বিজ্ঞান ভিত্তিক গবাদি পশুপাখি পালন -Animal Husbandry

  • Home
  • Bangladesh
  • Savar
  • বিজ্ঞান ভিত্তিক গবাদি পশুপাখি পালন -Animal Husbandry
Directions

বিজ্ঞান ভিত্তিক গবাদি পশুপাখি পালন -Animal Husbandry Educational

25/02/2025

✅লিচুর ভালো ফলন পেতে এই মূহুর্তে লিচু কৃষক ভাইদের করণীয়।

★ প্রথম পর্যায়ে মুকুল আসার ১০-১৫ দিন আগেই মাকড়নাশক
থিয়োভিট
কুমুলাস
ম্যাকসালফার
মনোভিট যে কোন একটি প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

অথবা
এবামেকটি গ্রুপের কীটনাশক
ভার্টিমেক ১.৮ ইসি
টক্সিমাইট ১.৮ ইসি
লাকাদ ১.৮ ইসি
এবম ১.৮ ইসি
সানমেকটিন ১.৮ ইসি
প্রতি লিটার পানিতে ১.২৫ মিলি হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে

★ মুকুল আসার পরে করনীয়:

মুকুল বের হওয়ার পর কিন্তু ফুল ফোটার আগেই
ইমিডাক্লোরোপ্রিড গ্রুপের কীটনাশক
এডমায়ার ২০ এসএল
ইমিটাফ ২০ এসএল
ইমপেল ২০ এসএল
টিডো ২০ এসএল
গেইন ২০ এসএল
যে কোন একটি বালাইনাশক প্রতি লিটার পানিতে ০.৫
গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। সাথে

কার্বোডাজিম+মেনকোজেব গ্রুপের ছত্রাকনাশক
ম্যানসার ৭৫ ডাব্লিউ পি
ক্যাম্পানিয়ন ৭৫ ডাব্লিউ পি
ক্লাস্টার ৭৫ ডাব্লিউ পি
কারকোজেব ৭৫ ডাব্লিউ পি
কেমামিক্স ৭৫ ডাব্লিউ পি
যে কোন একটি ছত্রাক নাশক প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে পারেন।

★ লিচুর ফল আসার পরে করণীয়:

লিচুর ফল ঝরা, ফল ফেটে যাওয়া প্রতিরোধ ফল মটরদানা আকৃতি ধারণের পরে ভেজিমেক্স/বলবান/প্রোটোজিম/প্লানোফিক্স/মিরাকুলান/এস্টার যে কোন একটি অনুমোদিত মাত্রার্য় মিশিয়ে করতে হবে।

লিচু মার্বেল আকৃতি পর্যায়ে লিচুর ফলছিদ্রকারী পোকা ও অ্যানথ্রাকনোজ রোগের আগাম প্রতিষেধক হিসেবে

সাইপারমেথ্রিন গ্রুপের কীটনাশক
রিলোথ্রিন১০ ইসি,
রিপকর্ড ১০ ইসি,
কট ১০ ইসি,
শেফা ১০ ইসি,
সুরক্ষা ১০ ইসি,
ম্যাজিক ১০ ইসি
যে কোন একটি কীটনাশক প্রতি লিটার পানিতে ১ মিলি হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। সাথে

ম্যানকোজেব+মেটালেক্সিল গ্রুপের ছত্রাকনাশক
মেটারিল ৭২ ডাব্লিউ পি
নিউবেন ৭২ ডব্লিউপি
রিডোমিল গোল্ড এমজেড ৬৮ ডব্লিউজি
মেটকো ৭২ ডব্লিউপি
ভিটামিল ৭২ এমজেড
করমিল এমজেড ৭২ ডব্লিউপি
যে কোন একটি ছত্রাক নাশক প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে পারেন।

আরও করনীয়:

* কলম চারার ক্ষেত্রে গাছের বয়স কমপক্ষে ৩ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত মুকুল ভেঙ্গে দিতে হবে। এতে গাছের বৃদ্ধি ভালো হয় ও দীর্ঘ দিন ফল দেয়।
* ফলন্ত গাছে মুকুল আসার ৩ মাস আগে থেকে সেচ প্রদান বন্ধ রাখতে হবে।
* লিচুর মুকুল ফুটা অবস্থায় স্প্রে করা যাবে না।

* লিচুর মুকুল ফোটার শেষ পর্যায়ে কমপক্ষে একবার ও ফল মটর দানা পর্যায়ে একবার এবং দ্বিতীয় সেচ ১৫ দিন পরে একবার সেচ দিতে হবে।

* গাছের গোড়া আগাছা মুক্ত ও পরিস্কার রাখতে হবে।
* স্প্রে অব্যশই গাছের পাতা, মুকুল, ও ডালপালা ভালো ভবে ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে।
* ফল সংগ্রহের পরে লিচুর মাকড় আক্রান্ত ডাল ভেঙ্গে পুড়িয়ে ফেলতে হবে।
* বোরন ও জিংক সারের ঘাটতি থাকলে অন্যান্য সার সহ প্রতি গাছে ২০ গ্রাম বোরন ও ১০ গ্রাম জিংক সার লিচুর আটি শক্ত হওয়া পর্যায়ে গাছের গোড়ায় মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। অথবা সলুবর বোরন ও চিলেটেড জিংক মিশিয়ে স্প্রে করা যেতে পারে।

Biplob Hossain

26/08/2024

গাভীর বাচ্চা প্রসবের সময় বোঝার উপায়ঃ
অনেক সময়, বিশেষ করে নতুন খামারীরা গাভী কখন বাচ্চা দিবে বা কখন প্রসব বেদনা উঠে তা বুঝতে পারেন না। গাভী বাচ্চা প্রসব করার পূর্বে কিছু লক্ষণ দেখা দেয় তা নিচে দেওয়া হল-
১। গাভীর মধ্যে একটা অস্থিরতা দেখা যাবে।
২। গাভী বারবার উঠা বসা করবে।
৩। গাভীর ওলান ফুলে উঠে আকার বাড়তে থাকে এবং লেজের গোড়ার দুপাশে গর্তের মত আকার স্পষ্ট হবে।
৪। যোনীমুখ দিয়ে সাদা তরল আঠালো পদার্থ বের হতে দেখা যাবে।
৫। যোনীমুখ বড় হয়ে ঝুলে যাবে এবং নরম ও ফোলা ফোলা হয়ে যাবে।
৬। যোনী পথ দিয়ে পানির থলি বেরিয়ে আসবে।
৭। গাভীর যোনী পথ দিয়ে বাছুরের সামনের দুপা ও মুখ এক সঙ্গে বেরিয়ে আসবে।
উপরোক্ত লক্ষণগুলি দেখে আমরা বুঝতে পারি যে গাভীর বাছুর প্রসব করার সময় হয়েছে কিনা এবং সে অনুযায়ী পরবর্তী প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারি।

গরুর খামার ঘর (সেড) তৈরিঃ (বিস্তারিত বর্ণনা)গরুর খামারে মুনাফার ৪টি শর্তের একটি হল গরুর জন্য আরামদায়ক ঘরের ব্যবস্থা করা।...
26/08/2024

