Sowad Pigeon Loft

Sowad Pigeon Loft "কবুতরের বিভিন্ন রোগ বালাইয়ের লক্ষণ, সঠিক চিকিৎসা, প্রতিষেধক এবং মাসিক কোর্সের সঠিক গাইডলাইন পেতে আমাদের পেজটি ফলো করুন।"

🪶 কবুতরের মল্টিং বা পালক ঝরার সিজন শুরু হচ্ছে? জেনে নিন এই সময়ে লফটে কী কী বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি!​কবুতর পালনকারীদে...
05/07/2026

🪶 কবুতরের মল্টিং বা পালক ঝরার সিজন শুরু হচ্ছে? জেনে নিন এই সময়ে লফটে কী কী বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি!

​কবুতর পালনকারীদের জন্য মল্টিং সিজন বা পালক বদলানোর সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি কোনো রোগ নয়, বরং একটি স্বাভাবিক প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। তবে মনে রাখবেন— নতুন একটি পালক গজানো মানে কবুতরের শরীর থেকে প্রচুর শক্তি, প্রোটিন এবং ক্যালসিয়াম খরচ হওয়া।

​এই সময়ে সামান্য অবহেলা করলে নতুন গজানো পালকগুলো বাঁকা বা দুর্বল হতে পারে, যা কবুতরের উড়ন্ত ক্ষমতা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই মল্টিং সিজনে আপনার কবুতরকে ফিট রাখতে এই প্রস্তুতিগুলো এখনই নিন:

​🚀 মল্টিং সিজনে কবুতর সুরক্ষার ৪টি প্রধান নিয়ম:

​১. খাবারে প্রোটিন ও তৈলাক্ত বীজের পরিমাণ বাড়ানো (High Protein Diet):

কবুতরের পালক মূলত কেরাটিন (Keratin) নামক একধরণের প্রোটিন দিয়ে তৈরি। তাই নতুন ও মজবুত পালক গজানোর জন্য এই সময়ে খাবারে প্রোটিনের মাত্রা বাড়াতে হবে।

​করণীয়: নিয়মিত মিক্স খাবারের পাশাপাশি খাবারে কুসুম ফুল, তিল, তিসি, সূর্যমুখীর বীজ, গমের কুঁড়ো এবং ছোট চানা বুট (ছোলা)-এর পরিমাণ বাড়িয়ে দিন। তৈলাক্ত বীজগুলো নতুন পালককে মসৃণ, সিল্কি এবং ঝকঝকে করতে সাহায্য করে।

​২. ক্যালসিয়াম ও খনিজ উপাদানের জোগান (Essential Minerals):

নতুন পালকের গোড়া শক্ত করতে এবং এই ধকল সামলাতে কবুতরের শরীরে প্রচুর মিনারেল বা খনিজের প্রয়োজন হয়।

​করণীয়: লফটে সবসময় ভালো মানের গ্রিট (Grit) বা খনিজ মিশ্রণ আলাদা পাত্রে রাখুন। এছাড়া সপ্তাহে ২-৩ দিন পানির সাথে ভালো মানের মাল্টি-ভিটামিন এবং ক্যালসিয়াম (যেমন: Calplex বা Cal-D-Mag) কোর্স করাতে পারেন।

​৩. নিয়মিত গোসলের ব্যবস্থা করা (Routine Bathing):

মল্টিং-এর সময় কবুতরের সারা শরীরে নতুন পালকের ‘পিন’ বা গোড়া বের হয়, যাতে প্রচণ্ড চুলকানি ও অস্বস্তি হয়।

​করণীয়: সপ্তাহে অন্তত ২ দিন রোদের মধ্যে কবুতরকে গোসলের পানি দিন। গোসলের পানিতে সামান্য পটাসিয়াম পারম্যাঙ্গানেট (পটাশ) বা এপসম সল্ট (Epsom Salt) মিশিয়ে দিতে পারেন। এটি নতুন পালক সহজে বের হতে সাহায্য করে এবং শরীরকে উকুন বা মাইটস মুক্ত রাখে।

​৪. ব্রিডিং বা জোড়া ভাঙা (Resting Period):

মল্টিং চলাকালীন কবুতরের শরীরের সমস্ত শক্তি পালক গজাতে ব্যয় হয়। এই সময়ে ডিম-বাচ্চা নিলে মা-বাবা কবুতর অতিরিক্ত দুর্বল হয়ে প্যারালাইসিস বা অন্য রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

​করণীয়: মল্টিং শুরু হওয়া মাত্রই নর ও মাদি কবুতরকে আলাদা করে দিন (জোড়া ভেঙে দিন)। তাদের অন্তত ১ থেকে ২ মাস সম্পূর্ণ বিশ্রামে রাখুন।

​⚠️ একটি জরুরি সতর্কবার্তা:

​এই সময়ে কবুতর প্রাকৃতিকভাবেই কিছুটা ঝিমিয়ে থাকে এবং ওড়ার গতি কমে যায়। এটি দেখে প্যানিক হয়ে অ্যান্টিবায়োটিক কোর্স করাতে যাবেন না। শুধুমাত্র পুষ্টিকর খাবার, লিভার টনিক এবং মাল্টি-ভিটামিন দিয়েই এই সময়টা পার করতে হবে।

​💬 আপনার লফটের কবুতরের কি পালক ঝরা শুরু হয়েছে? এই সময়ে আপনি কী খাবার খাওয়াচ্ছেন, কমেন্টে আমাদের সাথে শেয়ার করুন!

​🕊️ কবুতরের আধুনিক চিকিৎসা, পুষ্টি ও বৈজ্ঞানিক খামার ব্যবস্থাপনার সঠিক গাইড পেতে Sowad Pigeon Loft পেজটি ফলো দিয়ে রাখুন।

​ #কবুতরের_মল্টিং #পালক_বদলানোর_যত্ন #কবুতর_পালন

🌾 কবুতরের খাবারে ফাঙ্গাস বা ছাতা পড়েছে? জেনে নিন খাবারের সাথে কোন ওষুধ মেশালে কবুতর থাকবে শতভাগ নিরাপদ!​অনেক সময় বাজার থ...
05/07/2026

🌾 কবুতরের খাবারে ফাঙ্গাস বা ছাতা পড়েছে? জেনে নিন খাবারের সাথে কোন ওষুধ মেশালে কবুতর থাকবে শতভাগ নিরাপদ!

​অনেক সময় বাজার থেকে মিক্স খাবার কিনে আনার পর বা ঘরে কয়েকদিন রাখার পর বাতাসে থাকা আর্দ্রতার কারণে খাবারে একধরণের বিষাক্ত ফাঙ্গাস বা মাইকোটক্সিন (Mycotoxin) তৈরি হয়। এই ফাঙ্গাস খালি চোখে সবসময় দেখা যায় না, কিন্তু এটি কবুতরের শরীরে ধীরে ধীরে বিষের মতো কাজ করে লিভার ও ফুসফুস ধ্বংস করে দেয়।

​খাবারকে ফাঙ্গাস ও ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া মুক্ত রাখতে এবং কবুতরের পেট ভালো রাখতে আপনি নিচের ওষুধ ও উপাদানগুলো খাবারের সাথে মিশিয়ে খাওয়াতে পারেন:

​💊 ১. প্রফেশনাল টক্সিন বাইন্ডার (Toxin Binder) — সবচেয়ে কার্যকরী উপায়

​বড় বড় লফটে বা কমার্শিয়াল খামারে খাবারের ফাঙ্গাস ও বিষক্রিয়া দূর করতে টক্সিন বাইন্ডার ব্যবহার করা হয়। এটি পাউডার ফর্মে পাওয়া যায় যা খাবারের সাথে মিশে ফাঙ্গাসের বিষকে নিষ্ক্রিয় করে দেয়।

​ওষুধের নাম: ভেটেরিনারি দোকানের টক্সিনিল পাউডার (Toxinil), মাইকোফিক্স (Mycofix) অথবা জি-প্রোটেক্ট (G-Protect)।

​ব্যবহারের নিয়ম: প্রতি ১ কেজি মিক্স খাবারের সাথে ১ থেকে ২ গ্রাম টক্সিনিল পাউডার খুব ভালো করে মিশিয়ে দিন। খাবার হালকা একটু ময়েশ্চার বা সামান্য কয়েক ফোঁটা তেল দিয়ে মাখিয়ে নিলে পাউডারটি দানার গায়ে সুন্দরভাবে লেগে থাকবে।

​🧄 ২. প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ফাঙ্গাল ও অ্যান্টি-বায়োটিক মিশ্রণ (Home Remedies)

​আপনি যদি কেমিক্যাল বা ওষুধ ব্যবহার করতে না চান, তবে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে খাবারকে জীবাণুমুক্ত করতে পারেন:

​রসুন ও নিম পাউডার: রসুন এবং নিম পাতা প্রাকৃতিকভাবেই শক্তিশালী অ্যান্টি-ফাঙ্গাল এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান। শুকনো নিম পাতা গুঁড়ো এবং রসুনের গুঁড়ো (Garlic Powder) খাবারের সাথে মিশিয়ে দিলে খাবারে কোনো ফাঙ্গাস বা পোকা ধরে না এবং কবুতরের পেটও ভালো থাকে।

​নিয়ম: ১ কেজি খাবারে ৫ গ্রাম নিম বা রসুনের গুঁড়ো মিশিয়ে দিতে পারেন।

​🛢️ ৩. ভালো মানের লিভার টনিকের ব্যবহার (Liver Support)

​খাবারে যদি সামান্য ফাঙ্গাস বা টক্সিন চলেও যায়, তবে কবুতরের লিভার যেন সেটি ধ্বংস করে দিতে পারে, সেজন্য খাবারে লিভার প্রটেক্টর মেশানো যায়।

​ওষুধের নাম: হেপাভিট (Hepavit) অথবা লিভ-৫২ (Liv-52) লিকুইড।

​​নিয়ম: সামান্য একটু লিভার টনিক লিকুইড নিয়ে খাবারের গায়ে ভালো করে মাখিয়ে রোদে শুকিয়ে কবুতরকে খেতে দিতে পারেন। এতে খাবারের পুষ্টিগুণ বাড়ে এবং লিভার সুরক্ষিত থাকে।

​⚠️ খাবার দেওয়ার আগে ৩টি গোল্ডেন টিপস:

​১. খাবার ভালো করে ঝেড়ে নিন: বাজার থেকে আনা খাবার প্রথমে কুলা দিয়ে খুব ভালো করে ঝেড়ে ধুলাবালি ও ময়লা ফেলে দিন। কারণ ধুলার মধ্যেই সবচেয়ে বেশি ফাঙ্গাসের স্পোর থাকে।

২. কড়া রোদে শুকানো: যেকোনো ওষুধ মেশানোর আগে খাবারকে অন্তত একদিন কড়া রোদে ৫-৬ ঘণ্টা শুকিয়ে সম্পূর্ণ ঠাণ্ডা করে নিন। রদের আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি প্রাকৃতিকভাবেই অনেক জীবাণু মেরে ফেলে।

৩. এয়ার-টাইট ড্রাম: খাবার সবসময় প্লাস্টিকের বা টিনের বাতাস ঢুকতে পারে না এমন এয়ার-টাইট ড্রামে সংরক্ষণ করুন।

​💬 আপনি কি আপনার লফটের খাবারে কোনো টক্সিন বাইন্ডার বা প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করেন? আপনার অভিজ্ঞতা কমেন্টে আমাদের জানান!

​🕊️ কবুতরের আধুনিক পুষ্টি ও বৈজ্ঞানিক খামার ব্যবস্থাপনার সঠিক তথ্য পেতে Sowad Pigeon Loft পেজটি ফলো দিয়ে রাখুন।

​ #কবুতরের_খাবার #কবুতর_পালন

🌧️ বর্ষা এসে গেছে! এই স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় আপনার শখের কবুতরগুলো সুস্থ আছে তো?​বর্ষাকাল মানেই লফটে আর্দ্রতা বৃদ্ধি আর নান...
02/07/2026

🌧️ বর্ষা এসে গেছে! এই স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় আপনার শখের কবুতরগুলো সুস্থ আছে তো?

​বর্ষাকাল মানেই লফটে আর্দ্রতা বৃদ্ধি আর নানাবিধ রোগবালাইয়ের আক্রমণ। এই সময়ে সামান্য অসাবধানতার কারণে কবুতরের ঠান্ডা লাগা, কক্সিডিওসিস (রক্ত আমাশয়) কিংবা সালমোনেলার মতো মারাত্মক মহামারী দেখা দিতে পারে। তাই বর্ষার দিনগুলোতে কবুতরকে শতভাগ ফিট রাখতে এই ৪টি জরুরি নিয়ম অবশ্যই মেনে চলুন:

​🛡️ বর্ষাকালে কবুতর সুরক্ষার ৪টি গোল্ডেন রুলস:

​১. লফট ও খাঁচা সম্পূর্ণ শুকনো রাখুন (Keep the Loft Dry):

বর্ষার স্যাঁতসেঁতে বাতাস আর বৃষ্টির ছাঁট লফটের ভেতর ঢুকলে জীবাণু দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে।

​করণীয়: বৃষ্টির সময় লফটের সাটার বা ত্রিপল টেনে দিন যেন ছাঁট ভেতরে না আসে। খাঁচার ট্রে প্রতিদিন পরিষ্কার রাখুন এবং কোনোভাবেই যেন মেঝে ভেজা না থাকে। প্রয়োজনে লফটের মেঝেতে শুকনো চুন ছিটিয়ে দিতে পারেন, যা আর্দ্রতা শুষে নেবে এবং জীবাণু মারবে।

​২. খাবার সংরক্ষণে বিশেষ সতর্কতা (Safe Food Storage):

বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে এই সময়ে কবুতরের মিক্স খাবারে খুব দ্রুত ছত্রাক বা ফাঙ্গাস ধরে যায়। ফাঙ্গাসযুক্ত খাবার খেলে কবুতরের ফুসফুসে ইনফেকশন (Aspergillosis) এবং লিভার নষ্ট হয়ে যায়।

​করণীয়: খাবার সবসময় বাতাস ঢুকতে পারে না এমন এয়ার-টাইট পাত্রে রাখুন। সপ্তাহে অন্তত একবার ভালো রোদে খাবার শুকিয়ে ঠাণ্ডা করে তারপর পাত্রে রাখুন। কবুতরকে দেওয়ার আগে খাবার ভালো করে ঝেড়ে ধুলাবালি পরিষ্কার করে নিন।

​৩. পানির পাত্র ও বিশুদ্ধ পানি (Clean Drinking Water):

বর্ষাকালে পানিবাহিত রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি থাকে।

​করণীয়: প্রতিদিন পানির পাত্র ভালো করে ধুয়ে জীবাণুমুক্ত করুন। কবুতরকে সবসময় ফুটিয়ে ঠাণ্ডা করা পানি অথবা ফিল্টারের পরিষ্কার পানি দিন। সপ্তাহে ১-২ দিন পানির সাথে ২-৩ ফোঁটা অ্যাপেল সিডার ভিনেগার (ACV) মিশিয়ে দিতে পারেন, যা পেটের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করবে।

​৪. প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি (Immunity Boosters):

রোগবালাই থেকে দূরে রাখতে কবুতরের ইমিউনিটি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলা জরুরি।

​করণীয়: বর্ষার দিনে খাবারে তৈলাক্ত বীজ (যেমন: কুসুম ফুল, তিল, তিসি) সামান্য বাড়িয়ে দিন, যা তাদের শরীর গরম রাখবে। এছাড়া সপ্তাহে অন্তত একদিন প্রাকৃতিক অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে রসুন-আদা বা নিম পাতার রস পানিতে মিশিয়ে খাওয়াতে পারেন।

​⚠️ এই সময়ে যা একদমই করবেন না:

​কড়া রোদ না থাকলে এই সময়ে কবুতরকে গোসল করাবেন না। শরীর ভেজা থাকলে দ্রুত ঠান্ডা বসে যাবে।

​লফটের ভেতর বৃষ্টির পানি জমে থাকতে দেবেন না।

​💬 এই বর্ষায় আপনার লফটের কবুতরগুলোর সুস্থতায় বিশেষ কী যত্ন নিচ্ছেন? কোনো সমস্যা দেখা দিলে নিচে কমেন্টে জানান অথবা সরাসরি আমাদের ইনবক্স করুন!

​🕊️ কবুতরের আধুনিক ব্রিডিং ও বৈজ্ঞানিক খামার ব্যবস্থাপনার সঠিক তথ্য পেতে Sowad Pigeon Loft পেজটি ফলো দিয়ে রাখুন।

​ #বর্ষাকালে_কবুতরের_যত্ন #কবুতর_পালন

🦠 লফটে কবুতরের ডানা ঝুলে পড়ছে বা পা অবশ হয়ে যাচ্ছে? সাবধান! এটি মারাত্মক 'সালমোনেলা' রোগ নয় তো?​কবুতর পালনকারীদের জন্য স...
27/06/2026

🦠 লফটে কবুতরের ডানা ঝুলে পড়ছে বা পা অবশ হয়ে যাচ্ছে? সাবধান! এটি মারাত্মক 'সালমোনেলা' রোগ নয় তো?

​কবুতর পালনকারীদের জন্য সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম হলো সালমোনেলা (Salmonella) বা প্যারাটাইফয়েড। এটি একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ। সঠিক সময়ে এর চিকিৎসা না করালে লফটের সব কবুতর একে একে প্যারালাইজড হয়ে মারা যেতে পারে।

​🔍 সালমোনেলা বা প্যারাটাইফয়েডের প্রধান লক্ষণসমূহ:

​১. ডানা ঝুলে পড়া বা জয়েন্ট ফুলে যাওয়া (Wing Paralysis): ব্যাকটেরিয়া কবুতরের ডানার বা পায়ের জয়েন্টে আক্রমণ করে। ফলে জয়েন্ট ফুলে যায়, কবুতর ডানা ঝেড়ে ওপরে তুলতে পারে না (ডানা ভেঙে ঝুলে পড়ে) এবং খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটে।

২. ঘাড় বাঁকা হওয়া (Nervous Signs): রোগটি যখন তীব্র হয়ে মস্তিস্কে আঘাত করে, তখন কবুতরের ঘাড় বাঁকা হয়ে যায় (অনেকে একে তাল্লী বা টাল রোগও ভাবেন)।

৩. সবুজ ও দুর্গন্ধযুক্ত পাতলা পায়খানা: কবুতর খাবার খাওয়া বন্ধ করে দেয়, ঝিমায় এবং চুনের মতো সাদা মিশ্রিত ঘন সবুজ রঙের দুর্গন্ধযুক্ত পাতলা পায়খানা করে।

৪. ডিমের ভেতর বাচ্চা মারা যাওয়া: আক্রান্ত মাদি কবুতরের ডিমের ভেতর ভ্রূণ নষ্ট হয়ে যায় অথবা ডিম ফোটার ১-২ দিনের মধ্যে বাচ্চা মারা যায়।

​💊 সালমোনেলা রোগের সঠিক চিকিৎসা (Treatment Course):

​সালমোনেলা যেহেতু একটি ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন, তাই লক্ষণ দেখা মাত্রই ভালো মানের অ্যান্টিবায়োটিক কোর্স করাতে হবে:

​মূল মেডিসিন: ফ্লোরফেনিকল (Florfenicol), সিপ্রোফ্লক্সাসিন (Ciprofloxacin) অথবা এনরোফ্লক্সাসিন (Enrofloxacin) গ্রুপের ভেটেরিনারি ওষুধ সবচেয়ে ভালো কাজ করে।

​ওষুধের নাম ও ডোজ: ভেটেরিনারি দোকানের Renamycin, Cosumix Plus অথবা Interflox ব্যবহার করতে পারেন। ১ লিটার পানিতে ১ গ্রাম (বা ১ মিলি) ওষুধ মিশিয়ে টানা ৫ থেকে ৭ দিন খাওয়াতে হবে।

​সহায়ক চিকিৎসা: অ্যান্টিবায়োটিক কোর্সের পর কবুতরের লিভার সুরক্ষিত রাখতে ভালো মানের লিভার টনিক (যেমন: Hepavit) এবং শরীরের দুর্বলতা ও প্যারালাইসিস ভাব দূর করতে ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স (যেমন: Thiamine/Thiamin-Plus) খাওয়াতে হবে।

​🛡️ লফট লকডাউন ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা:

​আইসোলেশন: আক্রান্ত কবুতরকে লফট থেকে অবিলম্বে সম্পূর্ণ আলাদা করুন। কারণ এদের মল ও লালার মাধ্যমে পুরো লফটে রোগটি ছড়ায়।

​​জীবাণুনাশক স্প্রে: পুরো লফটের খাঁচা ও মেঝে ভাইরকন-এস (Virkon S) বা টিমসেন দিয়ে প্রতিদিন স্প্রে করে জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

​ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক: লফটকে সারাজীবন সালমোনেলা মুক্ত রাখতে বছরে অন্তত একবার বা দুইবার সুস্থ অবস্থায় কবুতরকে সালমোনেলা ভ্যাকসিন পুশ করুন।

​💬 আপনার লফটে কি কোনো কবুতরের ডানা ঝুলে গেছে বা সবুজ পায়খানা করছে? লক্ষণ কমেন্টে জানান অথবা দ্রুত সমাধানের জন্য সরাসরি ইনবক্স করুন।

​🕊️ কবুতরের রোগবালাই ও আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনার সঠিক গাইডলাইন পেতে Sowad Pigeon Loft পেজটি ফলো দিয়ে রাখুন।

​ #কবুতরের_সালমোনেলা #কবুতরের_চিকিৎসা

🪨 কবুতরের জন্য গ্রিট বা খনিজ মিশ্রণ কেন এত জরুরি? জেনে নিন গ্রিট না খাওয়ালে কী বড় ক্ষতি হতে পারে!​অনেকেই ভাবেন, কবুতরকে ...
25/06/2026

🪨 কবুতরের জন্য গ্রিট বা খনিজ মিশ্রণ কেন এত জরুরি? জেনে নিন গ্রিট না খাওয়ালে কী বড় ক্ষতি হতে পারে!

​অনেকেই ভাবেন, কবুতরকে শুধু ভালো মানের মিক্স খাবার (গম, ভুট্টা, ছোলা) দিলেই বুঝি সব পুষ্টি পাওয়া যায়। কিন্তু আপনি কি জানেন? কবুতরের কিন্তু আমাদের মতো খাবার চিবিয়ে খাওয়ার জন্য কোনো দাঁত নেই! আর এই দাঁতের অভাব পূরণ করে গ্রিট।

​লফটের কবুতরকে খাঁচায় আটকে রাখলে তারা প্রাকৃতিকভাবে মাটি বা কঙ্কর খেতে পারে না। তাই কৃত্রিমভাবে গ্রিট দেওয়া প্রতিটি সফল খামারির জন্য বাধ্যতামূলক।

​🚀 কবুতরের শরীরে গ্রিটের প্রধান ৪টি উপকারিতা:

​১. পাথরকুচি পাকস্থলীর কাজ করে (Perfect Digestion):

কবুতর যখন শক্ত দানা শস্য গিলে খায়, তখন সেই খাবার সরাসরি তাদের পাকস্থলীতে (Gizzard) যায়। গ্রিটের ছোট ছোট পাথরকুচি ও ইটের কণা সেখানে গিয়ে জাঁতাকলের মতো কাজ করে এবং খাবারকে পিষে হজম করতে সাহায্য করে। গ্রিট না পেলে কবুতর বদহজম ও পেটের রোগে ভোগে।

​২. ডিমের খোসা শক্ত ও মজবুত করে (Strong Eggshells):

গ্রিটে থাকা ঝিনুক ও শামুকের গুঁড়ো এবং ডিমের খোসার গুঁড়ো প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম সরবরাহ করে। যা মাদি কবুতরের শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণ করে এবং ডিমের খোসা শক্ত রাখে। ফলে ডিম সহজে ভেঙে যায় না বা নরম ডিম (Unshelled Egg) পাড়ার সমস্যা দূর হয়।

​৩. হাড় মজবুত ও পালক সুন্দর করে (Mineral Boost):

গ্রিটের মধ্যে থাকা খনিজ লবণ, কাঠকয়লা এবং বিভিন্ন মিনারেল কবুতরের হাড়কে শক্তিশালী করে, পালকের গ্লেজ বাড়ায় এবং কবুতরকে চঞ্চল ও কর্মক্ষম রাখে।

​৪. বাচ্চার দ্রুত বৃদ্ধি (Faster Squab Growth):

ব্রিডিং বাচ্চার মা-বাবাকে নিয়মিত গ্রিট খাওয়ালে বাচ্চার হাড়ের গঠন খুব দ্রুত এবং মজবুত হয়। বাচ্চার রিকেটস বা প্যারালাইসিসের মতো হাড়ের রোগ হওয়ার ঝুঁকি থাকে না।

​🧪 ভালো মানের গ্রিটে কী কী উপাদান থাকা উচিত?

