08/06/2026
বাংলাদেশকে আমরা কৃষিভিত্তিক দেশ বলি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই দেশের সবচেয়ে অবমূল্যায়িত খাতগুলোর একটি হলো কৃষি।
কৃষক উৎপাদন করে, ঝুঁকি নেয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করে, মূলধন বিনিয়োগ করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লাভের বড় অংশ চলে যায় অন্যদের হাতে।
আমাদের নিজের প্রজেক্টের অর্গানিক মরিচের কথাই বলি।
এই মরিচ উৎপাদনে জমি, শ্রম, সার, পরিচর্যা—সবকিছু মিলিয়ে যথেষ্ট খরচ হয়েছে। অথচ বর্তমানে বাজারে যে মরিচ ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, এর অর্ধেক দাম পেলেও আমাদের পুশিয়ে যেতো৷
সেই মরিচই আমাদের কাছ থেকে কিনতে চাওয়া হচ্ছে মাত্র ২০ টাকা কেজি দরে।
ভাবুন একবার!
যে পণ্য ভোক্তা ১৬০ টাকায় কিনছে, সেই পণ্যের উৎপাদককে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ২০ টাকা।
এই দেশকে কৃষিই ঘুড়ে দাঁড়িয়ে দিতে পারত ইনশাআল্লাহ কিন্তু সেই কৃষিই ব্যবসা হিসেবে লাভজনক না !
এই দামে বিক্রি করার চেয়ে আমরা নিজেরাই মরিচ খাবো, আত্মীয়-স্বজনকে দেবো, তবুও লোকসান দিয়ে বিক্রি করবো না।
আমার কাছে কৃষি কখনোই শুধু ফসল উৎপাদনের বিষয় নয়। কৃষিকে ব্যবসা হিসেবে সফল করতে হলে চিন্তাটাও বদলাতে হবে।
আমাদের অভিজ্ঞতায় কৃষির সবচেয়ে কার্যকর ৩টি মডেল হলো—
১. নিজের পরিবারের লাইফস্টাইল ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কৃষি
২. ট্রেডিং বা সরাসরি বাজারজাতকরণের জন্য কৃষি
৩. এক্সপোর্টমুখী কৃষি
২ ও ৩ এর মাধ্যমে প্রচুর প্রফিট সম্ভব৷
শুধু উৎপাদন করে পাইকারের কাছে বিক্রি করার যুগ অনেকটাই শেষ। উৎপাদনের পাশাপাশি প্রসেসিং, ব্র্যান্ডিং, সরাসরি বিক্রয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সক্ষমতা তৈরি করতে হবে।
কারণ আমরা হয়তো আমাদের কৃষিপণ্যের মূল্য বুঝি না, কিন্তু বিশ্বের অনেক দেশ নিরাপদ, অর্গানিক ও মানসম্মত খাদ্যের জন্য কয়েকগুণ বেশি মূল্য দিতে প্রস্তুত।
বাংলাদেশের মাটি সোনা ফলায়।
সমস্যা মাটিতে নয়, সমস্যা মূল্যায়নে।
যে দিন কৃষিকে সঠিকভাবে ফাইন্যান্স, প্রসেসিং এবং এক্সপোর্টের সাথে যুক্ত করা যাবে, সে দিন কৃষক শুধু বাঁচবে না, সমৃদ্ধও হবে।
আর সেই দিন বাংলাদেশ শুধু কৃষিভিত্তিক দেশ নয়, কৃষি-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবেও পরিচিত হবে।