গরুর খামার ঘর (সেড) তৈরিঃ
(বিস্তারিত বর্ণনা)
গরুর খামারে মুনাফার ৪টি শর্তের একটি হল গরুর জন্য আরামদায়ক ঘরের ব্যবস্থা করা।
গরুর খামার ঘর তৈরি করতে জানা অর্থ কিভাবে আপনি নিজের নির্দিষ্ট টাকা ও জায়গা দিয়ে গরুর জন্য সর্বোচ্চ আরামদায়ক সেডের ব্যবস্থা করবেন। এর জন্য আপনাকে গরুর ঘরের বিভিন্ন অংশের মাপ এবং এই মাপগুলো কম-বেশি করলে কি সুবিধা-অসুবিধা তা জানতে হবে।
গরুর ঘর তৈরির নিয়ম
প্রথমে আমরা ঠিক করব খামারে দুই সারিতে নাকি এক সারিতে গরু পালব। দুই সারির নিয়ম বুঝলে এক সারি সহজেই বোঝা যাবে। দুই সারি করে হিসাব করলে ১০ টি গরুর জন্য প্রতি সারিতে ৫ টি করে গরু থাকে। আর মাঝে হাটার জন্য একটি রাস্তা। সুতরাং এক সারি গরু ও মাঝের রাস্তার জায়গার হিসাব করলেই ঘরের জায়গার হিসাব বেড়িয়ে যাবে ইংশাল্লাহ।
গরুর খামার তৈরির নকশা
প্রথমে ঘরের চওরা। একটি গরুর জন্য মাথা থেকে পেছন পর্যন্ত ৬ থেকে ৮ ফুট পর্যন্ত জায়গা দিতে হবে। আমরা ধরে নিলাম এটি ৭ ফুট(জায়গা বেশি থাকলে ৮ ফুট করা ভাল) । গরুর সামনে খাবার পাত্রের জন্য ২.৫ ফুট জায়গা আর পেছনে ড্রেনের জন্য 0.৫ ফুট জায়গা রাখা হল।
সুতরাং এক সারি গরুর জন্য টোটাল ৭ + ২.৫ + 0.৫ = ১০ ফুট জায়গা দরকার। এবং দুই সারির জন্যে চওরায় ২০ ফুট।
গরুর খামার তৈরির নকশা
মাঝের রাস্তা মিনিমাম ৪ থেকে ১০ ফুট রাখতে হয়। আমরা এখানে ৪ ফুট ধরলাম। সুতরাং ঘরের চওড়া টোটাল ২০ + ৪ = ২৪ ফুট।
একটি গরুর জন্য তার সামনে ৪ ফুট( জায়গা বেশি থাকলে সাড়ে ৪ ফুট) জায়গা দিতে হবে, অর্থাৎ গরু থেকে গরুর দুরত্ব হবে ৪ ফুট। তাহলে ৫ টি গরুর জন্য ২০ ফুট। সাথে গেটের জন্য ৪ ফুট লাগবে।
সুতরাং মোট লম্বা ২৪ ফুট, গেট মাঝ রাস্তা দিয়ে হলে ২০ ফুট।
আমাদের দেশের শেডের উচ্চতা নরমালি ১০/১৩ বা ১২ / ১৫ ফিট বা ১২ / ১৪ ইত্যাদি হয়ে থাকে। শেড যত উচু হবে তত ভালো। আধুনিক বড় খামারগুলোতে ৪০-৫০ ফিট শেড উচু করতে হয়।
হেড টু হেড / টেল টু টেল
হেড টু হেডঅর্থ হল গরু গুলো ভেতরে পরস্পরের মুখোমুখি দাঁড়াবে। এক্ষেত্রে গোবর বাইরে পড়বে।
টেল টু টেল অর্থ গরুগুলো পরস্পরের বিপরীতে দাঁড়াবে, গোবর ভেতরে পড়বে।
দুটো সিস্টেমেরই সুবিধা – অসুবিধা আছে। নিচে তুলে ধরা হল-
হেড টু হেডের সুবিধাঃ
১। খাবার দিতে সুবিধাঃ হেড টু হেডের ক্ষেত্রে গরুগুলো মুখোমুখি দাড়াবার কারনে দ্রুত ও ভালোভাবে খাবার দেওয়া যায়।
২। গ্যাসের সমস্যা কমঃ গোবর – প্রসাব বাইরের দিকে পড়ার কারনে ভেতরে গ্যাসের সমস্যা কম হয়।
৩। গরুর গুতোর বিপদ নেইঃ গরু গুলো খাবার পাত্রের অপর পাশে থাকার কারনে গুতো খাবার বিপদ কম।
৪। ছেড়ে গরু পালনের জন্য সুবিধাঃ গরুর পেছনে খালি মাঠ বা জায়গা থাকে। ফলে এক্ষেত্রে হেড টু হেড সিস্টেম একমাত্র উপায়।
টেল টু টেলের সুবিধাঃ
১। পর্যাপ্ত আলো বাতাসঃ গরুর মুখ বাহিরের দিকে থাকার কারনে পর্যাপ্ত আলো বাতাস পায়।
২। দ্রুত গোবর-মূত্র পরিস্কার করা যায়ঃ দুই সারির গোবর এক দিকে পরার কারনে সহজে ও দ্রুত পরিস্কার করা যায়।
৩। দুধ দোয়ানোতে সুবিধাঃ ভেতরের দিকে থাকার কারনে দুই সারি গাভি থেকে সহজে দুধ নেওয়া যায়।
৪। শ্বাসজনিত রোগ সহ অন্যান্য রোগ ছড়াবার সম্ভাবনা কমঃ প্রায় সব রোগ মুখের শ্বাস, লালা, নাকের মিউকাস ইত্যাদি দিয়ে ছড়ায়। গরুগুলো একে অপরের বিপরীত দিকে থাকার কারনে এটির সম্ভাবনা কম।
৫। একটি ড্রেনই যথেস্টঃ পাশে একটু বেশি জায়গা দিয়ে মাঝে একটি ড্রেন দিয়েই সমস্ত ময়লা দূর করা যায়।
৬। গোসলে সুবিধাঃ দ্রুত ও সহজে গোসল দেওয়া যায়।
এবার আলোচনা করা যাক কোনটি ভালো। দেখা যাচ্ছে টেল টু টেলের সুবিধা অনেক বেশি। কিন্তু হেড টু হেডের সুবিধাগুলো কি আসলেই সুবিধা কিনা, কিংবা সেগুলোর গুরুত্ব কতটুকু সেটা একটু দেখা যাক।
প্রথমত, খাবার দেবার সুবিধার কথা যদি ভাবা হয় তাহলে অন্য দিকে গোবর পরিস্কার, গোসল, দুধ দোয়ানো সহ অনেক কাজে অসুবিধা বেশি। কাজেই এ পয়েন্টটি টিকছে না। দ্বিতীয়ত, গোবরের গ্যাসের কথা ভাবতে গিয়ে গরু যদি আলো বাতাস কম পায় তাহলে সেটা তেমন কাজে দিবে না।
এদিকে গাভির ক্ষেত্রে গুতোর তেমন সম্ভাবনা নেই। ফ্যাটেনিং এর ক্ষেত্রে এটি অনেক গুরুত্বপূর্ন। তবে টেল টু টেলে যদি খাবার বাইরে থেকে দেওয়া যায় তাহলে এ সমস্যাটা থাকছে না।
তবে ছেড়ে গরু পালার ক্ষেত্রে হেড টু হেডের বিকল্প নেই। আমাদের দেশে এখন অনেক আধুনিক খামার গড়ে উঠছে যেগুলোতে গরু ছেড়ে পালার সিস্টেম থাকে। এসব ক্ষেত্রে হেড টু হেড সবচেয়ে ভালো। অন্যথায় টেল টু টেল সিস্টেম হেড টু হেডের চেয়ে অনেক গুনে ভালো।
আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে একটি ব্যাপার মাথায় রাখতে হবে যে শেড বানাবার সময় বেশিরভাগ খামারি নিজের সুবিধার কথা ভাবে, গরুর সুবিধা না (অবশ্য বর্তমানে অনেক শিক্ষিত খামারির সংখ্যা বাড়ছে) । হেড টু হেড হলে সে সহজেই খাবার পানি দিতে পারবে। অথচ খামারে লাভ করার সূত্রের ৪ নাম্বার শর্ত ছিল গরুকে আরামদায়ক পরিবেশ দেওয়া।
তবে অনেক খামারির পক্ষে আসলে হেড টু হেড ছাড়া উপায় থাকে না। আলাদা ঘর না থাকার কারনে চোরের উপদ্রপের ভয়ে বাহিরের দেয়াল উচা বা টিন দিয়ে ঘেরাও করে ফেলতে হয়। ফলে গরুকে হেড টূ হেড রাখতে হয়। আবার জায়গার স্বল্পতার কারনে অনেকের বাহিরে গিয়ে খাবার দেবার উপায় থাকে না।
কিন্তু একটু বুদ্ধি করে টিনের মাঝে জানালার মত করে ফাকা করে রাখলে বাহির থেকে খাবার দেওয়া যায়। আবার রাতে বন্ধ করে রাখা যায়। কিন্তু ওই যে বললাম, বেশিরভাগ খামারি এই কস্ট টুকু করতে চায় না।
ঘরের মেঝে কেমন হবে
উদ্দেশ্য হল যাতে সহজের পরিস্কার করা যায় এবং গরুর জন্য কোন সমস্যার না হয়।
ফ্লোর বা মেঝে দুই ভাবে বানানো যায় –
১। ইট দিয়ে সলিং
২। ঢালাই
১। ইট দিয়ে সলিংঃ বালু দিয়ে তার উপর ইটের সলিং পেতে সিমেন্ট বালুর মশলা তৈরি করে দুইটি ইটের সংযোগ স্থলে মশলা দিয়ে বন্ধ করে দিতে হবে।
এটি খুব ভালো ভাবে করতে হবে। অন্যথায় কদিন পর পর ইট উঠানোর ঝামেলা আছে। এমনকি এখন না হলেও ৪/৫ বছর পর ইট উঠে যায় এবং উচু নিচু হয়ে যায়। ফাকা জায়গা দিয়ে গরুর প্রসাব ও গাসলের পানি কাদা তৈরি হয়।
