08/12/2025
https://www.facebook.com/share/p/1C5mVCWALc/
গত ৫ ডিসেম্বর, এক খবরে নড়েচড়ে বসে পুরো ঢাকা। মিরপুর চিড়িয়াখানায় খাঁচা থেকে বের হয়ে যায় এক সিংহী। তারপর দর্শনার্থীদের বের করে দেওয়া হয়।
নানান মতামতে সোশ্যাল মিডিয়া সয়লাব হয়ে যায়, বেশ হাসিঠাট্টাও হয় এ নিয়ে। কেউ কেউ এর মাঝে ষড়যন্ত্রের আভাসও পান।
যাই হোক, পরে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ ট্রাঙ্কুলাইজার গান দিয়ে অজ্ঞান করে সিংহীকে বশে আনে। খাঁচা থেকে বের হয়ে বেশি দূর যেতে পারেনি, হরিণের খাঁচার পাশেই বসেছিল। শরীরের যে অবস্থা, তাতে খুব একটা ক্ষমতাও নেই তার। তবে সিংহীর খাঁচায় ফেরার খবরে অনেকেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়েন।
আহারে, সিংহী! সাভানার রানি! তার জাত সঙ্গীসাথিরা হয়তো সকাল-বিকাল জঙ্গলে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে! পরিবার নিয়ে শিকার আর ভোজ। ঘুমোচ্ছে ঘন ঘাসবনে, পরের দিনের অপেক্ষায়।
কপালের ফেরে এই দুর্ভাগা সিংহীর বাসস্থান হয়েছে মিরপুর চিড়িয়াখানার নোংরা এক খাঁচায়। মানুষ নামের দুই পেয়ে প্রাণীর মনোরঞ্জনের উদ্দেশ্যে তার মতো প্রাণীরা এখানে বিনা অপরাধে দাগি আসামীর চেয়েও নিষ্ঠুর ট্রিটমেন্ট পায়। আধপেটা খেয়ে, রুগ্ন শরীরে নোংরা পরিবেশে পড়ে থাকে। পাঁজরের হাড় যেন গোনা যায়!
টিকেট কেটে মানুষ তাদের দেখতে আসে, হাততালি দেয়, ছবি তোলে। রুগ্ন শরীর নিয়ে নড়াচড়া করতে না পারলে মানুষ আবার বিনোদনও পায় না। অনেকেই ঢিল ছোড়ে, একটু নড়াচড়া দেখার আশায়! আহত বা অসুস্থ হলে চিকিৎসার জন্য কয়েক সদস্যের কমিটি বসে, এই যেন অনেক পাওয়া। আবার নিয়মিতই অভিযোগ পাওয়া যায় চিড়িয়াখানার প্রাণীদের খাবার জমা হয় মানুষের ফ্রিজে। অভুক্ত-নিঃসাড় অবস্থায় জেলখানায় পড়ে থাকে বনের শিকারী প্রাণী।
মানব সভ্যতার সবচেয়ে অসভ্যতম আবিষ্কারগুলোর একটি হলো এই চিড়িয়াখানা। নিজের পরিচিত এলাকার বাইরে পা ফেলতে যে মানুষ ভয় পায়, তার বিনোদনের জন্য প্রাণীদের ধরে ধরে খাঁচায় পোরা হয়, নিজেদের পরিচিত এলাকা থেকে তুলে আনা হয়, ইলেক্ট্রিক শক, জাল, ট্রাঙ্কুইলাইজার গান দিয়ে অজ্ঞান করা হয়। মানুষ দেখতে যায়, মনমতো না নাচলে মুখ ভ্যাঙায়, খোঁচায়, ঢিল মারে আরো কত কী! খোলা অবস্থায় যার এলাকায় এক পা ও হাঁটতে সাহস করবে না, বন্দী ও দুর্বল পেয়ে তাকে আঘাত করে সাহসের জানান দেয় মানুষ নামের প্রাণী।
হয়তো এই সিংহী শুধু একটু নিঃশ্বাস নিতে চেয়েছিল, একটু বাঁচতে চেয়েছিল! হয়তো ভেবেছিলোও 'এই তো মুক্তি...' কিন্তু হাড় জিরজিরে এই সিংহী যে শুধু তার আপন আবাসেই অনেক ভয়ংকর! এই ইটপাথরের শহরে তার সেই তর্জন-গর্জন যেন শুধুই অতীত। বর্তমান শুধুই কাতর চোখ দুটিতে বলতে থাকা 'আমাকে যেতে দাও...প্লিজ...'