​একটি আদর্শ গ্রিটে সাধারণত থাকে— ইটের গুঁড়ো, ঝিনুক-শামুকের খোসার গুঁড়ো, সামুদ্রিক ঝিনুক, কাঠকয়লা (যা পেটের গ্যাস টক্সিন টানে), কালো জিরা, লবণ এবং খনিজ মাটি।

​💡 খাওয়ানোর নিয়ম: লফটে সবসময় একটি ছোট পাত্রে শুকনো ও পরিষ্কার গ্রিট আলাদাভাবে দিয়ে রাখুন। কবুতর তার প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেই এসে ঠুকরে ঠুকরে খাবে। সপ্তাহে অন্তত একবার পুরনো গ্রিট ফেলে নতুন গ্রিট দিন।

​💬 আপনার লফটের কবুতরকে কি নিয়মিত গ্রিট দিচ্ছেন? কোন ব্র্যান্ডের বা কোন নিয়মে খাওয়াচ্ছেন, কমেন্টে আমাদের সাথে শেয়ার করুন!

​🕊️ কবুতরের পুষ্টি ও বৈজ্ঞানিক খামার ব্যবস্থাপনার সঠিক গাইড পেতে Sowad Pigeon Loft পেজটি ফলো দিয়ে রাখুন।

​ #কবুতরের_গ্রিট #কবুতর_পালন

🦠 লফটে বারবার রোগবালাই আসছে? জেনে নিন খাঁচা ও ঘর শতভাগ জীবাণুমুক্ত করার সঠিক নিয়ম!​অনেকেই বলেন, "ভাই, কবুতরকে নিয়মিত ভাল...
25/06/2026

🦠 লফটে বারবার রোগবালাই আসছে? জেনে নিন খাঁচা ও ঘর শতভাগ জীবাণুমুক্ত করার সঠিক নিয়ম!

​অনেকেই বলেন, "ভাই, কবুতরকে নিয়মিত ভালো খাবার দিই, তাও কেন বারবার ঠান্ডা বা পাতলা পায়খানার রোগ লেগেই থাকে?" এর মূল কারণ হলো লফটের ভেতরের জীবাণু! কবুতরের মল, খাবারের ধুলাবালি এবং বাতাসের আর্দ্রতা মিলে খাঁচার কোনায় কোনায় লাখ লাখ ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস বাসা বাঁধে।

​লফটকে রোগমুক্ত রাখতে সপ্তাহে অন্তত ১ বার এই নিয়মে ডিপ ক্লিন এবং জীবাণুমুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি:

​🧼 শতভাগ জীবাণুমুক্ত করার ৩টি সহজ ধাপ:

​ধাপ ১: মেকানিক্যাল ক্লিনিং (শুকনো ময়লা পরিষ্কার)

প্রথমে লফটের সব পানির পাত্র এবং খাবারের বাটি বাইরে বের করে নিন। ট্রের ভেতরের মল এবং মেঝেতে থাকা শুকনো ময়লা স্ক্র্যাপার বা পুটি ছুরি দিয়ে খুব ভালো করে চেঁছে পরিষ্কার করে ফেলুন। (মনে রাখবেন, ময়লা স্তূপ করে রেখে তার ওপর স্প্রে করলে কোনো কাজ হবে না)।

​ধাপ ২: প্রফেশনাল জীবাণুনাশক স্প্রে (Disinfection)

খাঁচা ও লফটের দেয়ালের কোনায় কোনায় স্প্রে করার জন্য ভালো মানের ভেটেরিনারি জীবাণুনাশক ব্যবহার করুন।

​কী ব্যবহার করবেন: ভেটেরিনারি দোকানের ভাইরকন-এস (Virkon S), টিমসেন (Thymsen) অথবা মানুষের ঘরের জন্য পভিসেপ/স্যাভলন লিকুইড ব্যবহার করতে পারেন।

​মিশ্রণ: ১ লিটার পরিষ্কার পানিতে ২ গ্রাম টিমসেন পাউডার অথবা নির্দেশনানুযায়ী ভাইরকন-এস মিশিয়ে ভালো করে ঝাঁকিয়ে একটি স্প্রে বোতলে নিন। এরপর পুরো খাঁচা, ট্রে এবং কাঠের ফ্রেমে খুব ভালো করে স্প্রে করুন।

​ধাপ ৩: পাত্র ও এক্সেসরিজ জীবাণুমুক্তকরণ

খাবারের বাটি এবং পানির পাত্রগুলো শুধু পানি দিয়ে না ধুয়ে, হালকা কুসুম গরম পানিতে সামান্য পটাস (Potassium Permanganate) বা স্যাভলন মিশিয়ে ১০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এরপর ভালো করে মেজে কড়া রোডে শুকিয়ে তারপর লফটে দিন। রোদের আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি প্রাকৃতিকভাবে জীবাণু ধ্বংস করে।

​⚠️ লফট হাইজিন ধরে রাখার গোল্ডেন টিপস:

​১. লফট শুকনো রাখুন: লফটের ভেতরে যেন কোনোভাবেই পানি জমে স্যাঁতসেঁতে না থাকে। আর্দ্র বা ভেজা জায়গায় জীবাণু দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে।

২. পাখির গায়ে স্প্রে: টিমসেন বা ভাইরকন-এস এমন জীবাণুনাশক যা সঠিক ডোজে মেশালে কবুতরের গায়ে বা চোখে লাগলেও কোনো ক্ষতি হয় না। তাই কবুতর খাঁচায় থাকা অবস্থাতেই হালকা স্প্রে করতে পারেন।

৩. চুন ও ব্লিচিং পাউডার: লফটের চারপাশের মেঝে বা ড্রেনের পাশে জীবাণু ও দুর্গন্ধ দূর করতে সপ্তাহে একবার শুকনো চুন ও ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে দিন।

​💬 আপনি আপনার লফট জীবাণুমুক্ত রাখতে কোন স্প্রে বা পদ্ধতি ব্যবহার করেন? কোনো প্রশ্ন থাকলে নিচে কমেন্টে জানান অথবা সরাসরি আমাদের ইনবক্স করুন।

​🕊️ কবুতরের আধুনিক ব্রিডিং ও বৈজ্ঞানিক খামার ব্যবস্থাপনার সঠিক তথ্য পেতে Sowad Pigeon Loft পেজটি ফলো দিয়ে রাখুন।