২। ঢালাইঃ সিমেন্ট মশলা দিয়ে একেবারে ঢালাই দেওয়া হয়। ভালভাবে না দিলে এখানেও কদিন পর পর ঢালাই উঠে যায়।
ঢালাইতে পিছলে গরু পরে যাবার সম্ভাবনা থাকে। তাই সাবধান থাকতে হবে।
খামারে ঘরের মেঝে ঢালু দিতে হবে যাতে গোবর ময়লা সহজেই ড্রেনে চলে যায়। মাঝের রাস্তার স্লোপ বা ঢালু মাঝখান থেকে দুই দিকে যাবে। এতে পানি দু দিকে চলে যাবে। মেঝের ঢাল সামনে থেকে ড্রেনের দিকে গাভীর ক্ষেত্রে প্রতি ফিট এর জন্য ০.২৫ ইঞ্চি এবং ষাড় গরুর জন্য ০.৫০ ইঞ্চি করে দিতে হবে। ফলে ৮ ইঞ্চির জন্য গাভির ক্ষেত্রে ২-৩ ইঞ্চি এবং ষাড় গরুর ক্ষেত্রে ৪-৫ ইঞ্চি ঢাল দিতে হবে।
গাভির চেয়ে ষাড় গরুতে ঢাল বেশি দেবার যুক্তি হিসেবে বলা হয় যে পেছনে বেশি ঢালু থাকলে পেছনে মাংস তারাতারি বাড়ে। কিন্তু এটি সাইন্টিফিক কিনা জানি না।
গরুর খাবার ও পানির হাউস ( চারি )
অনেকে ভাবেন খাবার হাউস যত উচু হবে তত ভালো, গরু সহজে খেতে পারবে। ব্যাপারটাকে তারা অনেকটা ডাইনিং টেবিলের মত বানিয়ে ফেলেছেন। মানুষের যেমন ডাইনিং টেবিলে খেতে সুবিধা হয়, গরুর ক্ষেত্রেও তেমনটা ভাবা হচ্ছে।
কেন ডাইনিং টেবিল নয় ?
গরু স্বাভাবিক ভাবে মাঠে নিচে থেকে ঘাস খায়। এটাই তার স্বভাব। তাই খাবার জায়গা উচা করে দেওয়া অর্থ তার স্বভাবের বিরুদ্ধে কাজ করা।
এছাড়া মুখ নিচের দিকে থাকার কারনে মুখ দিয়ে যথেস্ট লালা আসে যা খাবারের হজমে সহায়ক। অথচ খাবার স্থান উচা করে দিলে যথেস্ট পরিমান লালা আসে না।
আলাদা খাবার ও পানির পাত্র করতে ব্যাপক পরিমান খরচ হয়, অথচ এই খরচের কোন প্রয়োজন ছিল না।
তাই গরুর সামনে সামান্য উচু দেওয়াল করে লোহার পাইপ বা বাশ টেনে দিতে হবে (নিচের ছবির মত)। এর সামনে ফ্লোরেই খাবার রাখতে হবে। পানি আলাদা একটি পাত্র বা কাটা ড্রামে দেওয়া যেতে পারে কিংবা জায়গা থাকলে পানির জন্য আলাদা লাইন করতে হবে।
কিন্তু কিছু পুরোনো গরুর খামার ভিসিট করলে অনেকের মনে নিচের প্রশ্নগুলো আসবে ?
পুরোনো খামারে তো খাবার হাউজ উচু করে দেওয়া আছে। তাদের তো লস হচ্ছে না।
পাত্র উচু করে দেওয়ার জন্য গরু খাচ্ছে না বা অসুস্থ হয়েছে এমন তো কোন প্রমান নেই।
এভাবে ফ্লোরে খাবার দিলে খাবার নস্ট হয়।
হ্যা, পুরোনো পদ্ধতিতে খাবার দিলে আপনার লস হবে তা নয়, কারন গরু তো এর জন্য খাওয়া বন্ধ রাখবে না। তবে
এটি গরুর জন্য আরামদায়ক বা স্বাভাবিক হবে না।
হাউজ উচু করতে অতিরিক্ত খরচ হবে।
প্রযুক্তি সর্বদাই পরিবর্তন হয়। টিকে থাকে তারাই যারা প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারে।
আর ফ্লোরে খাবার নস্ট দূর করার জন্য উপরের ব্যাপারটিকে ঠিক রেখেই আমরা একটি ব্যবস্থা নিতে পারি। সেটা হল খাবারের হাউস বানানো হবে কিন্ত তার গভীরতা হবে একেবারে ফ্লোরের কাছাকাছি, উচ্চতা গরুর সামনে ১২ ইঞ্চি এবং বাইরের দিকে ১৮ ইঞ্চি।
প্রাচীর থেকে নালা দিকে খাবার ও পানির হাউজের জন্য ২.৫ ফিট। প্রতি গরুর জন্য সামনে ৪ ফিট। সুতরাং দুই গরু তে ৮ ফিট। তাহলে মাঝে একটা ২ ফিট পানির হাউজ বানিয়ে বাকি ৬ ফিট অর্থাৎ ৩ ফিট করে প্রতি গরুতে একটা খাবার হাউজ হবে। পানির হাউজ একত্রে বানাবার কারনে জায়গা কম লাগবে, ওদিকে খাবার হাউজে বেশি জায়গা দেওয়া যাবে। এছাড়া আলাদা ভাবে বানালে ৪ ফিটের মধ্যে খাবার হাউজে ২.৫ ফিট এবং পানির হাউজে ১.৫ ফিট করে নিতে হবে। আলাদা রাখার সুবিধা হল এক গরুর রোগ হলে পাশের গরু সহজে সেই রোগে আক্রান্ত হবে না। এছাড়া বোঝা যাবে কোন গরুটি কেমন পানি খাচ্ছে।
ঘরের চাল কেমন হবে ?
কয়েক ধরনের আছে। যেমন –
১। ঢালাইঃ খরচ বেশি, কিন্তু গরমে তাপ নিয়ন্ত্রনে থাকে। গরুর প্রধান সমস্যা হয় গরমে, শীতে না।
২। টিনের চালঃ খরচ কম, কিন্তু গরম বেশি কিন্তু শীতে ঘর অনেক ঠান্ডা থাকে। এক্ষেত্রে গরম কমাতে চালের নিচে ইন্সুলেসন দেওয়া যেতে পারে।
৩। প্লাস্টিকের চাল = মরিচা ধরে না, রোদের তাপে গরম হয় না, দিনের বেলা আলো পৌছায়।
শেডের চারপাসে ওয়াল কিভাবে দিতে হবে ?
ওয়াল ২.৫ ফুট সবচেয়ে ভালো। তবে চোরের ভয় থাকলে ৩ ফুট পর্যন্ত করে এর উপরে জানালাসহ টিন দেওয়া যেতে পারে। তবে সবচেয়ে ভালো হয় নেট দিয়ে ঘিরে দিলে। অনেকে ভাবেন শীতে ঠান্ডা লাগবে। কিন্তু আমাদের দেশে গরুর জন্য শীত নয়, প্রধান সমস্যা হয় গরমে।
গরুগুলোকে কি পাইপ /বাশ দিয়ে আলাদা করে দিতে হবে ?
সেডে গরুগুলোকে পাইপ বা বাশ দিয়ে আলাদা করে দিলে এক গরু অন্য গরুর দিকে পায়খানা করতে পারবে না, পেছনের দিকে করবে, ফলে পরিস্কারের সময় সুবিধা হবে। কিন্তু পায়খানা করবে সে গরু বসলে সেটির অপর বসবে, আর গাভি হলে টিট দিয়ে জীবাণু ঢুকে যাবে।
ড্রেনের মাপ কেমন হবে ?
প্রসাব ও গোবর যাবার ড্রেনের জন্য – ড্রেন ০.৫ থেকে ১.৫ ফিট লম্বা এবং ১ থেকে ২.৫ ফিট গভীর হতে হবে। তবে ড্রেনের ওপর খোলা থাকলে গভীরতা যাতে বেশি না হয় সে দিকে লক্ষ রাখতে হবে। গরুর পা পড়ে এক্সিডেন্ট হবার সম্ভাবন রয়েছে।
শেড কি পূর্ব পশ্চিম নাকি উত্তর দক্ষিন ?
পূর্ব – পশ্চিমে শেড করার ব্যাপারটি পোল্ট্রিতে যত গুরুত্বপূর্ণ, গরুর খামারের ক্ষেত্রে তত নয়। কারন পোল্ট্রিতে এমোনিয়া গ্যাস জমলে অনেক রোগের সৃষ্টি হয়ে মুরগি মারা যায়, যেমন, ঠান্ডা বিশেষ করে মাইকোপ্লাসমা দ্বারা এবং পরবর্তীতে ঠান্ডার কারনে আরো অনেক রোগের আগমন। কিন্তু গরুর ক্ষেত্রে প্রোডাকসনে প্রবলেম নিয়ে আসে তা নয়। তবে চেস্টা করতে হবে পূর্ব পশ্চিমে করার।
শীতকালে আমাদের দেশে বায়ু সাধারণত উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হয়ে থাকে। অন্যদিকে গ্রীষ্মকালে ভূ-পৃষ্ঠের প্রচন্ড উত্তাপে ভারতের পশ্চিম-কেন্দ্রভাগ জুড়ে একটি নিম্নচাপ কেন্দ্রের সৃষ্টি হয়। ফলশ্রুতিতে বঙ্গোপসাগর থেকে একটি উষ্ণ ও আর্দ্র বায়ুস্রোত বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে উল্লিখিত নিম্নচাপের দিকে প্রবাহিত হয়। কাজেই সেড পূর্ব পশ্চিম বরাবর লম্বা করলে সহজেই বাতাস চলাচল করতে পারবে।
আরো একটি সুবিধা হল যে সূর্যের আলো তখন গরুর পেছনে অর্থাৎ প্রসাব ও গোবরের ওপর পরে, ফলে ন্যাচারালি কিছুটা জীবানুমুক্ত হয়। কিন্তু সেড উত্তর দক্ষিনে লম্বা করলে সূর্যের আলো সরাসরি গরুর মুখে পড়বে।

