27/08/2026
গাভী গর্ভবতী হলে তার পুষ্টির চাহিদা সাধারণ সময়ের চেয়ে অনেক বেড়ে যায়, কারণ এই সময়ে গর্ভস্থ বাছুরের সঠিক বৃদ্ধি এবং প্রসবের পর পর্যাপ্ত দুধ উৎপাদনের প্রস্তুতি চলে। খামারি ও পশু চিকিৎসকদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, গর্ভাবস্থায় গাভীর খাবারে নিচের পরিবর্তনগুলো আনা জরুরি
১★দানাদার খাদ্যের পরিমাণ বৃদ্ধি (৭ম থেকে ৯ম মাস)গর্ভাবস্থার শেষ ৩ মাসে পেটের বাছুর খুব দ্রুত বড় হয়। এই সময়ে গাভীর স্বাভাবিক খাবারের সাথে দৈনিক অতিরিক্ত ১.৫ থেকে ২.৫ কেজি সুষম দানাদার খাদ্য যোগ করতে হবে।
২। কাঁচা ঘাস ও আঁশযুক্ত খাবারের অনুপাতসবুজ কাঁচা ঘাস: গাভীকে দৈনিক ১৫ থেকে ২৫ কেজি কচি সবুজ ঘাস খাওয়াতে হবে। এটি ভিটামিন ও খনিজের প্রধান উৎস।শুকনো খড়: হজমপ্রক্রিয়া ঠিক রাখতে প্রতিদিন ৩ থেকে ৫ কেজি ভালো মানের শুকনো খড় বা সাইলেজ দিন।
৩. খনিজ ও ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট (খুবই গুরুত্বপূর্ণ)বাছুরের হাড়ের গঠন এবং গাভীর ওলান প্রস্তুত করার জন্য খাবারে খনিজ মেশানো বাধ্যতামূলক:ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস: শেষ ৩ মাসে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ গ্রাম মিনারেল মিক্সচার (খনিজ মিশ্রণ) এবং লবণ দানাদার খাদ্যের সাথে মিশিয়ে দিন। এটি প্রসবের পর গাভীর 'মিল্ক ফিভার' বা ওলান নামা রোগ প্রতিরোধ করবে।ভিটামিন AD₃E: গাভী ও বাছুরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন টনিক দিতে পারেন।
৪. পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানিগর্ভবতী গাভীর শরীরে পানির চাহিদা অনেক বেশি থাকে। তাই প্রতিদিন ৫০ থেকে ৮০ লিটার পরিষ্কার ও বিশুদ্ধ পানি পানের ব্যবস্থা রাখুন। কোনোভাবেই বাসি, নোংরা বা অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি খাওয়ানো যাবে না।৫. প্রসবের ঠিক আগের পরিবর্তন (শেষ ১৫ দিন)প্রসবের ১০–১৫ দিন আগে দানাদার খাদ্যের পরিমাণ ১০ থেকে ১৫% কমিয়ে দিন। অতিরিক্ত দানাদার খাওয়ালে গাভী বেশি চর্বিযুক্ত হয়ে পড়ে, যা প্রসবের সময় জটিলতা (বাচ্চা আটকে যাওয়া) তৈরি করতে পারে।এই সময়ে সহজে হজম হয় এমন নরম খাবার এবং গমের ভুষির মতো কোষ্ঠকাঠিন্য দূরকারী খাবার বেশি দিন।
★★★বিশেষ সতর্কতা:গর্ভাবস্থার ৭ম মাস পূর্ণ হওয়ার পর দুধ দোহন সম্পূর্ণ বন্ধ (Dry করা) করে দিতে হবে, যাতে গাভী নিজের শরীর ও বাছুরের পুষ্টি নিশ্চিত করতে পারে।কোনো অবস্থাতেই গাভীকে পচা, ছত্রাকযুক্ত বা বাসি খাবার দেবেন না, এতে গর্ভপাতের ঝুঁকি থাকে।
ডা. মু. মুনিরুজ্জামান
সাহেব নগর ১৬ নং গেইট কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট।