10/09/2026
★★ ক্যাট ফ্লু!
গত কয়েকদিনে বেশ কিছু ফ্লু এর পেশেন্ট পেয়েছি যাদের অধিকাংশের বয়স ৩-৪ মাসের ভিতরে
এবং এটি বিড়ালের সবচেয়ে মারাত্মক রোগ,
যেটি হলো মরা বাঁচায় চান্স ৫০/৫০।
আজকে ফ্লু সম্পর্কে কিছু কথা জেনে নেয়া যাক।
★★ফ্লু কি দিয়ে হয়?
এটি মূলত ভাইরাস দিয়ে হয় এবং বেশ কয়েকটি ভাইরাস এই ফ্লু এর জন্য দায়ী।এদের মধ্যে ফেলাইন পেনলিউকোপেনিয়া, হার্পিস ভাইরাস,ক্যালসি ভাইরাস বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
৮০% রোগ হয় হার্পিস ভাইরাস এবং ক্যালসি ভাইরাস দিয়ে।
ফ্লু এর জন্য যেসব ভাইরাস দায়ী এদের মাঝে ফেলাইন পেনলিউকোপেনিয়া সবচেয়ে বেশি হার্মফুল।ফ্লু নিজে কোনো ডিজিজ নয়,এটা কয়েকটা সিম্পটম এর সমষ্টি যা উক্ত ভাইরাস গুলিতে প্রকাশ পায়।
★★কি কি লক্ষণ দেখা দেয়??
-হঠাৎ করেই বিড়াল খাবার বন্ধ করে দিতে পারে বা একদম অল্প খাবে।
-বিড়াল চুপচাপ বসে থাকবে এক জায়গায়।
-জ্বর প্রথম দিকে থাকবে পরে নাও থাকতে পারে,এমনকি তাপমাত্রা স্বাভাবিক এর চেয়ে নিচে নেমে যেতে পারে।
- ২-৩দিন পরে হলুদাভ বমি শুরু হতে পারে।আবার শুধু বমি বমি ভাবও থাকতে পারে।
-ডায়রিয়া (প্রচুর গন্ধ থাকবে)।
-মাঝেমাঝে ডায়রিয়ার সাথে রক্ত আসতে পারে।
- চোখ এবং নাক দিয়ে পানি ঝড়তে পারে।
-ডিহাইড্রেশন দেখা যাবে।
-কোনো লক্ষণ ছাড়াই হঠাৎ করে মারা যেতে পারে।
★★যা যা মনে রাখতে হবে!!
-হলুদাভ /সবুজাভ বমি মানেই ফ্লু নয়।
-সব বিড়ালে ডায়রিয়া নাও থাকতে পারে।
-সকল লক্ষণ সব বিড়ালে নাও থাকতে পারে।
- আবার কোনো রকম লক্ষণ প্রকাশ ছাড়াই ফ্লু পজিটিভ হতে পারে যা কীট টেষ্ট এর মাধ্যমে ডিটেক্ট করা সম্ভব।
★★ফ্লু কিভাবে ছড়ায়??
-এটি মূলত লালা,নাকের পানি বা কফ,পায়খানার মাধ্যমে ছড়ায়।
-খাবার পাত্র / পানির পাত্রের মাধ্যমে ছড়াতে পারে।অসুস্থ এবং সুস্থ বিড়াল একই পাত্রে খাবার খেলে সেখান থেকে ছড়াতে পারে।
-কেউ যদি অসুস্থ বিড়াল হেন্ডেল করে এবং এরপর সুস্থ বিড়ালের সংস্পর্শে যায় (যদি যথাযথ প্রটেক্টিভ মেজার ফলো না করে)।
- আমাদের পরিধেয় পোশাকের মাধ্যমে এটি ছড়াতে পারে।
** যেহেতু এই ভাইরাসের ইনকিউবেশন পিরিয়ড একটু বেশি তাই উপযুক্ত পরিবেশে এটি অনেকদিন সারভাইভ করতে পারে।
★★★ফ্লু থেকে বাচার জন্য যা যা করতে হবে!!
-আক্রান্ত বিড়ালকে অবশ্যই সুস্থ বিড়াল থেকে আলাদা রাখতে হবে।
-আলাদা খাবার পাত্র ব্যবহার করতে হবে।
-অসুস্থ বিড়ালকে ধরার পর,নিজে জীবাণুনাশক ব্যবহার না করে কোনো অবস্থাতেই সুস্থ বিড়ালকে ধরা যাবে না।
-বিড়াল মারা গেলে তার ব্যবহৃত জিনিসপত্র সহ মাটিতে পুতে রাখতে হবে অথবা পুড়িয়ে ফেলতে হবে,কোনো অবস্থাতেই যেখানে সেখানে ফেলা যাবে না।ব্যবহৃত জিনিসপত্র ব্যবহার করতে চাইলে তা অবশ্যই যথাযথ জীবাণুনাশ দিয়ে জীবাণু মুক্ত করে ব্যবহার করতে হবে।
-যেহেতু কীট টেষ্ট ছাড়া বুঝার উপায় নাই যে কোন বিড়াল ভাইরাস ক্যারি করতেছে তাই আপাতত কিছু দিনের জন্য অন্য বিড়ালের সংস্পর্শে আনা থেকে বিরত থাকুন।বিড়ালকে নিয়ে বাইরে বের হওয়া থেকে বিরত থাকুন।
-আপাতত কিছুদিনের জন্য এডপ্ট দেয়া নেয়া অফ রাখুন।
- স্ট্রেস যেন না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখুন।
-ফ্লু ভ্যাক্সিন দেয়া না থাকলে স্পে,নিউটার না করা। কারণ ইমিউনিটি ফল করে বিড়াল দ্রুত এফেকটেড হতে পারে।
-যত দ্রুত সম্ভব ভ্যাক্সিন করিয়ে নিতে হবে।
-বিড়ালকে ফ্রেশ খাবার এবং পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে।
ডাঃ সাদ রাফী
ডিভিএম (সিকৃবি), এমএস(মেডিসিন)