26/08/2024

গাভীর খামার ব্যবস্থাপনায় যে বিষয়গুলো গুরুত্ব দিতে হবেঃ
গাভী পালনে খামার ব্যবস্থায় যেসব বিষয় গুরুত্ব দিতে হয় সেগুলো নিয়ে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হল-
খামারের গাভীর জাত নির্বাচনঃ
খামার স্থাপনে অধিক উৎপাদনশীল জাতের গাভী প্রধান ভুমিকা পালন করে। আমাদের দেশে বিভিন্ন জাতের গাভী খামারে লালন পালন করতে দেখা এগুলোর মধ্যে হলস্টিন ফ্রিজিয়ান ক্রস, শাহীওয়াল ক্রস ও জার্সি ক্রস জাতের গাভী দ্বারা খামার স্থাপন করা লাভজনক। এ সকল গাভী অধিক দুধ উৎপাদন করে থাকে।
খামারের স্থান নির্বাচনঃ
খামারের ১০টি গরুর জন্য ৩০০ বর্গ ফুট জায়গার প্রয়োজন হবে। গরুর ঘর থেকে ২০ থেকে ২৫ ফুট দূরে একটি ছোট ডোবা থাকবে যাতে সেখানে গরুর মল-মূত্র ফেলা যায়। এছাড়াও মল মুত্র থেকে জৈব সার ও বায়ো গ্যাস উৎপাদনের জন্য বায়ো গ্যাস প্লান্ট স্থাপন করে খামারের বর্জ ব্যবস্থাপনা করা যায়।
গাভীর শেড নির্মাণঃ
খামারে প্রয়োজনীয় সংখ্যক গাভীর জন্য শেড নির্মান করতে হবে। গাভীর শেড পূর্ব – পশ্চিমে লম্বা হলে ভাল হয়। উপরে টিন অথবা ছনের ছাউনি দেওয়া যেতে পারে। শেডের নিকটস্থ গাছ ও ডালপালা কেটে ফেলে পর্যাপ্ত আলো বাতাসের ব্যবস্থা করতে হবে। শেডে পানীয় জলের সরবরাহ ও পয়ঃ নিস্কাশনের ব্যাবস্থা থাকতে হবে।
গাভীর খাদ্যঃ
কাঁচা ঘাস গবাদিপশুর প্রধান খাদ্য। এ ছাড়াও চালের কুড়া, গমের ভুষি, খেসারি ভুষি, ভুট্টা ভাঙ্গা, মুশুর, মুগ, মটরের ভুষি তিলের খৈল, তিষির খৈল, ধানের খড়, ভুট্টার খড় ইত্যাদি গাভীর খাদ্য হিসাবে ব্যাবহার করা হয়। এছাড়াও গাভীকে আঁশ ও দানাদার খাদ্য প্রদান করতে হবে।

