নৈশ প্রহরী

Call Directions Website

নৈশ প্রহরী আসসালামু আলাইকুম,

নৈশ প্রহরী পেইজে আপনাকে স্বাগতম।

এই পেজের মাধ্যমে বেয়ারিশ কুকুর ও বিড়াল দেখাশুনা করা হয় ।

বিস্তারিত জানতে আমাদের পেজে মেসেজ করুন।

If you are upset, who loves a helpless animal will feel better even if you have a little bit
যদি মন খারাপ হয় তাহলে অসহায় জীবজন্তুকে ভালোবাসেন তাহলে আপনার অল্প হলে ও মনটা ভালো লাগবে

30/09/2026
28/09/2026

কুকুরের চিকিৎসা করাতে গিয়েও হুমকি! সৈয়দপুরে প্রাণীপ্রেমীকে বাধা দেওয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সৈয়দপুরে অসুস্থ একটি কুকুরকে চিকিৎসা দেওয়ার সময় প্রাণীপ্রেমী মো: আবুল কালাম (রক) ভাইকে বাধা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। অসুস্থ একটি প্রাণীকে চিকিৎসা দেওয়ার মতো মানবিক কাজে কেন বাধা দেওয়া হলো—এ প্রশ্ন এখন সচেতন মহলের।

একটি অসহায় প্রাণী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চিকিৎসা করানো অপরাধ নয়; বরং এটি মানবিক দায়িত্বের অংশ। অথচ আমাদের সমাজে কুকুর দেখলেই অনেকের মধ্যে অযৌক্তিক আতঙ্ক ও বিদ্বেষ তৈরি হয়। কোথাও কুকুরকে মারধর, কোথাও বিষপ্রয়োগ, আবার কোথাও নির্বিচারে হত্যা—এ ধরনের অভিযোগ বিভিন্ন সময় সামনে আসে।

কুকুর নিয়ে কথা উঠলেই কেউ কেউ ধর্মীয় বক্তব্য বা হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রাণীটির প্রতি নিষ্ঠুরতাকে সমর্থন করার চেষ্টা করেন। কিন্তু কোনো ধর্মীয় বক্তব্যকে খণ্ডিতভাবে তুলে ধরে প্রাণীর প্রতি অমানবিক আচরণকে বৈধতা দেওয়া উচিত নয়। ইসলামসহ বিভিন্ন ধর্মীয় শিক্ষায় প্রাণীর প্রতি দয়া, মমতা ও দায়িত্বশীলতার কথাও গুরুত্বের সঙ্গে বলা হয়েছে।

আর জলাতঙ্কের ভয় থাকলে সমাধান কি কুকুর হত্যা?

না।

সমাধান হলো—বৈজ্ঞানিক ও পরিকল্পিত ব্যবস্থা। আক্রান্ত বা সন্দেহজনক প্রাণীকে শনাক্ত করা, প্রয়োজনে চিকিৎসা দেওয়া, কুকুরকে টিকাদানের আওতায় আনা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বন্ধ্যাকরণ কর্মসূচি পরিচালনা করা। একই সঙ্গে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।

একটি কুকুরকে হত্যা করা হয়তো মুহূর্তের জন্য কারও কাছে সমাধান মনে হতে পারে, কিন্তু এতে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না। বরং পরিকল্পিত টিকাদান ও বন্ধ্যাকরণ (CNVR—Catch, Neuter, Vaccinate, Return) কর্মসূচির মাধ্যমে কুকুরের সংখ্যা ও জলাতঙ্কের ঝুঁকি—দুটিই নিয়ন্ত্রণের দিকে নেওয়া যায়।

তাই যারা কুকুরের চিকিৎসা ও সেবায় এগিয়ে আসছেন, তাদের বাধা বা হুমকি না দিয়ে সহযোগিতা করা উচিত। কোথাও সমস্যা থাকলে আইনগত ও প্রশাসনিক পদ্ধতিতে সমাধান করতে হবে।

আমাদের প্রশ্ন খুবই সাধারণ—

একটি অসুস্থ প্রাণীকে চিকিৎসা করতে বাধা কেন?