​ ীবাণুমুক্তকরণ #কবুতর_পালন

কবুতরের ডিম সংরক্ষণ করা বা জমিয়ে রাখা অনেক সময় প্রয়োজন হয়— বিশেষ করে যখন আপনি একাধিক জোড়ার বাচ্চা একসাথে ফোটাতে চান (Fos...
25/06/2026

কবুতরের ডিম সংরক্ষণ করা বা জমিয়ে রাখা অনেক সময় প্রয়োজন হয়— বিশেষ করে যখন আপনি একাধিক জোড়ার বাচ্চা একসাথে ফোটাতে চান (Foster করা) অথবা মাদি কবুতর প্রথম ডিম পাড়ার পর দ্বিতীয় ডিম পাড়া পর্যন্ত প্রথম ডিমটিকে সুরক্ষিত রাখতে চান।

​ডিম ভালো রাখার এবং কতদিন পর্যন্ত উর্বরতা (Fertility) বজায় থাকে, তার বৈজ্ঞানিক ও সঠিক নিয়ম নিচে দেওয়া হলো:

​🥚 কবুতরের ডিম সংরক্ষণের সঠিক নিয়ম

​১. ডিম সংগ্রহের সময়:

মাদি কবুতর সাধারণত প্রথম ডিম পাড়ার পরদিন গ্যাপ দিয়ে তার পরের দিন দ্বিতীয় ডিম পাড়ে। প্রথম ডিমটি পাড়া মাত্রই লফট থেকে সরিয়ে সেখানে একটি নকল বা প্লাস্টিকের ডিম (Dummy Egg) বসিয়ে দিন। এতে কবুতরটি নকল ডিমে তা দেবে এবং প্রথম ডিমটি নষ্ট হবে না।

​২. তাপমাত্রা ও স্থান:

ডিম কখনোই ফ্রিজে রাখবেন না। ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় (২০°C থেকে ২৫°C) কোনো ঠান্ডা, অন্ধকার এবং বাতাস চলাচল করে এমন জায়গায় ডিম রাখুন। অতিরিক্ত গরম বা সরাসরি সূর্যের আলো পড়ে এমন জায়গায় ডিম রাখলে ভেতরের ভ্রূণ নষ্ট হয়ে যাবে।

​৩. ডিম রাখার পজিশন:

ডিম রাখার জন্য একটি ছোট বাটিতে বা প্লাস্টিকের পাত্রে নরম তুলা, কুঁড়ো (ধানের তুষ) অথবা নরম কাপড় বিছিয়ে নিন। ডিমের মোটা অংশটি ওপরের দিকে এবং শূলো বা চিকন অংশটি নিচের দিকে করে খাড়া বা হালকা হেলিয়ে রাখুন। কারণ ডিমের মোটা অংশে এয়ার সেল (Air Cell) থাকে, যা ভ্রূণকে বাঁচিয়ে রাখে।

​৪. ডিম ঘোরানো (Egg Turning):

যদি ডিম একাধিক দিন সংরক্ষণ করতে হয়, তবে প্রতিদিন অন্তত ২ থেকে ৩ বার হাত দিয়ে আলতো করে ডিমের সাইড পরিবর্তন বা ঘুরিয়ে দিন (১৮০ ডিগ্রি)। তা না হলে ডিমের ভেতরের কুসুম একদিকে লেগে কুসুমের পর্দা ফেটে যেতে পারে।

​⏳ কতদিন সংরক্ষণ করলে ডিম উর্বর (Fertile) থাকে?

​সেরা সময় (১ থেকে ৪ দিন): ডিম পাড়ার পর ১ থেকে ৪ দিন পর্যন্ত ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখলে ডিমের উর্বরতা বা ফার্টিলিটি শতভাগ ঠিক থাকে।

​সর্বোচ্চ সময় (৫ থেকে ৭ দিন): খুব বেশি প্রয়োজন হলে আপনি সর্বোচ্চ ৭ দিন পর্যন্ত ডিম সংরক্ষণ করতে পারবেন। তবে ৫ দিনের পর থেকে ডিমের উর্বরতা এবং বাচ্চা ফোটার হার (Hatching Rate) আস্তে আস্তে কমতে শুরু করে।

​৭ দিনের পর: ৭ দিনের বেশি ডিম রেখে দিলে ভেতরের উর্বর কোষগুলো নষ্ট হয়ে যায়, ফলে পরে তা দিলেও ডিম ফুটে বাচ্চা বের হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য হয়ে যায়।

​​বিশেষ টিপস: যখন দ্বিতীয় ডিমটি আসবে, তখন প্লাস্টিকের নকল ডিমটি সরিয়ে আসল দুটি ডিম একসাথে মা-বাবা কবুতরের নিচে তা দেওয়ার জন্য দিয়ে দিন। এতে দুটি বাচ্চাই একসাথে একই দিনে ফুটবে এবং কোনো বাচ্চা ছোট-বড় বা পুষ্টিহীন হবে না।

​ ীবাণুমুক্তকরণ #কবুতর_পালন

👁️ কবুতরের চোখ দিয়ে ময়লা পানি পড়ছে বা চোখ আটকে যাচ্ছে? জেনে নিন এর কারণ ও দ্রুত সমাধান!লফটে অনেক সময় দেখা যায় কবুতরের এক...
17/06/2026

👁️ কবুতরের চোখ দিয়ে ময়লা পানি পড়ছে বা চোখ আটকে যাচ্ছে? জেনে নিন এর কারণ ও দ্রুত সমাধান!

লফটে অনেক সময় দেখা যায় কবুতরের একটি চোখ লাল হয়ে আছে, চোখ দিয়ে অনবরত পানি পড়ছে এবং একপর্যায়ে ময়লা জমে চোখ দুটি পুরোপুরি আটকে গেছে। অনেকে একে সাধারণ চোখ ওঠা মনে করলেও এটি আসলে লফটে বড় ধরনের ইনফেকশন বা তীব্র ঠান্ডার পূর্বলক্ষণ!