26/08/2024

ডেইরি খামার গড়ার মাধ্যমে ব্যবসা করার কৌশলঃ
ডেইরী খামার গড়ার মাধ্যমে ব্যবসা করতে হলে কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করতে হয়। চলুন জেনে নেই ডেইরি খামার গড়ার মাধ্যমে ব্যবসা করতে হলে যে সকল ধাপ অনুসরণ করতে হয় সে সম্পর্কে-
গাভীর জাত নির্ণয়ঃ
উন্নত জাত দিয়েই বাণিজ্যিক ভাবে ডেইরী ব্যবসা শুরু করতে হবে। তাই এই বিশেষ জাত নির্বাচন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেকে দেশী জাতের গাভী দিয়ে ব্যবসা শুরু করে যার ফলে আশানুরূপ ফল পাওয়া যায় না। তবে ব্রাউন সুইস জাতের গরু আমাদের দেশের জন্য সব থেকে ভাল। ব্রাউন সুইস জাতের গরু নির্বাচনের কারণ নিচে দেওয়া হল-
১। ব্রাউন সুইস জাতের গরু থেকে প্রতিদিন ১৯ থেকে ২৫ কেজি পর্যন্ত দুধ পাওয়া যায়।
২। এই জাতের দুধে ফ্যাটের পরিমাণ ৩.৭-৪.৩% ও প্রোটিন ৩.৩% প্রায়।
৩। এরা খুব শান্ত এবং সহজেই উত্তেজিত হয় না। যা একজন ডেইরী খামারির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
৪। এই ব্রাউন সুইস জাতের গরু দেখতে বেশ বড় হয়। যখন এদের বাচ্চা বড় হলে বিক্রি করবেন তখন অন্য জাতের থেকে বেশী লাভবান হবেন।
গাভী পালনের সঠিক পরিকল্পনাঃ
যে কোন ব্যবসা শুরু করার আগে চাই পরিকল্পনা। ঠিক তেমনি ডেইরী ফার্মের ব্যবসা শুরু করার জন্য লিখিত ব্যবসা পরিকল্পনা বানাতে হবে। আমাদের মধ্যে অনেকেই মুখে মুখে পরিকল্পনা করে যা বাস্তব সম্মত হয় না। তাই যাই করতে চাচ্ছেন সব কিছু হতে হবে লিখিত।
খামারের স্থান নির্বাচনঃ
একটি সঠিক জায়গা নির্বাচন ব্যবসাকে অনেক খানি এগিয়ে দিবে। খোলা, উঁচু,সূর্যের আলো পরে, সঠিক ভাবে বাতাস প্রবাহিত হয় এমন স্থান নির্বাচন করতে হবে। বসত বাড়ী থেকে একটু দূরে গরুর খামার করা যেতে পারে। এমন একটি জায়গা বেছে নিতে হবে যেন যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল থাকে। যাতে একটি ভ্যান গাড়ী চলাচল করতে পারে।
খামারের জন্য বিনিয়োগঃ
আপনার ব্যবসার পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে যেতে হবে। আবেগ বা ভয়ে টাকা বিনিয়োগ করবেন না। যত টাকা আপনার বাজেটে আছে তার তিন ভাগের এক ভাগ আলাদা করে রেখে দিন, এক ভাগ নিয়ে গাভী কিনুন, বাকী একভাগ দিয়ে খাবার। (ধরে নিলাম আপনার ঘর বানানো আছে)
স্থানীয় দুধের বাজারঃ
কে আপনার খামারের গ্রাহক হবেন, সরাসরি কোন কোম্পানির কাছে বিক্রি করবেন কিনা তা জেনে নিন। ডেইরী ফার্মের ব্যবসা শুরুর আগের বিক্রি নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে। এই ক্ষেত্রে যদি কোন কোম্পনির কাছে সব দুধ প্রতিদিন চুক্তির ভিত্তিতে বিক্রি করতে পারেন তা আপনার জন্য লাভজনক হবে। যদিও বাজার দরের থেকে কিছু টাকা কম পাবেন, এরপরও তা ভাল।
দক্ষ জনবলঃ
ডেইরী ফার্মের ব্যবসা অনেক সহজ আবার কঠিনও বটে। কিন্তু আপনি ও আপনার লোকবলের প্রশিক্ষন করা থাকলে কাজটি অনেক সহজ হবে। গাভীর বিশেষ সময়ে এই প্রশিক্ষন অনেক কাজে আসবে।

 #কৃত্রিম_প্রজনন গরুর জাত উন্নয়নে কৃত্রিম প্রজননের গুরুত্ব, সমস্যা ও প্রতিকারকৃত্রিম প্রজনন বিশ্বব্যাপী সর্বজন স্বীকৃত গ...
26/08/2024