কুকুরকে হত্যা নয়—চিকিৎসা, টিকাদান, বন্ধ্যাকরণ ও বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা চাই।

মানুষের নিরাপত্তা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি প্রাণীর প্রতি অকারণ নিষ্ঠুরতা বন্ধ করাও একটি সভ্য সমাজের দায়িত্ব। মানুষ ও প্রাণীর সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হলে আবেগ বা গুজব নয়—প্রয়োজন মানবিকতা, বিজ্ঞান এবং দায়িত্বশীল প্রশাসনিক ব্যবস্থা।

প্রাণীকে মেরে ফেলা কোনো সভ্যতার পরিচয় নয়; অসহায় প্রাণীর সমস্যার মানবিক সমাধান করাই সভ্যতার পরিচয়।

কুকুরকে খাবার দেওয়াকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ—নীরব থাকবে কেন প্রশাসন?নিজের চোখে দেখুন—একজন মানুষকে শুধু ...
24/09/2026

কুকুরকে খাবার দেওয়াকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ—নীরব থাকবে কেন প্রশাসন?

নিজের চোখে দেখুন—একজন মানুষকে শুধু কিছু অসহায় প্রাণীকে খাবার দেওয়ার কারণে যদি জনতার হাতে লাঞ্ছিত ও মারধরের শিকার হতে হয়, তাহলে আমরা কোন সমাজে বসবাস করছি?

রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রী-মেরাদিয়া এলাকার লাল মিয়ার গলিতে রাস্তার কুকুরকে খাবার দেওয়াকে কেন্দ্র করে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী সুমাইয়া তাসফিকে একদল মানুষ শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করেছে—এমন অভিযোগ উঠেছে।

প্রত্যক্ষ অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জনের মতো মানুষ জড়ো হয়ে মব তৈরি করে ওই শিক্ষার্থীর ওপর হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি, চায়ের দোকানদার ও আরও কিছু মানুষ এ ঘটনায় জড়িত ছিলেন। তবে কারা প্রকৃতভাবে হামলায় জড়িত ছিলেন, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—একজন নারী শিক্ষার্থীকে এত মানুষের সামনে হেনস্তা ও শারীরিকভাবে আক্রমণের অভিযোগ উঠলেও তিনি ঘটনার সময় ছবি বা ভিডিও ধারণ করতে পারেননি। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যের পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শী, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।

অভিযোগ রয়েছে, ওই শিক্ষার্থী থানায় গিয়ে আইনি সহায়তা চাওয়ার চেষ্টা করলেও প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি। এই অভিযোগ সত্য হলে প্রশ্ন উঠতেই পারে—একজন নাগরিক বিপদের সময় পুলিশের কাছে গিয়ে যদি যথাযথ সহায়তা না পান, তাহলে তিনি নিরাপত্তা চাইবেন কার কাছে?

কুকুরকে খাবার দেওয়া কারও পছন্দ নাও হতে পারে। কোনো এলাকায় প্রাণীকে খাবার দেওয়া নিয়ে স্থানীয় মানুষের আপত্তি থাকতেই পারে। কিন্তু আপত্তি থাকলে তার সমাধান হতে পারে আলোচনা, স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো কিংবা আইনগত পদ্ধতি অনুসরণ করা। কোনো অবস্থাতেই জনতা জড়ো করে একজন মানুষকে মারধর, অপমান বা ভয় দেখানোর অভিযোগকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

আর একটি বিষয় স্পষ্ট হওয়া দরকার—কেউ অপরাধ করে থাকলে তার বিচার আদালত ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে হবে; জনতার হাতে বিচার নয়।

আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই—

১. ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক।
২. আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে প্রকৃত ঘটনা যাচাই করা হোক।
৩. হামলার অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
৪. অভিযোগকারী শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।
৫. থানায় অভিযোগ গ্রহণ ও আইনি সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে কোনো গাফিলতি হয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হোক।
৬. প্রাণীদের খাবার দেওয়া নিয়ে স্থানীয় বিরোধ থাকলে প্রশাসনের উদ্যোগে শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত সমাধান করা হোক।

আজ যদি একটি কুকুরকে খাবার দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে একজন মানুষকে জনতার হাতে লাঞ্ছিত করার অভিযোগকে আমরা স্বাভাবিক বলে মেনে নিই, তাহলে আগামীকাল আরও তুচ্ছ কোনো বিষয়েও একই ধরনের মব তৈরি হতে পারে।

প্রতিবাদ হোক—কিন্তু আইনের বাইরে নয়।
অভিযোগের তদন্ত হোক—প্রতিশোধ নয়।
অপরাধীর বিচার হোক—জনতার হাতে বিচার নয়।

মানুষ হোক কিংবা প্রাণী—সহিংসতা ও নিষ্ঠুরতার বিরুদ্ধে আইনের শাসনই হোক আমাদের অবস্থান।

প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন একটাই—অভিযোগের সত্যতা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে তো?

বেওয়ারিশ কুকুর—নাকি মানুষের দেওয়া একটি পরিচয়?নৈশপ্রহরী নিউজ | সচেতনতামূলক প্রতিবেদনকিছুদিন পরপরই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এম...
24/09/2026

বেওয়ারিশ কুকুর—নাকি মানুষের দেওয়া একটি পরিচয়?

নৈশপ্রহরী নিউজ | সচেতনতামূলক প্রতিবেদন

কিছুদিন পরপরই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এমন শিরোনাম চোখে পড়ে—“বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব”, “বেওয়ারিশ কুকুরের আক্রমণে আহত”, “বেওয়ারিশ কুকুরে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী” ইত্যাদি।

কুকুরের কামড় বা আক্রমণ অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। বিশেষ করে জলাতঙ্কের ঝুঁকি থাকায় কুকুরের কামড়কে কোনোভাবেই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বলছে, কুকুরের মাধ্যমে মানুষের জলাতঙ্ক সংক্রমণ ঘটে এবং কুকুরের ব্যাপক টিকাদান জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়গুলোর একটি।

কিন্তু প্রশ্ন হলো—রাস্তায় ঘুরছে বলেই কি একটি কুকুরকে “বেওয়ারিশ” বলা যায়?

আন্তর্জাতিক প্রাণিস্বাস্থ্য সংস্থা WOAH-এর ব্যবহৃত ধারণা অনুযায়ী, মুক্তভাবে ঘোরাফেরা করা কুকুরের মধ্যে মালিকানাধীন কুকুরও থাকতে পারে, আবার মালিকবিহীন কুকুরও থাকতে পারে। অর্থাৎ কোনো কুকুরকে বাইরে ঘুরতে দেখা গেলেই সেটির কোনো মালিক, অভিভাবক বা মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক নেই—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।

অনেক এলাকায় এমন কুকুর রয়েছে যাদের কোনো নির্দিষ্ট মালিক নেই, কিন্তু স্থানীয় মানুষ নিয়মিত খাবার দেয়, চিকিৎসা করায় কিংবা টিকা দেয়। আবার এমন মালিকানাধীন কুকুরও রয়েছে যাদের দিনের কোনো সময় বাইরে ঘোরাফেরা করতে দেওয়া হয়।

তাই সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে “বেওয়ারিশ” শব্দটি ব্যবহার করার আগে তথ্য যাচাই করা জরুরি।

কুকুরটি সত্যিই মালিকবিহীন কি না?
তার পরিচর্যা করে কেউ কি না?
কুকুরটি আগে থেকেই ওই এলাকায় বসবাস করে কি না?
আক্রমণের ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে?
কুকুরটি অসুস্থ বা জলাতঙ্কে আক্রান্ত বলে কোনো পরীক্ষিত তথ্য আছে কি না?

