28/12/2020
রুম হিটার বা খাঁচার ভিতরে বাল্ব জ্বালিয়ে পাখির রুম গরম রাখা প্রসঙ্গে।
আমি জেব্রা ফিঞ্চ পালন করি। শীতকাল আসছে, সোস্যাল মিডিয়ায় অনেককেই শৈত্যের-দৈত্যের অহেতুক ভয় ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে, পাখির রুম অপ্রয়োজনে গরম রাখতে। আচ্ছা জেব্রা ফিঞ্চ ঠিক কত নিম্ন তাপমাত্রা পর্যন্ত নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে? ইউরোপিয়ান একটি কেস স্টাডি দেখলাম, ১৩ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা পর্যন্ত ভালোই মানিয়ে নিচ্ছে এবং সর্বোচ্চ ডিম দিয়েছে।
তাহলে আমাদের নাতিশীতোষ্ণ দেশের নাগরিক শীতে এত প্রটেকসন নেয়া কেন? শীতে বাতাসের আদ্রতা এমনিতেই কম থাকে, তাই যারা ফিঞ্চ পাখির খাচায় অপ্রয়োজনে বাল্ব জ্বালিয়ে দিচ্ছেন বা রুম হিটারের ব্যবস্থা করছেন, এমন কি শীতের ভয়ে পাখিকে ন্যুনতম গোসলের ব্যবস্থাও করাচ্ছেন না, তাদেরকে আরো সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। আপনার দেয়া উচ্চতাপীয় ক্ষমতার লাইট বা হিটারই কি ঘরের আদ্রতা কমানোর যথেষ্ঠ কারণ হয়ে যাচ্ছে কি না? যাতে ডিহাইড্রেসনে ভুগে উল্টো অসুস্থ হয়ে যেতে পারে ঘরের সুস্থ পাখিও।
অনেকে খাচার ভিতরেও ৬০ বা ১০০ ওয়াটের বাল্ব জ্বালিয়ে দিচ্ছেন, তাতে বাল্বের আশে-পাশে ৩৫ থেকে ৪০ ডিগ্রী অসহনীয় তাপমাত্রা উঠে যাচ্ছে মুহুর্তেই, লাইটের সুইচ অফ করা মাত্র আবার তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রীতে নেমে আসছে, হঠাৎ ১৫ হতে ২০ ডিগ্রী পার্থক্য এটা পাখির জন্য অসহনীয় হয়ে পড়তে পারে। তাছাড়া অতি উজ্জ্বল আলো রাতে পাখির ঘুমের ব্যঘাত ঘটায়।
লাইট এবং রুমহিটার থাকার পরেও যাদের পাখি অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে, তাদের নতুন করে ভেবে দেখার দাবি রাখে।
শীত লাগা মানেই কিন্তু পাখি অসুস্থ হয় না, দিনে-রাতে যদি কক্ষ তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রী সেলসিয়াসের নিচে ওঠা-নামা করে তবে সেটা ফিঞ্চের জন্য মোটেও সমস্যা নয়, কিন্তু দিনেরাতে তাপমাত্রার হ্রাসবৃদ্ধি ১০ বা ১৫ ডিগ্রী হলে, অথবা তাপমাত্রা ১৪/১৫ ডিগ্রী সেলসিয়াসের এর নিচে নেমে গেলে সেক্ষেত্রে পাখি আর মানিয়ে নিতে পারে না। তখন ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হয়। সেক্ষেত্রে কৃত্রিম তাপীয় ব্যবস্থা নেয়া যায়, তবে সেটা সমগ্র রুমের জন্য, শুধু সুস্থ পাখির খাচার ভিতরে বা কাছাকাছি নয়। যদিও আমাদের আবহাওয়ায় হঠাৎ উচ্চ তাপমাত্রা হ্রাসবৃদ্ধির এমন ঘটনা সচরাচর খুবই কম। তবে সরাসরি শৈত্যপ্রবাহ গায়ে লাগা পাখির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর, তাই তাপমাত্রা কন্ট্রোলের আগে আমাদের প্রয়োজন শীতের বাতাস প্রবাহের প্রটেকসন দেয়া, যাতে পাখির গায়ে সরাসরি তীব্র ঠান্ডা বাতাস না লাগতে পারে।