#কৃত্রিম_প্রজনন
গরুর জাত উন্নয়নে কৃত্রিম প্রজননের গুরুত্ব, সমস্যা ও প্রতিকার
কৃত্রিম প্রজনন বিশ্বব্যাপী সর্বজন স্বীকৃত গবাদিপশুর জাত উন্নয়নের প্রধান ব্যবস্থা। কৃত্রিম প্রজনন আর কিছুই নয়, উন্নত জাতের ষাঁড় হতে বিশেষ উপায়ে বীজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হয় এবং সময়মত সংরক্ষিত বীজ দ্বারা গরম হওয়া বকনা বা গাভীর জরায়ুতে কৃত্রিম উপায়ে প্রজনন করানো। বাংলাদেশও কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতিতে পিছিয়ে নেই। বাংলাদেশে ১৯৫৮ সালে কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতি প্রবর্তন হয়। তবে তখন এ কার্যক্রম ছিল অত্যন্ত সীমিত। এর পর ১৯৭৫-৭৬ সালে কৃত্রিম প্রজনন সম্প্রসারণ প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যাপক কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৭৮ সালে জার্মান কারিগরী সহায়তায় ঢাকার অদূরে কেন্দ্রীয় গো প্রজনন স্টেশন সাভারে চালু করার মাধ্যমে শুরু হয় দেশের সর্ববৃহৎ কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম। কোনো একটি জাত সৃষ্টি, দ্রুত সংখ্যা বৃদ্ধি, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও জাত উন্নয়নের জন্য কৃত্রিম প্রজনন পৃথিবীব্যাপী একটি বহুল ব্যবহৃত ও প্রচলিত পদ্ধতি।
কৃত্রিম প্রজননের প্রয়োজনীয়তা
বাংলাদেশে জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধির ফলে দিন দিন কৃষি জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। ফলে কৃষি প্রধান দেশের কৃষকের জমির পরিমাণ প্রতি বছর ১% হারে কমে আসছে। কৃষির সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য বিভাগে নতুন নতুন প্রযুুক্তির মাধ্যমে মানুষ কার্য নির্বাহ করছে। এসব প্রযুক্তির মধ্যে দ্গ্ধুবতী গাভী পালন অন্যতম। কারণ এ প্রযুক্তি অনেকের কাছে পরিচিত এবং অতি পুরাতন। বাংলাদেশে প্রাণিজ প্রোটিনের ব্যাপক ঘাটতির কারণে এ দেশের শতকরা ৮০%-এর অধিক মানুষ অপুষ্টিতে ভুগছে। আমাদের দেশে গবাদিপশুর সংখ্যা কম নয় যা আছে তার স্থান বিশ্বে ১১তম এবং এশিয়ার দেশের মধ্যে ৪র্থ স্থান অধিকার করে আছে। সংখ্যার দিক থেকে অনেক বেশি হলেও উন্নত জাতের গরুর সংখ্যা খুব কম। ৮০ ভাগের বেশি গরু দেশীয় যার উৎপাদন ক্ষমতা খুবই কম। আমাদের দেশের যে সব গবাদিপশু আছে তার থেকে দুগ্ধ ও মাংসের ঘাটতি যথাক্রমে ৮২% ও ৮৩%। প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ দুধের ঘাটতি পূরণের জন্য সরকার গুঁড়ো দুধ ও দুগ্ধজাত দ্রব্যাদি আমদানি করার জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে তা বিদেশ থেকে আমদানি করেন। এতে করে সরকারের অনেক বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়। অপর দিকে এসব বিদেশী দুধে ভেজাল মেশানোর ফলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই দেশে ব্যাপকহারে ব্যাণিজ্যিক ডেইরী খামার শুরু করা প্রয়োজন এবং তা করতে হলে উন্নত জাতের গরুর প্রয়োজন। এটি করতে হলে কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতিই এক মাত্র মাধ্যম যার দ্বারা দ্রুত এদেশের গরুর জাত উন্নয়ন করা সম্ভব।
কৃত্রিম প্রজননের গুরুত্ব
বর্তমানে সারা বিশ্বে গবাদিপশুর জাত উন্নয়নের জন্য যেসব পদ্ধতি আছে তার মধ্যে কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতি বহুলভাবে প্রচলিত। গবাদিপশুর জাত উন্নয়ন ছাড়া তার উৎপাদন বৃদ্ধি ও গুণগতমান পরিবর্তন করা সম্ভব হয় না। বংশগত কারণে গাভী নির্দিষ্ট মাত্রায় দুধ উৎপাদন করে । শুধুমাত্র খাদ্য ব্যবস্থা উন্নয়নের মাধ্যমে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করা সম্ভব হয় না। বেশি উৎপাদশীল জাতের ষাঁড়ের বীজ সংগ্রহ করে গাভীকে প্রজনন করা হলে উন্নত গুণাবলী তার বাচ্চার দেহে সঞ্চারিত হয়। উন্নত দেশ থেকে ষাঁড়ের পরিবর্তে উন্নত জাতের ষাঁড়ের বীজ সংগ্রহ করে এদেশে গবাদিপশুর জাত উন্নয়ন করার একমাত্র মাধ্যম কৃত্রিম প্রজনন। বর্তমানে আমদের দেশেও এ পদ্ধতি চালু আছে। গৃহপালিত পশুর ওপর মানুষের নির্ভরশীলতার ইতিহাস অতি প্রাচীন হলেও পশুর জাত উন্নয়ন ও উৎপাদনশীলতার ইতিহাস খুব প্রাচীন নয়। সর্ব প্রথম আরব দেশে ঘোড়ায় কৃত্রিম প্রজননের সূত্রপাত হয়। ইটালীর একজন বিজ্ঞানী ল্যাজানো স্প্যালানজানী সফল কৃত্রিম প্রজননের আবিস্কারক। এ দেশে গাভীর জাত উন্নয়নের জন্য ১৯৩৬ সালে বৃটিশ ভারতের ভাইসরয় লর্ড লিনলিথগো উত্তর পশ্চিম ভারতীয় অঞ্চল থেকে কিছু হারিয়ানা ষাঁড় সংগ্রহ করে পাবনা, সিরাজগঞ্জ, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, রাজবাড়ী, ঢাকা অঞ্চলে কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করেছিলেন। ত্রিশের দশকে সিলেটের টিলাগড় এবং তেজগাঁয়ে শাহিওয়াল, সিন্ধি ও থারপারকার জাতের গাভী ও ষাঁড় দ্বারা ২টি দুগ্ধ খামার স্থাপিত হয়। তখন থেকেই বাংলাদেশে গবাদিপশুর জাত উন্নয়নের সূচনা হয়। বাংলাদেশে ১৯৫৮ সালে ৩টি উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে কৃত্রিম প্রজনন কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়ঃ
* উন্নত মানের যাঁড়ের পরিপূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ।
* যৌন রোগের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ।
* সহজ উপায়ে গবাদিপশুর জাত উন্নয়ন করা ।
কৃত্রিম প্রজননের সুবিধা
* একটি ষাঁড় থেকে একবার সংগৃহীত বীজ দ্বারা ২০০-৬০০টি গাভীকে প্রজনন করানো যায়। ফলে ষাঁড়ের ব্যবহারযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়। একটি ষাঁড়ের সারা জীবনের সংগৃহীত বীজ দ্বারা এক লক্ষ থেকে দেড় লক্ষ গাভীকে প্রজনন করানো সম্ভব।
* অত্যন্ত দক্ষতার সাথে উন্নত জাতের ষাঁড় নির্বাচন করা যায়।
* উন্নত জাতের ষাঁড়ের বীজ দ্বারা অতি দ্রুত এবং ব্যাপকভিত্তিতে উন্নত জাতের গবাদিপশু উৎপাদন করা সম্ভব।
* এ পদ্ধতিতে শুক্রাণুর গুণাগুণ পরীক্ষা করা হয়।
* নির্বাচিত ষাঁড়ের বীজ দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় এবং প্রয়োজনমত যে কোনো সময় ব্যবহার করা যায়।
* ভিন্ন ভিন্ন জাতের গবাদিপশুর মধ্যে প্রজনন ঘটিয়ে সংকর জাত সৃষ্টি করা যায়।
* প্রয়োজন হলে বিদেশ থেকে উন্নত জাতের ষাঁড়ের পরিবর্তে অল্প খরচে ষাঁড়ের বীজ আমদানি করা যায়।
* অনুন্নত ষাঁড় এবং অপ্রয়োজনীয় ষাঁড় বাতিল করতে সুবিধা হয়।
* ষাঁড়ের জন্মগত ও বংশগত রোগ বিস্তার প্রতিরোধ করা য়ায়।
* প্রজনন কাজে ব্যবহারের জন্য বাড়তি ষাঁড় পালনের প্রয়োজন হয় না।
* যে কোনো সময় যে কোনো স্থানে কৃত্রিম প্রজনন করা যায়।
* কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতিতে কম খরচে অনেক বেশি গাভীকে পাল দেয়া যায়।
* যৌন রোগের সংক্রমণ রোধ করা যায়। প্রাকৃতিক উপায়ে প্রজননের সময় বিভিন্ন যৌন রোগ যেমন- ব্রুসেলোসিস, ভিব্রিওসিস, ট্রাইকোমনিয়াসিস, ইত্যাদি মারাত্মক রোগসমূহ ষাঁড়ের মাধ্যমে আক্রান্ত গাভী থেকে অন্যান্য গাভীর মধ্যে সংক্রামিত হতে পারে।
* গাভীর জন্মগত ত্রুটি কিংবা রোগ-ব্যাধি থাকলে তা নির্ণয় করা সম্ভব ও সহজ হয়।
* প্রজনন ক্রিয়ায় অক্ষম ষাঁড় থেকে বীজ সংগ্রহ করে তা ব্যবহার করা যায়।
* ষাঁড় ও গাভীর দৈহিক অসামঞ্জস্যতার কারণে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে প্রজননের সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।
* যে সমস্ত গাভী ষাঁড়কে ওপরে উঠতে দেয়া পছন্দ করে না সে সমস্ত গাভীকে কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতিতে পাল দেয়া যায়।
* উন্নত পালন পদ্ধতি অনুসরণ করে সঠিক পরিসংখ্যান রাখা যায়।
কৃত্রিম প্রজননের সীমাবদ্ধতা
=> সুষ্ঠুভাবে প্রজনন করানো, বীজ সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও ব্যবহারের জন্য দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজন হয়।
=> গাভীর উত্তেজনা কাল সুষ্ঠুভাবে নির্ণয় করতে হয়।
=> প্রজননের জন্য রক্ষিত ষাঁড়ের বিশেষ পরিচর্যার প্রয়োজন হয়।
=> ষাঁড় যাতে যে কোনো ধরনের যৌন রোগ থেকে মুক্ত থাকে সে দিকে বিশেষ নজর রাখতে হয়।
=> গর্ভবতী গাভীকে ভুলক্রমে জরায়ুর গভীরে প্রজনন করালে গর্ভপাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
=> কৃত্রিম প্রজননের জন্য ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির মূল্য তুলনামূলকভাবে বেশি।
=> কৃত্রিম প্রজনন কাজের সহায়ক গবেষণাগারের প্রয়োজন হয়।
কৃত্রিম প্রজননের নিয়মাবলী
=> ডাকে আসা বা গরম হওয়া গাভী/বকনাকে ট্রাবিস বা খাঁচার মধ্যে আবদ্ধ করতে হবে।
=> গাভী/বকনার যোনীদ্বার ও পার্শ্ববর্তী স্থান পরিষ্কার করতে হয়।
=> হাতে হ্যান্ড গ্লাভস্ পরতে হবে।
=> গ্লাভস পরা হাত গাভীর মলদ্বারের ভেতর প্রবেশ করাতে হবে।