এসব প্রশ্নের উত্তর না জেনে শুধু “বেওয়ারিশ কুকুর” লিখে বড় শিরোনাম তৈরি করলে সাধারণ মানুষের মধ্যে সব কুকুর সম্পর্কে ভয় বা নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে।

তাহলে কি কুকুরের আক্রমণের খবর প্রকাশ করা যাবে না?

অবশ্যই যাবে। বরং মানুষের নিরাপত্তার জন্য এসব ঘটনা যথাযথভাবে প্রকাশ করা প্রয়োজন।

তবে সংবাদ হওয়া উচিত তথ্যনির্ভর, আতঙ্কনির্ভর নয়।

“বেওয়ারিশ কুকুরের আক্রমণ” বলার পরিবর্তে প্রয়োজনে বলা যেতে পারে—
“মুক্তভাবে ঘোরাফেরা করা কুকুরের কামড়ে আহত…”

আর যদি সত্যিই প্রমাণ থাকে যে কুকুরটির কোনো মালিক নেই, তখন “মালিকবিহীন কুকুর” বলা আরও নির্দিষ্ট হতে পারে।

সমাধান কি কুকুর নিধন?

এখানেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে।

WHO স্পষ্টভাবে বলছে, শুধু মুক্তভাবে ঘোরাফেরা করা কুকুর হত্যা করে জলাতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ করা কার্যকর পদ্ধতি নয়। বরং ব্যাপক কুকুরের টিকাদান, নজরদারি, দায়িত্বশীল মালিকানা এবং কামড়ের পর দ্রুত চিকিৎসা—এসব ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

WOAH-ও কুকুরের জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে মালিকানাধীন ও মালিকবিহীন—উভয় ধরনের কুকুরকে বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলে। এর মধ্যে টিকাদান, নির্বীজন, দায়িত্বশীল মালিকানা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য মানবিক ব্যবস্থাপনা অন্তর্ভুক্ত।

অর্থাৎ সমস্যার সমাধান শুধু “কুকুর আছে, তাই সরিয়ে দাও”—এমন সরল সমীকরণ নয়।

মানুষের দায়িত্বও কি আছে?

অবশ্যই।

যে মানুষ কুকুর পোষেন, তার দায়িত্ব কুকুরকে টিকা দেওয়া, নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং পরিত্যাগ না করা।

আবার সমাজের দায়িত্ব হলো—মালিকবিহীন কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বৈজ্ঞানিক ও মানবিক পদ্ধতি গ্রহণ করা এবং জলাতঙ্ক প্রতিরোধে টিকাদান নিশ্চিত করা।

কারণ WOAH-এর ভাষায়, কুকুরের চলাচল ও জনসংখ্যার সঙ্গে মানুষের কর্মকাণ্ডেরও সম্পর্ক রয়েছে। দায়িত্বশীল কুকুর পালন ভবিষ্যতে মুক্তভাবে ঘোরাফেরা করা কুকুরের সংখ্যা কমাতেও সহায়তা করতে পারে।

সংবাদমাধ্যমের কাছে একটি প্রশ্ন

একটি কুকুর রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে—এটা কি তার পরিচয়?

নাকি সেটি শুধু তার অবস্থান?

একটি প্রাণী মানুষের তৈরি শহরে মানুষের ফেলে দেওয়া খাবারের ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকলে, তাকে “বেওয়ারিশ” বলার আগে আমাদের কি একবার ভাবা উচিত নয়—সে বেওয়ারিশ হয়েছে কীভাবে?

কেউ তাকে জন্ম দিয়েছে, কেউ হয়তো পোষ্য করেছে, আবার কোনো একসময় তাকে রাস্তায় ফেলে দিয়েছে। কেউ খাবার দিয়েছে, কেউ তাড়িয়েছে, কেউ অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসা করেছে।

তাই কুকুরের আক্রমণের ঘটনা যেমন গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করতে হবে, তেমনি কোন কুকুরকে কেন “বেওয়ারিশ” বলা হচ্ছে—সেটিও সাংবাদিকতার দায়িত্বশীলতার অংশ।

ভয় নয়, প্রয়োজন সঠিক তথ্য।

বিদ্বেষ নয়, প্রয়োজন বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা।

আর কুকুরের কামড়ের ঘটনা ঘটলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত ক্ষত পরিষ্কার করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় জলাতঙ্ক প্রতিরোধী চিকিৎসা গ্রহণ করা জরুরি।

প্রশ্নটা তাই কুকুরের বিরুদ্ধে নয়—প্রশ্নটা আমাদের শব্দচয়ন, দায়িত্ববোধ এবং সমস্যার বৈজ্ঞানিক সমাধান নিয়ে।

নৈশপ্রহরী

৫ আগস্টের স্বপ্ন থেকে আজকের আতঙ্ক—আমরা কোন সমাজের দিকে এগোচ্ছি?২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের মানুষ ভেবেছিল—হয়তো এবার দেশ স্ব...
17/09/2026

৫ আগস্টের স্বপ্ন থেকে আজকের আতঙ্ক—আমরা কোন সমাজের দিকে এগোচ্ছি?

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের মানুষ ভেবেছিল—হয়তো এবার দেশ স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের হাত থেকে মুক্তির পথে এগোবে। মানুষ চেয়েছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে থাকবে আইনের শাসন, মানুষের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও মানবিকতা।

কিন্তু দুই বছর পর আমাদের চারপাশের কিছু ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে—আমরা আসলে কোন সমাজের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি?

সামান্য সন্দেহ, তুচ্ছ ঘটনা কিংবা কোনো অজুহাতকে কেন্দ্র করে মানুষের জীবন নেওয়ার মতো নির্মমতা কি আমাদের সমাজে স্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে? শুধু মানুষ নয়—অবলা প্রাণীরাও আজ মানুষের নিষ্ঠুরতার হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না।

মহেশখালীর একটি ঘটনার অভিযোগই ধরা যাক।

অভিযোগ রয়েছে, নির্মাণাধীন একটি বাড়ির নিচে কাজের সন্ধানে ঘোরাফেরা করা এক ক্ষুধার্ত যুবককে চোর সন্দেহে একটি স্টিলের ওয়ার্কশপে ধরে নিয়ে হাত-পা বেঁধে পিঠের ওপর ইট রেখে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। এ ঘটনায় শেফাতউললাহ নামে একজনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

আরও ভয়াবহ অভিযোগ হলো—ঘটনার সময় সেখানে অনেক মানুষ উপস্থিত থাকলেও তারা নির্যাতন থামানোর পরিবর্তে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তা দেখেছেন; কেউ কেউ মোবাইল ফোনে ছবি বা ভিডিও ধারণ করেছেন।

একজন মানুষকে চোর সন্দেহ করা হলো—কিন্তু তাকে আইনের হাতে তুলে দেওয়ার পরিবর্তে কেন আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া হলো?

আর যারা সামনে দাঁড়িয়ে একজন মানুষের ওপর এমন নির্যাতন দেখলেন, তাদের বিবেক কি একবারও প্রশ্ন করেনি—“এটা বন্ধ করুন”?

আজ আমাদের ভয় শুধু অপরাধীকে নিয়ে নয়। ভয় হচ্ছে—কখন কোন তুচ্ছ ঘটনায়, কোন মিথ্যা অভিযোগে কিংবা কোন ভুল বোঝাবুঝিতে একজন সাধারণ মানুষ নিজেই পরবর্তী শিকার হয়ে যায়!

