05/07/2026
🪶 কবুতরের মল্টিং বা পালক ঝরার সিজন শুরু হচ্ছে? জেনে নিন এই সময়ে লফটে কী কী বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি!
কবুতর পালনকারীদের জন্য মল্টিং সিজন বা পালক বদলানোর সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি কোনো রোগ নয়, বরং একটি স্বাভাবিক প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। তবে মনে রাখবেন— নতুন একটি পালক গজানো মানে কবুতরের শরীর থেকে প্রচুর শক্তি, প্রোটিন এবং ক্যালসিয়াম খরচ হওয়া।
এই সময়ে সামান্য অবহেলা করলে নতুন গজানো পালকগুলো বাঁকা বা দুর্বল হতে পারে, যা কবুতরের উড়ন্ত ক্ষমতা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তাই মল্টিং সিজনে আপনার কবুতরকে ফিট রাখতে এই প্রস্তুতিগুলো এখনই নিন:
🚀 মল্টিং সিজনে কবুতর সুরক্ষার ৪টি প্রধান নিয়ম:
১. খাবারে প্রোটিন ও তৈলাক্ত বীজের পরিমাণ বাড়ানো (High Protein Diet):
কবুতরের পালক মূলত কেরাটিন (Keratin) নামক একধরণের প্রোটিন দিয়ে তৈরি। তাই নতুন ও মজবুত পালক গজানোর জন্য এই সময়ে খাবারে প্রোটিনের মাত্রা বাড়াতে হবে।
করণীয়: নিয়মিত মিক্স খাবারের পাশাপাশি খাবারে কুসুম ফুল, তিল, তিসি, সূর্যমুখীর বীজ, গমের কুঁড়ো এবং ছোট চানা বুট (ছোলা)-এর পরিমাণ বাড়িয়ে দিন। তৈলাক্ত বীজগুলো নতুন পালককে মসৃণ, সিল্কি এবং ঝকঝকে করতে সাহায্য করে।
২. ক্যালসিয়াম ও খনিজ উপাদানের জোগান (Essential Minerals):
নতুন পালকের গোড়া শক্ত করতে এবং এই ধকল সামলাতে কবুতরের শরীরে প্রচুর মিনারেল বা খনিজের প্রয়োজন হয়।
করণীয়: লফটে সবসময় ভালো মানের গ্রিট (Grit) বা খনিজ মিশ্রণ আলাদা পাত্রে রাখুন। এছাড়া সপ্তাহে ২-৩ দিন পানির সাথে ভালো মানের মাল্টি-ভিটামিন এবং ক্যালসিয়াম (যেমন: Calplex বা Cal-D-Mag) কোর্স করাতে পারেন।
৩. নিয়মিত গোসলের ব্যবস্থা করা (Routine Bathing):
মল্টিং-এর সময় কবুতরের সারা শরীরে নতুন পালকের ‘পিন’ বা গোড়া বের হয়, যাতে প্রচণ্ড চুলকানি ও অস্বস্তি হয়।
করণীয়: সপ্তাহে অন্তত ২ দিন রোদের মধ্যে কবুতরকে গোসলের পানি দিন। গোসলের পানিতে সামান্য পটাসিয়াম পারম্যাঙ্গানেট (পটাশ) বা এপসম সল্ট (Epsom Salt) মিশিয়ে দিতে পারেন। এটি নতুন পালক সহজে বের হতে সাহায্য করে এবং শরীরকে উকুন বা মাইটস মুক্ত রাখে।
৪. ব্রিডিং বা জোড়া ভাঙা (Resting Period):
মল্টিং চলাকালীন কবুতরের শরীরের সমস্ত শক্তি পালক গজাতে ব্যয় হয়। এই সময়ে ডিম-বাচ্চা নিলে মা-বাবা কবুতর অতিরিক্ত দুর্বল হয়ে প্যারালাইসিস বা অন্য রোগে আক্রান্ত হতে পারে।
করণীয়: মল্টিং শুরু হওয়া মাত্রই নর ও মাদি কবুতরকে আলাদা করে দিন (জোড়া ভেঙে দিন)। তাদের অন্তত ১ থেকে ২ মাস সম্পূর্ণ বিশ্রামে রাখুন।
⚠️ একটি জরুরি সতর্কবার্তা:
এই সময়ে কবুতর প্রাকৃতিকভাবেই কিছুটা ঝিমিয়ে থাকে এবং ওড়ার গতি কমে যায়। এটি দেখে প্যানিক হয়ে অ্যান্টিবায়োটিক কোর্স করাতে যাবেন না। শুধুমাত্র পুষ্টিকর খাবার, লিভার টনিক এবং মাল্টি-ভিটামিন দিয়েই এই সময়টা পার করতে হবে।
💬 আপনার লফটের কবুতরের কি পালক ঝরা শুরু হয়েছে? এই সময়ে আপনি কী খাবার খাওয়াচ্ছেন, কমেন্টে আমাদের সাথে শেয়ার করুন!
🕊️ কবুতরের আধুনিক চিকিৎসা, পুষ্টি ও বৈজ্ঞানিক খামার ব্যবস্থাপনার সঠিক গাইড পেতে Sowad Pigeon Loft পেজটি ফলো দিয়ে রাখুন।
#কবুতরের_মল্টিং #পালক_বদলানোর_যত্ন #কবুতর_পালন