=> মলদ্বারে হাত ঢুকিয়ে যোনীপথ ও জরায়ুগ্রীবা খোলা কিনা সনাক্ত করতে হবে।
=> যোনীপথের ওপরের দেয়াল বরাবর অন্য হাত দ্বারা “এআই গান” প্রজনন অঙ্গে প্রবেশ করাতে হবে। যোনীপথের নীচেই মূত্রনালীর মুখ দিয়ে যেন এআই গান না ঢুকে সেদিকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
=> মলদ্বারে প্রবিষ্ট হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল জরায়ুগ্রীবা বা সার্ভিক্সের মুখে রাখতে হয় এবং এই গানসহ অন্য হাত জরায়ু গ্রীবার খোলা মুখ দিকে ঢুকাতে হয়। এআই গান জরায়ু গ্রীবার (সার্ভিক্সের) মধ্যে সহজভাবে প্রবেশ করলে বুঝতে হবে তৃতীয় রিং পার হয়েছে। এ সময়ে এআই গান পেছনে টেনে তৃতীয় রিংয়ের মাথায় স্থাপন করতে হয়। এরপর আস্তে আস্তে পিস্টনে চাপ দিয়ে বীজ তৃতীয় রিংয়ের ভেতর প্রবেশ করাতে হয়।
* কোনো ক্রমেই পিস্টনে জোরে চাপ প্রয়োগ করা উচিত নয়।
* জরায়ু শিং এ বা খুব গভীবে প্রবেশ করানো হলে গর্ভধারণের হার কমে যায়।
* বীজ প্রবেশ করানোর পর পিস্টনের ওপর চাপ রেখে এআই গান বের করে আনতে হবে।
* এআই গান থেকে এআই সীথ আলাদা করতে হবে এবং সিমেন স্ট্র বের করে ফেলতে হবে।
* স্ট্র বের করার পর স্ট্র-এর গায়ে লেখা তথ্যাবলী এআই কার্ডে লিখতে হবে এবং সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে।
* পুনরায় প্রজনন করার পূর্বে এআই গান ও হ্যান্ড গ্ল­াভস্ পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করে নিতে হবে।
কৃত্রিম প্রজনন ফলপ্রসূ না হওয়ার কারণ
দ্রুত জাত উন্নয়নে কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতির বিকল্প নেই। ভালো জাতের বাছুর পাওয়ার বাসনা থেকেই কৃষক/খামারীদের মাঝে কৃত্রিম প্রজনন এতো জনপ্রিয়তা পেয়েছে এবং মাঠপর্যায়ে এটা সম্প্রসারিত হয়েছে। তবে কৃত্রিম প্রজননের ক্ষেত্রে একই বকনা / গাভীকে বার বার প্রজনন করানোর মতো সমস্যাও হয়। দেখা গেছে, কৃত্রিম প্রজননের চেয়ে প্রাকৃতিক প্রজননের ক্ষেত্রে পুনরায় প্রজনন করার হার কম এবং গর্ভধারণের হারও বেশি। বর্তমানে মাঠপর্যায়ে কৃষক / খামারীগণ এক বা দু’বার কৃত্রিম প্রজননে ভালো ফল না পেয়ে প্রাকৃতিক প্রজনন করে সফল হচ্ছেন। ফলে আমাদের দেশের গবাদিপশুর জাত উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কৃত্রিম প্রজননে অনেক সময় গর্ভধারণের হার কম হওয়ার কারণসমূহ নিম্নে সংক্ষেপে আলোচনা করা করা হলো।
প্রধানত ৫ টি কারণে গাভী গর্ভধারণ করে না। সেগুলো হলঃ
১। বীজের গুণাবলী (Semen quality)ঃ বীজ ভালো না হলে যেমন ক্ষেতে ফসল ভালো হয় না তেমনি বীজ ভালো না হলে বাচ্চা উৎপাদনের হারও তেমন ভালো হয় না।
* মৃত শুক্রাণুযুক্ত বীজ ব্যবহার।
* দুর্বল শুক্রাণুযুক্ত বীজ ব্যবহার।
* স্ট্র বা বীজ ভায়ালের মধ্যে প্রয়োজনের তুলনায় শুক্রাণুর সংখ্যা কম থাকা।
* বীজের পরিমাণ কম দেয়া।
* অনুর্বর ষাঁড়ের বীজ ব্যবহার।
* বীজ পরীক্ষা না করে ব্যবহার।
* জীবাণু দ্বারা শুক্রাণু সংক্রামিত হওয়া।
* বীজের গুণগতমান সঠিক না থাকা।
২। সিমেন স্ট্র/ ভায়াল
* ত্রুটিপূর্র্ণভাবে স্ট্র বা ভায়াল পরিবহন।
* ত্রুটিপূর্ণভাবে স্ট্র / ভায়াল সংরক্ষণ
* ক্রটিপূর্ণভাবে সিমেন ক্যান থেকে স্ট্র বের করা।
* সিমেন ক্যানে লিকুইড নাইট্রোজেনের পরিমাণ কমে যাওয়া।
* সিমেন ক্যানের ঢাকনির সাথে সংলগ্ন­ লাল সিলের ত্রুটি।
* হিমায়িত বীজ ত্রুটিপূর্ণ পদ্ধতিতে গলানো (thawing)।
* তরল বীজ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ফ্রিজে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ না থাকা।
৩। প্রজননকারী প্রজননকারীর অনভিজ্ঞতা।
* ত্রুটিপূর্ণ ও অদক্ষভাবে প্রজনন করা।
* প্রজনন অঙ্গের ভেতর ভুল স্থানে শুক্রাণু স্থাপন।
* গাভীর ইস্ট্রাস বিষয়ে ভুল ধারণা।
* প্রজননের পর গাভীকে বিশ্রাম না দেয়া।
৪। গাভী
=> গাভী সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়া।
=> যৌন রোগে আক্রান্ত হওয়া।
=> জননাঙ্গে যে কোনো প্রকারের প্রদাহ থাকা।
=> অনিয়মিত ঋতুচক্র।
=> পুনঃপুনঃ গরম হওয়া ও গরম হওয়ার ভ্রান্ত লক্ষণ প্রকাশ পাওয়া।
=> হরমোন নিঃসরণের অভাব।
=> হরমোন নিঃসরণে ভারসাম্যহীনতা।
=> অপ্রকাশিত/নীরব ইস্ট্রাস (গরম হওয়া)।
=> অধিক বয়স।
=> পুষ্টির অভাব।
৫। প্রজননের সময় বকনা / গাভী ডাকে আসার ১২-১৮ ঘন্টার মধ্যে প্রজনন না করা।
=> ত্রুটিপূর্ণ গরমের লক্ষণ চিহ্নিত করা।
=> প্রজনন ব্যবস্থাপনা পালন না করা।
=> সকালে গরম হলে সকালেই প্রজনন করানো।
=> বিকালে গরম হলে ওই দিন বিকালেই প্রজনন করানো।
=> প্রজননের জন্য উপযুক্ত সময় না মানা।
বর্ণিত ৫টি কারণে বকনা বা গাভী গরম হওয়ার পর প্রজনন করালেও গর্ভধারণে ব্যর্থ হয়। এছাড়া আরো অনেক কারণ আছে যে কারণে কৃত্রিম প্রজনন ফলপ্রসু হয় না। তবে বীজের গুণাবলী, সিমেন স্ট্র বা ভায়াল, প্রজননকারী ও গাভীর যেসব ত্রুটির কথা বলা হয়েছে তা যথাযথভাবে সমাধান করা হলে গর্ভধারণের হার বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। কারণ হলো-শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর যৌথ মিলনে জাইগোট তৈরি হয় যা হয়ে থাকে স্ত্রী প্রজননতন্ত্রের ফেলোপিয়ন টিউবের ৪টি অংশের একটি নির্দিষ্ট অংশে। অর্থাৎ জাইগোট তৈরি হয় গাভীর এম্পুলা বা এম্পুলো ইস্তমাস জাংশনে। আর বকনা বা গাভীর ডিম্বাণুক্ষরণ হয় গরম হওয়ার ৮-১০ ঘন্টা পর এবং তা বেঁচে থাকে মাত্র ৮-১২ ঘন্টা। অপরপক্ষে জরায়ুর পরিবেশ ভালো থাকলে শুক্রাণু ২৪-৪৮ ঘন্টা বেঁচে থাকে। আবার ফেলোপিয়ান টিউবের নির্দিষ্ট স্থানে ডিম্বাণুর ভেতর প্রবেশ করতে শুক্রাণুর ক্যাপাসিটাইজেশন প্রয়োজন। ডিম্বাণু ও শুক্রাণু যাতে সঠিক সময়ে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছাতে পারে এ জন্য সঠিক সময়ে প্রজনন করতে হয়।
প্রতিকার
উপরোক্ত সমস্যাসমূহ প্রতিকারে যা করণীয় তা নিম্নে দেয়া হলোঃ
* বীজের গুণাগুণ আন্তর্জাতিক মানের হতে হবে। বীজের ভেতর শুক্রাণুর মটিলিটি, পরিমাণ, সংখ্যা, ইত্যাদি সঠিক হতে হবে। সে জন্য প্রজননের ষাঁড় বাঁছাই ও ছাটাই পদ্ধতি প্রজনন মানের (Estimated breeding value) ভিত্তিতে করা উচিত।
* বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবহন এবং যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ ইত্যাদি সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি করা এবং এদের মান ঠিক আছে কিনা তা প্রতিনিয়ত পরিদর্শন করা উচিত।
* তরলীকৃত বীজ পরিবহনে অসুবিধার ক্ষেত্রে তার পরিবর্তে তরল নাইট্রোজেন স্ট্র (Straw) সিমেন পদ্ধতিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যবহার করা যেতে পারে।
* কৃত্রিম প্রজনন করার দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিকে অবশ্যই প্রজনন করার পূর্বে বীজের গুণগত মান ঠিক আছে কিনা তা পরীক্ষা করে নেয়া প্রয়োজন।
* কৃত্রিম প্রজননে ভালো ফলাফল পাওয়ার জন্য স্বাস্থ্যসম্মত ব্যবস্থা অবশ্যই মেনে চলতে হবে।
* প্রজননক্ষম বকনা বা গাভী হতে হবে সকল রোগ থেকে মুক্ত এবং প্রজননতন্ত্র হতে হবে জীবাণুমুক্ত এবং ত্রুটিমুক্ত।
* হিট বা গরমের সময় সঠিকভাবে নির্ণয় করে ডাক আসার ১২-১৮ ঘন্টার মধ্যে প্রজননের ব্যবস্থা করতে হবে।
* কৃত্রিম প্রজনন এবং এর মাধ্যমে গাভীর ঊর্বরতা বৃদ্ধির অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সুবিধা প্রয়োগের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক কৃত্রিম প্রজনন সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করার জন্য প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগযোগ করা প্রয়োজন।
পরিশেষে বলা যায়, কৃত্রিম প্রজনন ব্যবস্থা আমাদের মত দেশে গাভীর জাত উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। তাই তো শহর ও শহরতলী এমনকি গ্রামাঞ্চলে চোখ মেললেই দেখা যায় দেশী গরুর পাশাপাশি সাদা-কালো গায়ে ছাপ অথবা ফিকে লাল রং এর বড় আকারের সংকর জাতের গরু। আবার কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে জাত উন্নয়নের ফলেই চোখে পড়ে মিল্কভিটা, প্রাণ, আড়ং, ফ্রেশ ডেইরীর বড় বড় কুল ভ্যান /লরী। কৃত্রিম প্রজননের কিছুটা সুফল পাওয়ার কারণে ১৬ কোটি লোকের প্রোটিনের ঘাটতি একটু একটু করে কমে আসছে এবং গড়ে উঠেছে ছোট ছোট সংকর জাতের ডেইরী খামার।
এসব খামার গড়ে ওঠার কারণে অনেক লোকের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবার ব্যবস্থা হয়েছে। যদি সরকার এ খাতে আর একটু নজর দেন তাহলে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার দুধ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হবে না। দুধ ও মাংসের চাহিদা মেটাতে পারলে জাতি মেধাসম্পন্ন হয়ে ওঠার সুযোগ পাবে এবং উন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে।