একটি সভ্য রাষ্ট্রে অপরাধের অভিযোগের তদন্ত করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিচার করবে আদালত। কোনো ব্যক্তি বা জনতার হাতে কাউকে শাস্তি দেওয়ার অধিকার থাকতে পারে না।

৫ আগস্ট ২০২৪-এর পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা যদি মানুষের নিরাপত্তা, আইনের শাসন ও মানবিকতার সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য হয়ে থাকে, তাহলে আজ আমাদের নিজেদের কাছেই প্রশ্ন করতে হবে—

আমরা কি সেই বাংলাদেশই গড়ছি, নাকি অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস হারিয়ে এমন এক সমাজ তৈরি করছি, যেখানে মানুষ বিপদে পড়লে চারপাশে শুধু দর্শক থাকে?

মানুষের হাতে মানুষ যেন আর মরতে না হয়।
অভিযোগের নামে যেন বিচারবহির্ভূত নির্যাতন না হয়।
অবলা প্রাণীর ওপরও যেন নিষ্ঠুরতা না হয়।

দেশের মানুষের একটাই প্রত্যাশা—নিরাপদ বাংলাদেশ। এমন বাংলাদেশ, যেখানে অন্যায় দেখলে মানুষ মোবাইল ক্যামেরা বের করবে না; আগে একজন মানুষ হিসেবে এগিয়ে আসবে।

#মহেশখালী #মানবিকতা #আইনেরশাসন #ন্যায়বিচার #মানুষেরনিরাপত্তা #সচেতনতা #বাংলাদেশ

প্রকৃতির সঙ্গে নিষ্ঠুরতার পরিণতি কি আমরা বুঝতে পারছি?প্রকৃতি কখনোই মানুষের একার নয়। মানুষ, প্রাণী, পাখি, গাছপালা—সবকিছু ...
16/09/2026

প্রকৃতির সঙ্গে নিষ্ঠুরতার পরিণতি কি আমরা বুঝতে পারছি?

প্রকৃতি কখনোই মানুষের একার নয়। মানুষ, প্রাণী, পাখি, গাছপালা—সবকিছু মিলেই প্রকৃতির একটি ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থা। সেই ভারসাম্যে মানুষ যখন নিজের স্বার্থে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ করে, তখন তার প্রভাব কোনো না কোনোভাবে আবার মানুষের জীবনেই ফিরে আসতে পারে। প্রশ্ন হলো—আমরা কি সেই বার্তাটি বুঝতে পারছি, নাকি বুঝেও না বোঝার ভান করছি?

সাম্প্রতিক ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি নতুন করে সেই প্রশ্ন সামনে এনেছে। ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সন্ধ্যায় হাসপাতালের নতুন ভবনে আগুন ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে শিশুসহ ছয়জনের মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হলেও পরবর্তী সময়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৃত্যুর সংখ্যা ও মৃত্যুর কারণ যাচাই করার কথা জানানো হয়। প্রাথমিকভাবে আগুনের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে লিফটের কন্ট্রোল রুমে বৈদ্যুতিক ত্রুটির কথা বলা হয়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে অতীতের একটি ঘটনাও স্মরণ করছেন। কিছুদিন আগে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় কুকুর-বিড়াল অপসারণ বা হত্যার অভিযোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, জলাতঙ্কের আশঙ্কার অজুহাতে হাসপাতাল এলাকার প্রাণীগুলোকে সরিয়ে দেওয়া বা হত্যা করা হয়েছে।

তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার থাকা জরুরি—আগের প্রাণী অপসারণের ঘটনা এবং সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের মধ্যে সরাসরি কোনো বৈজ্ঞানিক বা তদন্ত-সমর্থিত সম্পর্ক এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাই এটিকে ‘প্রকৃতির প্রতিশোধ’ বা নিশ্চিত কোনো শাস্তি হিসেবে ঘোষণা করা ঠিক হবে না।

তবুও ঘটনাটি আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সামনে দাঁড় করায়—মানুষ কি প্রকৃতির অন্যান্য প্রাণীর প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করছে?