🛠️ তাত্ক্ষণিক ঘরোয়া ও মেডিসিন চিকিৎসা:

১. চোখ পরিষ্কার করা: প্রথমে কুসুম গরম পানিতে সামান্য তুলা ভিজিয়ে কবুতরের চোখটি আলতো করে মুছে ভেতরের ময়লা ও পুঁজ পরিষ্কার করে নিন। (কখনোই জোর করে বা শুকনো হাত দিয়ে ঘষবেন না)।

২. ড্রপ ব্যবহার (Eye Drops): ময়লা পরিষ্কার করার পর মানুষের চোখের ডেক্সামিথাসন ও টোব্রামাইসিন গ্রুপের ড্রপ (যেমন: Tobra-D বা Chlorophenicol eye drop) প্রতিদিন সকালে ও রাতে ১ ফোঁটা করে দুই চোখে দিয়ে দিন। (টানা ৩-৫ দিন)।

৩. মূল মেডিসিন কোর্স (Cold Course): চোখ দিয়ে পানি পড়ার মূল কারণ যদি ঠান্ডা বা ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন হয়, তবে পানিতে মিশিয়ে খাওয়ার জন্য ডক্সিসাইক্লিন গ্রুপের ওষুধ (যেমন: ভেটেরিনারি Doxy-A পাউডার) অথবা মানুষের খাওয়ার Doxacap 100mg ব্যবহার করতে পারেন।
ডোজ: ১ লিটার পানিতে ১ গ্রাম পাউডার অথবা ১টি ক্যাপসুলের ৪ ভাগের ১ ভাগ গুঁড়ো করে প্রতিদিন একবার খাওয়াতে হবে (টানা ৫ দিন)।

🛡️ লফট ম্যানেজমেন্ট টিপস (Prevention):
ট্রে শুকনো রাখুন: লফটের ট্রে বা মেঝে প্রতিদিন পরিষ্কার করুন, যেন অ্যামোনিয়া গ্যাস তৈরি হয়ে কবুতরের চোখে লাগতে না পারে।

বাতাস চলাচল (Ventilation): লফটে যেন পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকে। স্যাঁতসেঁতে ও অন্ধকার লফটে এই রোগ বেশি ছড়ায়।

আলাদা খাঁচা: চোখ ওঠা কবুতর খুব দ্রুত অন্য কবুতরের চোখে মুখ ঘষে রোগটি ছড়িয়ে দেয়। তাই আক্রান্ত পাখিকে সাথে সাথে আলাদা (Isolate) করুন।

💬 আপনার লফটের কোনো কবুতরের কি চোখ দিয়ে পানি পড়ছে বা চোখ ফুলে গেছে? লক্ষণ জানিয়ে কমেন্ট করুন বা ইনবক্স করুন।

🕊️ কবুতরের চোখ ওঠা ও জটিল রোগের সঠিক সমাধান পেতে Sowad Pigeon Loft পেজটি ফলো দিয়ে রাখুন।

#কবুতরের_চোখ_ওঠা #কবুতরের_চিকিৎসা

💩 কবুতরের বিষ্ঠা বা মল দেখেই চিনে নিন তার রোগ! জেনে নিন অভিজ্ঞ খামারিদের গোপন ট্রিকস!​কবুতর অসুস্থ হলে মুখে বলতে পারে না...
17/06/2026

💩 কবুতরের বিষ্ঠা বা মল দেখেই চিনে নিন তার রোগ! জেনে নিন অভিজ্ঞ খামারিদের গোপন ট্রিকস!

​কবুতর অসুস্থ হলে মুখে বলতে পারে না, কিন্তু তার বিষ্ঠা বা মলের রং ও আকৃতির পরিবর্তনের মাধ্যমে শরীর খারাপের লক্ষণ প্রকাশ পায়। প্রতিদিন সকালে লফটের ট্রে বা মেঝে পরিষ্কার করার সময় কবুতরের মলের দিকে নজর দিলে আপনি বড় কোনো মহামারি আসার আগেই লফটকে বাঁচিয়ে নিতে পারবেন।

​চলুন জেনে নেওয়া যাক কোন ধরনের মল কোন রোগের লক্ষণ প্রকাশ করে:

​🟢 ১. সবুজ ও চুনার মতো সাদা পায়খানা (Green & Watery White)

​রোগের ইঙ্গিত: এটি লফটের সবচেয়ে মারাত্মক লক্ষণ। সাধারণত রানিখেত (Paramyxovirus/PMV) অথবা তীব্র সালমোনেলা (Salmonella) ইনফেকশন হলে কবুতর এমন গাঢ় সবুজ কিংবা চুনের মতো সাদা পানির মতো পায়খানা করে।

​করণীয়: কবুতরকে সাথে সাথে আলাদা করুন। লক্ষণ বুঝে এন্টিবায়োটিক কোর্স বা স্যালাইন চালু করুন।

​🟡 ২. হলুদ বা হালকা সবুজ আমাশয়যুক্ত মল (Yellowish/Green with Mucus)

​রোগের ইঙ্গিত: মল যদি কিছুটা আঠালো, হলুদ বা আমাশয়ের মতো হয় এবং তীব্র দুর্গন্ধ থাকে, তবে এটি ক্লস্ট্রিডিয়ম বা ই-কোলাই (E. Coli) ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণের লক্ষণ।

​করণীয়: পেটের ইনফেকশন দূর করতে মেট্রোনিডাজল বা এমোক্সিসিলিন গ্রুপের ওষুধ ব্যবহার করতে হয়।

​🟤 ৩. একদম পাতলা পানির মতো বা বাদামী মল (Watery or Brown Droppings)

​রোগের ইঙ্গিত: যদি মলে কোনো শক্ত অংশ না থাকে, শুধু চারপাশ দিয়ে পানি ছড়ানো থাকে, তবে এটি ডিহাইড্রেশন (পানি শূন্যতা), অতিরিক্ত গরমের ধকল কিংবা পেটে কৃমির উপট্রব থাকার লক্ষণ।

​করণীয়: কৃমির কারণে হলে লিভার টনিক দিয়ে কৃমির ফুল কোর্স করাতে হবে। আর গরমের জন্য হলে ইলেকট্রোলাইট ও স্যালাইন দিতে হবে।

​🔴 ৪. মলের সাথে রক্ত বা লালচে ভাব (Bloody Stool)

​রোগের ইঙ্গিত: এটি সাধারণত কক্সিডিওসিস (Coccidiosis) নামক পরজীবীর আক্রমণের কারণে হয়। পেটের ভেতরের চামড়া ছিলে যাওয়ার কারণে মলের সাথে রক্ত আসে।

​করণীয়: এর জন্য দ্রুত কক্সিডিওসিস প্রতিরোধী ওষুধ (যেমন: ESB-3 বা Coxitreat) খাওয়াতে হবে।

​🏆 সুস্থ কবুতরের মলের বৈশিষ্ট্য কেমন?