26/08/2024
26/08/2024

#গবাদিপশুর_রক্ত_প্রস্রাব (ব্যাবেসিওসিস):
কারন ও প্রতিকার
গবাদিপশুর রক্ত-প্রস্রাব বা ব্যাবেসিওসিস আঁটুলিবাহিত একটি প্রটোজোয়াজনিত রোগ। এ রোগে উৎপাদন হ্রাসের পাশাপাশি গরুর মুত্যু পর্যন্ত হতে পারে। বিশ্বব্যাপী জীবজন্তুর আঁটুলিবাহিত রোগের মধ্যে এটি অন্যতম। আমাদের মতো নাতিশীতোষ্ণ দেশে এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় করা সহজ না হওয়ায় এ রোগে ক্ষতির পরিমাণ বেশি হয়। সাধারণত গরু ও মহিষ এ রোগে আক্রান্ত হয়। এ রোগের বাহক (Ripicephalus microplus বা Boophilus microplus ও Ripicephalus annulata বা Boophilus annulata) জাতীয় বিশেষ ধরনের আঁটুলি যারা গরু মহিষের শরীরে বাস করে তাদের শরীর থেকে নিয়মিত রক্ত শোষণ করে। সর্বপ্রথম ১৮৮৯ সালে থিওবাল্ড স্মিথ আমেরিকার টেক্সাস অঞ্চলে গরুতে এ রোগ চিহ্নিত করেন । এ কারনে এ রোগের অপর নাম টেক্সাস ফিভার এবং রত্তের রোহিত কণিকা ভেঙ্গে যাওয়ায় মূএের রং লাল হওয়ায় এর অপর নাম রেড ওয়াটার ফিভার যা রত্ত প্রস্রাব নামে ও অভিহিত। এছাড়া ১৮৯৩ সালে স্মিথ ও কিলবর্ণ আঠালীর ডিম্বাশয়ের মাধ্যমে ব্যাবিসিয়া সংক্রমণ (trans ovarian transmission) আবিস্কার করেন।
এপিডেমিওলজী:
বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশেই এ রোগের প্রার্দুভাব আছে। বছরের প্রায় সব ঋতুতে এ রোগ হয়ে থাকে তবে জুলাই ও আগষ্ট মাসে পা্রর্দুভাব অধিক হয়। প্রাপ্ত বয়স্ক পশু এরোগে অধিক সংবেদনশীল। গাভী এ রোগের প্রতি অধিক সংবেদনশীল।দেশী গবাদিপশুর চেয়ে সংকর বা উন্নতজাতের গবাদিপশু এ রোগে অধিক সংবেদনশীল। যে সব এলাকায় বাহক আঁটুলির প্রকোপ খুব বেশি, সে সকল এলাকার গবাদিপশুতে ক্রমাগত সংক্রমণের ফলে কিছুটা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টি হয়। তবে জলবায়ুর পরিবর্তন বা অনিয়মিত আঁটুলিনাশক ব্যবহারে রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেতে পারে।
অর্থনৈতিক গুরুত্ব:
এ রোগে যেহেতু অধিক উৎপাদনশীল গবাদিপশুতে অধিক আক্রানত হয়, তাই অর্থনৈতিক বিবেচনায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রোগ। তাই এ রোগ নিয়ন্ত্রণ অত্যস্ত জরুরি। বাংলাদেশে বছরে এ রোগের কারণে প্রায় ১৪ লক্ষ টাকার অধিক আর্থিক ক্ষতি হয়। সাধারণত শতকরা ৩.২-৪.৯ ভাগ পশু ক্লিনিক্যাল রোগে আক্রান্ত হয় এবং ৭.৩-১৪.৫ ভাগ পশুর মৃত্যু ঘটে। আক্রান্ত পশু দীর্ঘদিন ধরে এ রোগে ভোগার পেও মাংস ও দুধ উৎপাদন হ্রাস পায়।
জীবনচক্র:
আঠালী দ্বারা সংক্রমণের ২ থেকে ৩ সপ্তাহ পর ব্যাবিসিয়া বোভিস ও ব্যাবিসিয়া বাইজেমিনা এর লক্ষণ প্রকাশ পায়। তবে সরাসরি রত্তে প্রবেশ করানো হলে ইনকিউবেশন পিরিয়ড সংক্ষিপ্ত হয় (ব্যাবিসিয়া বাইজেমিনার ক্ষেেএ ৪ থেকে ৫ দিন, ব্যাবিসিয়া বোভিস এর ক্ষেেএ ১০ থেকে ১২ দিন) আঠালী (রাইপিসেফালাস অ্যানুলেটাস) এ রোগের বাহক। আঠালীর মধ্যে এ জীবাণুর বছরের পর বছর থাকতে পারে। প্রাপ্ত বয়স্ক আঠালীর লালা গ্রঞ্ছিতে স্পোরোজয়েট থাকে। রত্ত শোষণের প্রাক্কালে এ স্পোরোজয়েট পোষকের দেহে প্রবেশ করে। পোষকের লোহিত কণিকায় প্রবেশ করে এবং সেখানে পাইরোপ্লাজমে রপান্তর ঘটে। বিভিন্ন পদ্বতিতে বংশ বিস্তার করার পর লোহিত কণিকা ভেঙ্গে নতুন লোহিত কণিকায় প্রবেশ করে। রত্ত শোষনের সময় পাইরোপ্লাজমসহ লোহিত কণিকা আঠালীর পরিপাক নালীতে প্রবেশ করে। রক্ত শোষণের সময় রোগের পরজীবী আঁটুলির শরীরে প্রবেশ করে। সেখানে এরা বহুগুণে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়। তবে এখানে এদের পূর্ণতাপ্রাপ্তি ঘটে না। এই অপূর্ণ অবস্থাকে বলা হয় Vermicule এরা আঁটুলির ডিমের মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়ে। এসব ডিম ফুটে যখন নতুন লার্ভা জন্মলাভ করে তখন এরা অন্যান্য গবাদিপশুতে আশ্রয় নেয়। সেখান থেকে রক্ত শোষণের সময় ওই পরজীবী গবাদিপশুর শরীরে প্রবেশ করে। গবাদিপশুর শরীরে এরা লোহিত রক্তকণিকার (Red Blood Cell) মধ্যে প্রবেশ করে সেগুলোকে ধ্বংস করে দেয়। এ কারণেই এদেরকে রক্ত পরজীবী বলা হয়। এছাড়া আক্রান্ত প্রাণীর রত্ত কোনভাবে যেমন বাইটিং ফ্লাই ও রোগ জীবাণুবাহী সামগ্রী (Fomites) এর মাধ্যমে সুস্থ প্রাণিতে প্রবেশ করলে বা অসুস্থ প্রাণিতে ব্যবহারের পর একই সিরিঞ্জ সুস্থ প্রাণিতে ব্যবহার করলে ও এ রোগ ছড়াতে পারে ।
সাধারণত রোগ জীবাণু প্রবেশের ২-৩ সপ্তাহ পরে আক্রানত প্রাণীর শরীরে এ রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। আক্রানত প্রাণী যদিও আরোগ্যলাভ করে, তাহলেও এদের শরীরে রোগের জীবাণু বছরের পর বছর জীবিত থাকে এবং উক্ত প্রাণী “বাহক” হিসাবে কাজ করে।
রোগের লক্ষণ :
আক্রানত প্রাণীর বয়স ও রোগজীবাণুর প্রকারভেদে এ রোগের লক্ষণ ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। সাধারণত ৯ মাস বয়স পর্যনত গরু মহিষ এ রোগে আক্রানত হয় না। এ রোগের লক্ষণগুলো হল ক্ষুধামান্দ্য ও উচ্চ তাপমাত্রা (১০৩-১০৭ ফা), পাল থেকে আলাদা থাকার প্রবণতা, ঝিমানো ভাব, হাঁটাচলা করতে না চাওয়া , শ্লৈষ্মিক ঝিল্লী (Mucous membrane) ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া ,শ্বাস-প্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দনের হার বেড়ে যাওয়া , রক্তশূন্যতা ও রক্তপ্রস্রাব দেখা দেয় . কখনও কখনও রক্তপ্রস্রাব না হয়ে জন্ডিস দেখা দেয় , পাতলা পায়খানা বা কোষ্ঠ্যকাঠিন্য হতে পারে , প্রচন্ড শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, গর্ভবতী গাভীর গর্ভপাত হওয়া , জন্ডিস ও জ্বরে আক্রান্ত বাচ্চার জন্ম হতে পারে। এ রোগে সংক্রমিত রত্তকণিকা (Erythrocytes) যদি মস্তিষ্কের রত্তজালিকায় (Capillaries) প্রবেশ করে তবে স্নায়ুজনিত সমস্যা যেমন চলাচলে অসঙ্গতি, দাঁত কড়মড় করা, তেড়ে আসা বা চলৎশক্তি হারিয়ে মাটিতে শুয়ে পড়া ইত্যাদি লক্ষণ দেখা যায়। জরায়ুতে সংক্রমণ হলে দুর্বল, পাংশু (anemic), জন্ডিস এবং পানিশূন্যতায় ভোগে এরূপ বাছুর প্রসব করে এবং খিচুনি ও অন্যান্য স্নায়ুবিক সমস্যা ও পরিলক্ষিত হয়। সুস্থ হয়ে ওঠা পশু অত্যাধিক দুর্বল হয়ে থাকে এবং যথাসময়ে চিকিৎসা না করলে আক্রান্ত প্রাণীর মৃত্যু (৪-৮ দিন) ঘটে। আক্রান্ত পশুতে উপরোক্ত সমসত লক্ষণ দেখা নাও দিতে পারে।
পোস্টমর্টেম লক্ষণ:
এ রোগে আক্রান্ত গবাদিপশুর পোস্টমর্টেম পরীক্ষায় রোগের বিষয়ে আরও নিশ্চিত হওয়া যেতে পারে। পোস্টমর্টেমে যে সকল লক্ষণ পরিলক্ষিত হয় তা হলো ঃ
১) রক্তনালীতে হিমোলাইসিস (hemolysis)
২) প্লীহা সাধারণের তুলানায় আয়তনে বেড়ে যায় এবং কাল, তুলতুলে ও ভংঙ্গুর হয়ে যায়।
৩) অন্ত্রঝিল্লী (Omentum), উদর গহ্বরের চর্বি ও চামড়ার নীচের পর্দা হলুদাভ হয়ে যাওয়া
৪) রক্ত পানির ন্যায় পাতলা হয়ে যাওয়া
৫) যকৃত আকৃতিতে বড়ো কালচে বা হলুদাভ হয়ে যাওয়া
৬) পিত্তথলিতে পিত্তরস অত্যধিক ঘন হয়ে বা দানাদার বস্তুতে পরিণত হয়।
৭) ফুসফুসে পালমোনারী ইডিমা পাওয়া যায়।
রোগ নির্ণয়:
ক্লিনিক্যাল: জ্বর, রত্তশূন্যতা, জন্ডিস ও হিমোগ্লোবিউনিউরিয়া থাকলে ব্যাবিসিসয়ার ব্যাপারে সন্দেহ করা যায়।
পার্থক্যমূলক রোগ: ব্যাবিসিয়াতে জ্বর ও হিমোলাইটিক এনিমিয়া পরিলক্ষিত হয় যার সাথে বেশ কিছু রোগের সাাদৃশ্য রয়েছে যেমন এনাপ্লাজমোসিস, থাইলেরিওসিস, ট্রাইপ্যানোসোমিয়াসিস, ব্যাসিলারি হিমোগ্লোবিনউরিয়া, লেপ্টোস্পাইরোসিস, রেপসীড বিষক্রিয়া,দীর্ঘস্থায়ী কপারজনিত বিষক্রিয়। এছাড়া জলাতঙ্ক ও অন্যান্য মস্তিস্কের প্রদাহজনিত রোগ যাতে স্নায়ুজনিত সমস্যা পরিলক্ষিত হয় ইত্যাদির সাথে এ রোগের লক্ষণের সাদৃশ্য রয়েছে।
ল্যাবরেটরি পরীক্ষা:
সঠিকভাবে রোগ নির্ণয়ের জন্য ল্যাবরেটরিতে নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করে এ রোগের ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়। তীব্র রোগের ক্ষেেএ রত্তে ও টিস্যুতে এর উপস্থিতি সনাত্ত করা যায়। ব্যাবিসিয়া জীবাণুটি রত্তের ও টিস্যুর অয়েল ইমারসন দ্বারা
বেসিসিওসিস আক্রান্ত গরুর রক্ত কনিকা
রঞ্জিত (minimum X 8 eye pieces , X60 objectve lens) অবস্থায় ধরা পড়ে। ল্যাবরেটরিতে জিমসা বা Acridine orangestaining-এর মাধ্যমে রক্ত পরীক্ষা করে এ রোগ নির্ণয় করা যায়। এ রোগের জীবাণু রত্তের লোাহিত কণিকার ভিতর অবস্থান করে এবং এখানে বিভিন্ন পর্যায়ক্রমিক ধাপ যেমন রিং ধাপ (annular), পাইরিফম ট্রফোজোয়েট একাকী অথবা জোড়বদ্ব অবস্থায় এবং ফিলামেন্টাস বা আকারবিহীন ধাপ ধারাবাহিকভাবে পরিলক্ষিত হয়। রত্তে পরজীবীর আধিক্য থাকলে ফিলামেন্টাস রুপটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। বোভাইন বোভিস এর ট্রফোজোয়েট ছোট আকৃতির হয় (সাধারণত ১ থেকে ১.৫ মাইক্রোমিটার X ০,৫ -১ মাইক্রোমিটার ) এবং লোহিত রত্তকণিকার মধ্যখানে এবং জোড়া অবস্থায় থাকে। বোভাইন ডাইভারজেন্স এর সাথে বোভাইন বোভিস এর সাদৃশ্য রয়েছে বর্তমানে পি.সি.আর. পরীক্ষার মাধ্যমে আরও সুনির্দিষ্টভাবে এ রোগ নির্ণয় করা যায়। ELISA TEST ও IFA (Indirect fluorescent test)-এর মাধ্যমে রক্তে এ রোগের এন্টিবডির উপস্থিতি নির্ণয় করা যায়। এছাড়া ক্ষেএবিশেষে Complimant fixation ও Agglutination test ও ব্যবহার করা হয়।
রক্তের লোহিত কনিকাতে গোলাকার বা ডিম্বাকার বা কমার মত জোড়াবদ্ধ সনাক্ত করনের মাধ্যমে এ রোগ নির্ণয় করা যায়।
প্রতিরোধ:
রোগের বাহক আঠালীর নিয়ন্ত্রণ করে এ রোগ প্রতিরোধ করা যায়। আমাদের দেশে যাঁরা সংকর জাতের গবাদিপশু পালন করেন, তাঁরা বিশেষত বর্ষার শুরু ও শেষে আঁটুলিনাশক ওষুধ প্রয়োগ করে ব্যাবেসিয়াসহ অন্যান্য আঁটুলিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। গবাদিপশুর স্থান পরিবর্তনে এ রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই নতুন কোনো গবাদিপশু পালে সংযোজনের পূর্বে অন্তত দুই সপ্তাহ পৃথক রেখে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। এ সময়ের মধ্যে যদি নবাগত পশু কোনো ধরনের রোগে আক্রানত না হয় তাহলে তাকে পালের অন্য গরুর সাথে রাখা যাবে। আর যদি কোনো প্রকার অসুস্থতা লক্ষ্য করা যায় তাহলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তার পর অন্য প্রাণীর সঙ্গে রাখা যেতে পারে। উর্লেখ্য যুত্তরাস্ট্রে প্রতিটি গবাদিপশুকে ২ থেকে ৩ সপ্তাহ অন্তর আঠুলীনাশক প্রয়োগ করার কারণে ১৯৪৩ সালের পর থেকে এ রোগ পরিলক্ষিত হয নি। টিকা প্রয়োগেও এ রোগ প্রতিরোধ করা যায়। তবে আমাদের দেশে এখন পর্যন্ত এ রোগের টিকা ব্যবহার শুরু হয়নি এবং দেশে পাওয়াও যায় না। এছাড়া রোগের প্রাদুর্ভাবের পূর্বে ইমিডোর্কাব ডাইপ্রোপায়োনেট প্রতি ১০০ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ২.৫ মিলি করে ইনজেকশন দিলে গবাদিপশুকে ৪ সপ্তাহ পর্যন্ত ব্যাবিসিওসিস থেকে মুত্ত রাখা যায়।
চিকিৎসা :
অসুস্থ গবাদিপশুকে প্রথম পর্যায়ে চিকিৎসা দিলে ভালো ফল পাওয়া যায়। কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত রক্তশূন্যতা বা স্নায়ুবিক উপসর্গ (দাঁড়াতে না পারা, অসংলগ্ন আচরণ ইত্যাদি) দেখা দিলে বাঁচানো কঠিন হয়ে পড়ে। রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে রক্তশূন্যতার চিকিৎসা করা যেতে পারে। কিন্তু আমাদের দেশে এখনও তা করা সম্ভব হয়নি। অ্যারোমেটিক ডায়ামিডিনস গ্রুপের ঔষধ যেমন ডিমিনাজিন ডাইএসিটুরেট (যেমন Berenil, Babcop vet) প্রতি ১০০ কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ০.৮ গ্র্মম পরিশ্রত পানিতে (৬%) মিশিয়ে মাংসপেশীর বিরুদ্বে ইনজেকশন এ রোগের বিরুদ্বে কার্যকর। এছাড়া ইমিডোর্কাব ডাইপ্রোপিয়োনেট (যেমন Babcure, Imicarp) প্রতি কেজি দৈহিক ওজনের জন্য ১.২ মিলিগ্রাম হিসাবে ত্বকের নিচে একবার ইনজেকশন বেশ র্কাযকর। ইমিডোর্কাব ডাইপ্রোপিয়োনেট রত্তের লোহিত কণিকার পৃষ্টদেশে সংযুত্ত হয়ে থাকে। ফলে ব্যাবিসিয়া জীবাণু লোহিত কণিকায় সংযুত্ত হতে পারে না। এছাড়া ইমিডোর্কাব ডাইপ্রোপিয়োনেট লোহিত রত্ত কণিকায় ইনোসিটল প্রবেশে বাধা দেয়। ইনোসিটল ব্যাবিসিয়া জীবাণুর জন্য একটি প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। ফলে জীবাণুটি পুষ্টির অভাবে মারা যায়। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে এর প্বার্শপ্রতিক্রিয়ার প্রতি কারণ ইমিডোর্কাব ডাইপ্রোপিয়োনেট এর এন্টি কোলিনস্টারেজ ক্রিয়া থাকায় তীব্র প্রকৃতির বিষক্রিযার মত লক্ষণ যেমন দূর্বলতা, অশ্রুপাত, লালাক্ষরণ, ঘাড় বেকে যাওয়া, কাপুঁনি ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। সে ক্ষেেএ এট্রপিন সালফেট (ট্রপিন ভেট) ব্যবহার করতে হবে।
সহায়ক চিকিৎসা হিসাবে রত্ত সষ্ণালন অথবা রত্তের লোহিত কণিকা সষ্ণালন করা যেতে পারে। হিমাটিনিক মিক্সার যেমন কপার সালফেট ২ গ্রাম, ফেরাস সালফেট ২ গ্রাম ও কোবাল্ট ক্লোরাইড ১০ মিগ্রা, ২৫০ মিলি পানির সাথে মিশিয়ে প্রতিদিন ১ বার করে ১০ দিন খাওয়ানো ভাল। সুনির্দিষ্ট ঔষধ পাওয়া না গেলে ৮-১৬ গ্রাম অ্যালাম বা ফিটকিরি ও একই পরিমাণ বোরিক এসিড ২৫০ মিলিলিটার পানির সাথে মিশিয়ে দিনে তিন বার করে ৩ দিন খাওয়াতে হবে।

Address

Dairy Farm Savar
Savar
1340

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when বিজ্ঞান ভিত্তিক গবাদি পশুপাখি পালন -Animal Husbandry posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category