কুকুর, বিড়াল, পাখি কিংবা অন্য প্রাণী—প্রতিটি প্রাণীরই পরিবেশে কোনো না কোনো ভূমিকা রয়েছে। কোনো প্রাণী মানুষের জন্য সমস্যার কারণ হলে তার সমাধান হতে পারে বৈজ্ঞানিক, মানবিক ও আইনসম্মত ব্যবস্থাপনা। নির্বিচারে হত্যা কিংবা নিষ্ঠুরতা কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান হতে পারে না।

‘Revenge of Nature’—প্রকৃতির প্রতিশোধ—কথাটি হয়তো বৈজ্ঞানিক কোনো ব্যাখ্যা নয়; বরং এটি আমাদের জন্য একটি সতর্কবার্তার মতো। প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট করলে তার পরিণতি কখনো পরিবেশগত বিপর্যয়, কখনো রোগের বিস্তার, কখনো খাদ্যশৃঙ্খলের পরিবর্তন কিংবা অন্য কোনো অপ্রত্যাশিত সমস্যার মাধ্যমে মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করতে পারে।

তাই ময়মনসিংহের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করার আগে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রাণীদের প্রতি আমাদের আচরণ নিয়েও নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।

কারণ সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি শুধু মানুষ নয়। পৃথিবীতে মানুষের পাশাপাশি অসংখ্য প্রাণী ও জীবেরও অস্তিত্বের অধিকার রয়েছে। আমরা যদি তাদের প্রতি অমানবিক হই, তাহলে অন্তত মানবিকতার জায়গা থেকেই নিজেদের প্রশ্ন করা উচিত—আমরা কি সত্যিই সৃষ্টির প্রতি আমাদের দায়িত্ব পালন করছি?

আলহামদুলিল্লাহ—সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি কতটা বিস্ময়কর, তা উপলব্ধি করার সুযোগ আমাদের প্রতিটি ঘটনাই করে দেয়। তবে এই দুর্ঘটনায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানাই। আল্লাহ তাঁদের ক্ষমা করুন এবং তাঁদের স্বজনদের এই শোক সহ্য করার শক্তি দিন। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।

প্রকৃতির ওপর আধিপত্য নয়—প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থানই হোক মানুষের পথ।

আসুন, প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা নয়; দায়িত্বশীলতা, মানবিকতা ও সহমর্মিতার সমাজ গড়ে তুলি।

12/09/2026

আমি গত সপ্তাহে আমার পোস্টে 3,000টির বেশি প্রতিক্রিয়া পেয়েছি! এই সহযোগিতার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ! 🎉

কুকুর নয়—অমানুষ মুক্ত হোক বাংলাদেশ!ঘুষ, দুর্নীতি, ধর্ষণ, বলাৎকার,ভেজাল, নকল ওষুধ, প্রতারণা—ধর্মের নামে অধর্মআর নিরীহ প্...
12/09/2026

কুকুর নয়—
অমানুষ মুক্ত হোক বাংলাদেশ!

ঘুষ, দুর্নীতি, ধর্ষণ, বলাৎকার,
ভেজাল, নকল ওষুধ, প্রতারণা—
ধর্মের নামে অধর্ম
আর নিরীহ প্রাণীর ওপর নিষ্ঠুরতা—

এসবই দেশের আসল ব্যাধি।

কুকুর-বিড়াল নিধন নয়,
প্রয়োজন মানবিকতার জাগরণ।

প্রাণী বাঁচুক • প্রকৃতি বাঁচুক • বাংলাদেশ বাঁচুক

কুকুর নয়, অমানুষ মুক্ত হোক এই দেশ!

নৈশ প্রহরী

10/09/2026

কিছু বাস্তবধর্মী কথা যা না শুনলেই নয়

Address

63/1 OUTter By Pass
Khulna
9100

Opening Hours

Monday 09:00 - 17:00
Tuesday 09:00 - 17:00
Wednesday 09:00 - 17:00
Thursday 09:00 - 17:00
Friday 09:00 - 17:00
Saturday 09:00 - 17:00
Sunday 09:00 - 17:00

Telephone

01712842957

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when নৈশ প্রহরী posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share