30/09/2026
এই দেশের পলিসি মেকিং আমলারার যারা ম্যাক্সিমামের যোগ্যতা ছিল প্রকৌশলী হওয়ারা তারাই এভাবে এই সেক্টরটাকে সেক্টরটাকে ধ্বংস করে ডিব্বাদের হাতে তুলে দিছে। এই সচিবরা মেধাবীদের মূল্যায়ন বুঝে না?
বুয়েট আর পলিটেকনিক এর মধ্যে পার্থক্য এদের মাথায় নাই?
আজ পেট্রোবাংলার সার্কুলার প্রকাশিত হয়েছে। বিশাল পদের সার্কুলার। ইলেক্ট্রিক্যাল, মেকানিকাল, সিভিল, সিএসই/আইটি, কেমিক্যাল, আইপিই, পেট্রোলিয়াম ডিপার্টমেন্টগুলোর সার্কুলার এসেছে নবম ও দশম উভয় গ্রেডে। কিন্তু এই সার্কুলারে কিছু নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে।
পেট্রোবাংলার ডিসিশন মেকিং বোর্ডে যারা আছে, তারা হয়তো এদেশের ইঞ্জিনিয়ারদের দুচোখে সহ্য করতে পারে না। বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের সাথে ব্যাপক বৈষম্য ও পক্ষপাতমূলক আচরণ প্রকাশ পেয়েছে।
নবম গ্রেড সহকারী প্রকৌশলী পদের সার্কুলারটা ভালো করে খেয়াল করলে দেখা যাবে, এই পদটি বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের সাথে সাথে ডিপ্লোমা টেকনিশিয়ানদের জন্যও ওপেন রাখা হয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে বলা হয়েছে যে, ডিপ্লোমা সনদের সাথে পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা থাকলে, সহকারী প্রকৌশলী পদে এক্সামে বসতে পারবে। এরকম নজিরবিহীন ঘটনা দুনিয়াতে আরো আছে কিনা জানা নেই।
একজন ডিপ্লোমা লেবার-টেকনিশিয়ান, যার কিনা অনার্স সার্টিফিকেট পর্যন্ত নেই, সে পাঁচ বছরের অভিজ্ঞতা দিয়ে দেশের স্বনামধন্য ইঞ্জিনিয়ারিং ভার্সিটি ও ইনস্টিটিউটগুলোর বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের সমমান মর্যাদা পেয়ে যাচ্ছে, এর থেকে হাস্যকর বিষয় আর হতে পারে না! জিনিসটা এমন যে, একটা মেট্রিক পাশ ফার্মেসির দোকানদার পাঁচ বছর দোকানদারি করলে, তাকে ডিরেক্ট মেডিকেল সার্জনের সমমান হিসেবে কাউন্ট করা হচ্ছে! এরকম মূর্খ অশিক্ষিত ডিপ্লোমা লেবাররা কিভাবে ৫ বছরের অভিজ্ঞতায় ইঞ্জিনিয়ারের সমমান মর্যাদা পায়?
আবার পেট্রোবাংলার প্রশাসনের সেই কর্তা-ব্যক্তিরা ১০ম গ্রেড ইঞ্জিনিয়ার পোস্ট ❝উপ-সহকারী প্রকৌশলী❞-এর ১৫০টি পদে ১০০% ডিপ্লোমা কোটা দিয়ে রেখেছে। মানে কি? একটা ডিপ্লোমা টেকনিশিয়ান যদি অভিজ্ঞতা দিয়ে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারের সমমান মর্যাদা পায়, তাহলে একজন বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার ১০ম গ্রেডে কেনো এপ্লাই করতে পারবে না? দেশটা কি মগের মুল্লুক নাকি?
আবার সেই ডিপ্লোমা লেবাররা ৫ বছর উপসহকারী প্রকৌশলী পদে জব করলে, অটোমেটিক সহকারী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পাবে। মানে দেশের ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরটা এক প্রকার অলিখিতভাবে তাদের কাছে বর্গা দিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তাহলে দিনশেষে যেটা দাঁড়ালো -
১. ডিপ্লোমারা অভিজ্ঞতা দিয়ে সহকারী প্রকৌশলী পদে আবেদন করতে পারবে।
২. ১০০% কোটা দিয়ে উপসহকারী প্রকৌশলী পদেও আবেদন করতে পারবে।
৩. আবার উপসহকারী প্রকৌশলী পদে ঢুকে ৪ বছর পর বিনা পরীক্ষায় অটোমেটিক সহকারী প্রকৌশলী হয়ে যাবে।
আর বিএসসি ইঞ্জিনিয়াররা শুধু সহকারী প্রকৌশলী পদের কিছু অংশে আবেদন করতে পারবে। ম্যাক্সিমাম অংশ ঐ লুটেরা ডিপ্লোমা টেকনিশিয়ানদের দখলে। তাহলে এই ইঞ্জিনিয়াররা কোথায় যাবে? ব্যাংক, বিসিএস? আরে এগুলোর জন্য রাষ্ট্র তাদের পিছনে এত এত টাকা খরচ করছে? ফাজলামো নাকি?