​একটি সম্পূর্ণ সুস্থ কবুতরের মল হবে ছোট, শক্ত, গোল এবং বাদামী বা গাঢ় সবুজ রঙের, যার ওপর একটি ছোট্ট সাদা টোপর বা ক্যাপের মতো অংশ থাকবে। সুস্থ কবুতরের মলে কোনো দুর্গন্ধ থাকবে না এবং লফটের মেঝেতে সেটি দ্রুত শুকিয়ে যাবে।

​💬 আপনার লফটের কবুতরের মল কি আজকে সকালে চেক করেছেন? কোনো অস্বাভাবিক রং বা পাতলা পায়খানা দেখলে এখনই নিচে কমেন্টে ছবি শেয়ার করুন অথবা ইনবক্স করুন!

​🕊️ কবুতরের রোগবালাই দ্রুত নির্ণয় ও আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনার সঠিক গাইড পেতে Sowad Pigeon Loft পেজটি ফলো দিয়ে রাখুন।

​ #কবুতরের_রোগ_নির্ণয় #কবুতর_পালন

🦟 কবুতরের পক্স বা বসন্ত রোগ নিয়ে দুশ্চিন্তা? জেনে নিন এর কারণ ও সঠিক চিকিৎসা!​গরম এবং বর্ষার এই সময়ে লফটের সবচেয়ে বড় শত্...
17/06/2026

🦟 কবুতরের পক্স বা বসন্ত রোগ নিয়ে দুশ্চিন্তা? জেনে নিন এর কারণ ও সঠিক চিকিৎসা!

​গরম এবং বর্ষার এই সময়ে লফটের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো মশা! আর এই মশার কামড় থেকেই কবুতরের বাচ্চা বা বাড়ন্ত ফ্রিলগুলোর চোখে, ঠোঁটে ও পায়ে ছোট ছোট গুটি বা পক্স দেখা দেয়। এটি একটি ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। মুখ বা গলার ভেতর পক্স হলে কবুতর খাবার গিলতে পারে না এবং একপর্যায়ে না খেয়ে মারা যায়।

​আপনার লফটে কোনো কবুতরের পক্স দেখা দিলে দ্রুত এই পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করুন:

​🚨 ১. আক্রান্ত কবুতরের প্রাথমিক যত্ন (Isolation):

​পক্স আক্রান্ত কবুতরকে লফটের অন্য সুস্থ কবুতর থেকে সাথে সাথে সম্পূর্ণ আলাদা খাঁচায় সরিয়ে ফেলুন।

​কটন বার্ডে সামান্য পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট (পটাস পানি) বা স্যাভলন লাগিয়ে পক্সের গুটিগুলো আলতো করে পরিষ্কার করে দিন। (সাবধান! জোর করে গুটি টেনে তুলতে যাবেন না, এতে রক্তপাত হয়ে ইনফেকশন বেড়ে যাবে)।

​💊 ২. কার্যকরী ওষুধ ও ডোজ (Treatment):

​যেহেতু এটি ভাইরাসজনিত রোগ, তাই এর সরাসরি কোনো অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা নেই। তবে সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন ও ব্যথা কমাতে নিচের ওষুধগুলো দারুণ কাজ করে:

​টিঞ্চার আয়োডিন (Tincture Iodine) বা পভিসেপ (Povicep): পক্সের গুটিগুলো দ্রুত শুকানোর জন্য দিনে ২ বার কটন বার্ড দিয়ে শুধু গুটির ওপর পভিসেপ বা আয়োডিন সলিউশন লাগিয়ে দিন। চোখ ও মুখের ভেতর যেন না যায় সেদিকে খেয়াল রাখবেন।

​হিস্টাসিন (Histacin) বা আলার্টল (Alatrol): চুলকানি ও অ্যালার্জি কমাতে ১টি ট্যাবলেটের ১০ ভাগের ১ ভাগ প্রতিদিন একবার করে ৩-৫ দিন খাওয়ান।

​অ্যামোক্সিসিলিন (Amoxicillin) গ্রুপের ওষুধ: পক্স যদি পেকে যায় বা ইনফেকশন বেশি হয়, তবে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন রোধে ভেটেরিনারি Amovex বা মানুষের Moxiclav 250 ট্যাবলেটের ৮ ভাগের ১ ভাগ দিনে ২ বার করে ৫ দিন খাওয়াতে পারেন।

​🛡️ ৩. সবচেয়ে জরুরি: পক্স প্রতিরোধের উপায় (Prevention):

​মশামুক্ত লফট: লফটে যেন মশা ঢুকতে না পারে সেজন্য মশারির নেট ব্যবহার করুন। মশা তা Jude সন্ধ্যার সময় নিমপাতা পোড়ানো ধোঁয়া দিতে পারেন।

​ভ্যাকসিন বা টিকা: পক্স থেকে বাঁচার একমাত্র স্থায়ী সমাধান হলো পিজিয়ন পক্স ভ্যাকসিন। বাচ্চার বয়স যখন ৪০ থেকে ৪৫ দিন হবে, তখন সুস্থ অবস্থায় এই ভ্যাকসিন দিয়ে রাখুন। ১ বার ভ্যাকসিন দিলে কবুতর ১ বছর পক্স থেকে নিরাপদ থাকে।

​নিমপাতার জল দিয়ে গোসল: সপ্তাহে ১ দিন কবুতরের গোসলের পানিতে নিমপাতা সিদ্ধ পানি মিশিয়ে দিন। এতে মশা বা মাছি কবুতরের শরীরে সহজে বসবে না।

​💬 আপনার লফটের কোনো বাচ্চার কি পক্স বা গুটি দেখা দিয়েছে? কমেন্টে ছবি শেয়ার করুন অথবা বিস্তারিত জানতে সরাসরি ইনবক্স করুন।

​🕊️ কবুতরের আধুনিক চিকিৎসা ও লফট ব্যবস্থাপনার সঠিক তথ্য পেতে Sowad Pigeon Loft পেজটি ফলো দিয়ে রাখুন।

​ #কবুতরের_পক্স #কবুতরের_বসন্ত_রোগ

Address

Shonaimuri
Noakhali Sadar Upazila
3827

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Sowad Pigeon Loft posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category