল্টা ক্রস করার পরিকল্পনার কথা ভুলেই গেছিলাম। সমুদ্র দেখতে পেয়েই আমাদের স্মল ওয়াটার ডগের গত জন্মের জলপরী হওয়ার কথা মনে পড়ে গেল। আমাকে টানতে টানতে এমন জলে নামালো যেন এক্ষুনি আমাকে নিয়ে একটা বানানা রাইড দেবে। নোনা জল খেয়ে, মেখে, হ্যাঁচ্ছো করে সে কি মজা! তারপর সকলের কোলে উঠে ফটোসেশন আর শেষে লাঞ্চে গুড়জাউলি মাছ। এহেন লম্ফঝম্ফ আর ভোজ খেয়ে কি আর পারা যায়? যতই হোক, বাঙালি ল্যাব্রেডোর বলে কথা! ফেরার সময় সারা রাস্তা গাড়িতে ঘুম। সেরা ছিল দিনটা। আমাদের সকলের জন্য।
না, ইংলিশ বাংলা কোনো চ্যানেল পার করা হয়নি। স্মল ওয়াটার ডগ এখন বৈতরণী পার করে ফেলেছে।