শীতকালে পাখি প্রাকৃতিকভাবেই শরীরে প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরী করে থাকে, তাকে ঠান্ডার কিছুটা আচ বুঝতে দিন, শীত এসেছে। সকালবেলা হালকা গা ফুলিয়ে থাকা মানেই অসুস্থতা নয়। সম্ভব হলে সপ্তাহে অন্তত ১দিন রৌদ্রস্নানের ব্যবস্থা করানো যায়। পিলেট মিক্সে তৈলবীজ কিছুটা বাড়িয়ে দেয়া যায়। সেই সাথে এগফুড বা সফটফুডে আদা, মধূ, আপেল সাইডার ভিনেগার, কডলিভার এবং অলিভ অয়েল নিয়মিত দেয়া যেতে পারে।
আমার ব্যক্তিগত ব্যবস্থাঃ ব্রিডিং রুমে হঠাৎ তাপমাত্রা নেমে গেলে রুম হিটার দেই মাত্র, বাকি শীতকাল নরমাল টেম্পারেচারেই থাকবে, ১৫ থেকে ১৪ ডিগ্রীতেও আমার কোন টেনসন নেই। বারান্দায় শুধু বাতাস না লাগার জন্য পলিথিন মুড়ে দিয়েছি, কোন টেম্পারেচার প্রটেক্টর নাই। পাখি প্রাকৃতিকভাবেই প্রটেকসন নিচ্ছে, শীত বুঝে অয়েল এন্ড হার্ব সীড বেশী খাচ্ছে। ওদের বুঝতে দিতে হবে যে শীত এসেছে। উপযুক্ত মৌসুম জেনে শীতেই একটানা ব্রীড করাই, শীতকাল বলেই হাড়ি বা বক্সে বেশী সময় কাটাতে পারে ।
যারা না বুঝে শীতকাল নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে, ঘরের তাপমাত্রা কৃত্রিমভাবে গ্রীষ্মকালের কাছাকাছি রাখছে এবং নিয়মিত গোসলের সুবিধাও দিচ্ছে না, তারা পাখির রুমের আদ্রতা কমিয়ে ফেলে পাখিকে নিজের অজান্তেই হয়ত ডিহাইড্রেসনে ঠেলে দিচ্ছে। অতিরিক্ত শুষ্কতায় বিভিন্ন সময় অনেকের পাখি অসুস্থ হবার খবরও পাওয়া যায়। সুস্থ্য পাখিকে ভুল পরামর্শে অসুস্থ বানিয়ে তারপর গাদা-গাদা ঔষধের পরামর্শ নিতে হচ্ছে।
পাখিকে প্রাকৃতিকভাবে যতটা সম্ভব পালন করতে চেষ্টা করুন। উন্নত পুষ্টিমানের আনুপাতিক সিডমিক্স এবং তাজা ফলমূল শাক-সবজী স্প্রাউটেড সীডস ক্যালসিয়াম মিনারেলস খেতে দিয়ে কেমিক্যালস ড্রাগ, এলকোহলিক স্যুডোপ্যাথি এবং বানিজ্যিক ভিটামিনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনুন, প্রায়োগিক ক্ষেত্রে এগুলোর সুষ্ঠু কার্যকারীতা নিয়ে যথেষ্ঠ বিতর্ক আছে। পাখির খাবারের মাধ্যমেই শর্করা আমিষ স্নেহ ভিটামিন এবং মিনারেলের চাহিদা পুরণ হয়ে গেলে, পাখি এমনিতেই সুস্থ্য সবল প্রাণচঞ্চল থাকবে।
সকলের পাখি ভালো থাকুক, সুস্থ্য থাকুক, এমনই কামনা সবসময়।
FINCH SOCIETY Bangladesh
এবং
FSB Treatment & Care গ্রুপের পক্ষে-
Shahadat Hossen Khan