06/03/2017
আল্লাহ প্রদত্ত এক অসম্ভব ক্ষমতার প্রতীক।অতীত কাল থেকে শান্তির প্রতীক খ্যাত কবুতরের এই বিশেষ প্রজাতি homing pigeon বা homer pigeon বা racing homer নামে পরিচিত।
* এদের ১০০ কি.মি,৫০০ কি.মি এমনকি হাজার কিলোমিটার দূরে নিয়ে ছেড়ে দিলেও এরা শতভাগ নির্ভূল ভাবে বাড়ি ফিরে আসতে পারে।এরা ঘরে ফেরার আগ পর্যন্ত কোথাও থামেনা,একটা রেসার কবুতর গড়ে একদিনে প্রায় ৬০০ মাইল উড়ে যেতে পারে।এদের ঘরের ফিরে আসার এই বিশেষ গুনের কারনেই এরা homing pigeon নামে পরিচিত।আদিকাল থেকে মানুষ এই ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে চিঠি আদান-প্রদান করত।এরা উড়ার সময় পৃথিবীর ম্যাগনেটিক ফিল্ড ধরতে পারে অনেকটা বর্তমান জিপিএস এর মত।আর এদের ডানার গঠন অন্যান্য কবুতরের চেয়ে আলাদা।প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ লক্ষাধিক হোমার কবুতর ব্যবহার হয়েছে,দূর্গম এলাকায় এদের দিয়ে বোমা,চিঠি ও ঔষধ পাঠানো হত।অসামান্য অবদানের জন্য কিছু কবুতরকে 'কমান্ডো' উপাধি ও 'ডিকিন' মেডেল দেয়া হয়েছিল।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে" The Mocker " নামের একটি কবুতর ৫২ টি মিশন সম্পন্ন করেছিল,তার ৫৩ তম মিশনের দিন কবুতরটি গুলিবিদ্ধ হয়েছিল গুলিবিদ্ধ হয়েও সে ক্যাম্পে ফিরে এসেছিল।যুদ্ধ শেষে দি মকার নামের কবুতরটিকে "ডিকিন" মেডেল ও কমান্ডো উপাধি দেওয়া হয়েছিল।এছাড়া যুদ্ধের সময় " Cher Ami " নামেন একটি হোমার কবুতর একশ জন মার্কিন সেনাবাহিনীর জীবন বাচিয়েছিল। এছাড়াও তালিকায় আছেন সুলতান নুর উদ্দিন,রাজা দাউদ,টিপু সুলতান,বাদশা আকবর,চেঙ্গিস খান সহ পৃথিবীর বাঘা বাঘা ব্যক্তিবর্গ।এখন এদের দিয়ে চিঠি পাঠানোর পরিবর্তে রেস বা প্রতিযোগিতা করা হয়,১০০,২০০,৫০০ কি.মি এমনকি ১৮০০ কি.মি দূরত্বের রেসে এরা অংশ নেয়।লন্ডনের রয়েল রেসিং পিজিয়ন এসোসিয়েশানের রেস পৃথীবির সবচেয়ে বড় ও জাঁকজমক রেস,এই ক্লাব থেকে সর্বোচ্য ৩৭০০ কি.মি রেস করা হয়।আমাদের দেশেও ২০০২ সালের পর থেকে কয়েকটি কবুতর রেসিং ক্লাব গঠন হয়েছে,২০১৬ সালের ন্যাশনাল রেসে ৭৫০০ এর অধিক কবুতর অংশ নেয় যা এ যাবত কালের মধ্যে সবচেয়ে বড় রেস।ঢাকা থেকে কক্সবাজার,ঢাকা থেকে তেতুলিয়ার বাংলাবান্দা ইত্যাদি।২০১৪ সালেও একজোড়া রেসার কবুতরের বাচ্চা কিনতে প্রায় বিশ হাজার টাকা লাগত।বর্তমানে আমাদের দেশে রেসারের প্রাপ্যতার কারনে দশ গিজার টাকার মধ্যে ভালো ব্লাডলাইনের একজোড়া বাচ্চা পাওয়া যায়।কবুতর দিয়ে রেস করতে হলে বড় কলিজার অধিকারী হতে হয়।এতদাম দিয়ে কবুতর কিনে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ট্রেনিং করিয়ে রেসে পাঠানো হার্ট দূর্বল মানুষ দিয়ে সম্ভব নয়।কবুতরটিকে পথ ভুল করে হারিয়ে যেতে পারে,চিল বা বাজপাখির শিকার হয়ে প্রাণ জারাতে পারে।।যে যাই মনে করুক,একজন কবুতর প্রেমী হিসেবে নিজেকে ধন্য মনে করি।