26/06/2021
@পোস্ট ২
© জাত, খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা ..... বাজিজ প্যারট সকল তথ্য দেওয়া আছে। আমাদের পোষ্ট দারা যদি আপনি সামান্যতম উপকৃত হন তাহলে দয়া করে একটি লাইক করবেন তাহলে আমরা উৎসাহিত হব এবং আপনাদের কে নতুন নতুন তথ্য জানাতে পারবো।
১.০ : বাজরিগার নামঃ
টিয়া পাখির ঠোঁটের মতো এরা বিভিন্ন নামেরও হয়। যেমন; অ্যালবিনো, লুটিনো বাইল, ডিনিসপাই ও ইংলিশ বাজরিগার। অ্যালবিনো সাদা রংয়ের, লুটিনো বাইল হলুদ রংয়ের লাল চোখবিশিষ্ট। বাজরিগার পৃথিবীর অন্যতম জনপ্রিয় পোষা পাখি। অনেকে লাভবার্ড নামেও জানলে নামটি ভুল৷ কারন লাভবার্ড নামে সম্পূর্ন ভিন্ন প্রজাতির একটি পাখি রয়েছে৷
২.০ : বাজরিগার পাখি চেনার উপায়ঃ
৪ মাস বয়স হলেই নাকের উপরের রং দেখেই সনাক্ত করা হয়। যেমন- পুরুষ পাখির প্রথমে নাকের বর্ণ থাকবে গোলাপি রংয়ের। বয়স বাড়ার সঙ্গে রং হবে নীল। আর স্ত্রী পাখির নাকের বর্ণ হবে সাদা। বয়স বাড়ার সঙ্গে হবে খয়েরি বা চকলেট। স্ত্রী পুরুষ ভেদে ডাকের পার্থক্য দেখেও নির্ণয় করা সম্ভব।
ছোট বড় চেনার উপায় হচ্ছে প্রধানত চোখ দেখে। ছোট পাখির চোখের আকার হবে বড়। বড় হওয়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চোখের আকার হবে ছোট। কারণ বয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত চোখের বৃত্ত তৈরি হয় না। সেই সঙ্গে নাকের বর্ণ হবে গাঢ়।
৩-৪ মাস বয়সের বাজরিগার স্ত্রী না পুরুষ তা চেনা তেমন সহজ নয়। বাজেরিগার পাখি চেনার জন্য কমপক্ষে ৮ মাস লাগে যায় ৷ তারপরেও বেশি কিছু লক্ষণ দেখে বাজরিগারের বয়স চেনা যায়।
২.১ :অল্পবয়স্ক বাজরিগারের কপালে সাধারণত ডোরাকাটা দাগ থাকে। পূর্ণবয়স্ক বাজরিগারের কপালের রং পূর্ণতা পেয়ে ডোরাকাটা দাগ দূর হয়ে যায়।
২.২ : অল্পবয়স্ক বাজরিগারের চোখ বেশ বড় হয়। চোখের মণির চারপাশে কোনো রিং থাকে না। পূর্ণবয়স্ক বাজরিগারের চোখ বেশ ছোট। চোখের মণির চারপাশে রিং তৈরি হয়। আর চোখ ২টি একটু ভিতরে ঢুকে থাকে।
২.৩ : অল্পবয়স্ক বাজরিগারের নাকের ঝিল্লি হয় হালকা গোলাপি। পূর্ণবয়স্ক হলে পুরুষ বাজরিগারের হবে নীল রং। আর পূর্ণবয়স্ক স্ত্রী বাজরিগারের ঝিল্লি রং হবে বাদামি। এখানে ব্যতিক্রমও হতে পারে। সাদা বা হলুদ রংয়ের পূর্ণবয়স্ক পুরুষ বাজরিগারের ঝিল্লির রং হালকা সাদা ও নীলে মেশানো হতে পারে।
২.৪ : অল্পবয়স্ক বাজরিগার পাখির গলার নিচে স্পট বা ফোটা ফোটা দাগ থাকে অস্পষ্ট ও ছোট। পূর্ণবয়স্ক হলে স্পট বা ফোটা ফোটা দাগ হয় স্পষ্ট ও বড়।
ছবিঃ মেল ফিমেল চেনার উপায়
৩.০ : লালন-পালন ও যত্নঃ
৩.১ : খাঁচা ও খাঁচার অবস্থানঃ
আপনারা যারা নতুন বাজরিগার পাখি পালক বা পুষবেন বলে চিন্তা ভাবনা করছেন তাদের জন্য কিছু নিচের কিছু গুরুত্বপূর্ন পরামর্শ জেনে রাখা দরকার। প্রথমত, খাঁচা নানান সাইজের পাওয়া যায়, 18x22x18″সাইজের খাঁচা হচ্ছে উপযুক্ত, সেখানে ২/৪ টি পাখি পালতে পারবেন। তবে সাধারণত ১ জোড়া বাজেরিগার পাখির জন্য খাঁচার সাইজ কমপক্ষে 18x18x18,ব্রিডিং উপযোগী খাঁচার দাম ৩৫০-৪৫০ টাকা, তবে খাঁচার কোয়ালিটির উপর নির্ভর করে আসলে দাম।
পুরুষ ও স্ত্রী পাখি নিয়ে পাখির বয়স ৫ থেকে কমপক্ষে ৬ মাস মধ্যে হলে ভালো। প্রথমত পুরুষ ও স্ত্রী পাখি আলাদা খাঁচায় রাখুন ৪/৫ দিন পর এক খাঁচায় দিয়ে দিন। খাঁচায় দেওয়ার এক থেকে ১ (এক) মাসের মধ্যে হাঁড়ি ঝুলাবেন খাঁচার এক কোণে। বসার লাঠির একপ্রান্ত হাঁড়ির মুখের কাছাকাছি দিবেন আর লাঠিটি নিমের ডাল হলে সবচেয়ে ভালো হয়। খাবারের প্ল্যাস্টিকের / টিনের পাত্র পাওয়া যায়, পানির ফিল্টার পাওয়া যায় বাজারে, কিনে খাঁচায় লাগিয়ে দিন। খেলা ধুলার জন্য ছোট্ট দোলনা বা ছোট আয়না জুলিয়ে দিতে পারেন খাঁচায়।
আপনি হয়তো পাখির খাঁচা আপনার ঘরের বা বারান্দায় ফ্লোরে রেখেছেন, এতে পাখি ভয় পায়। খাঁচা কমপক্ষে ফ্লোরে থেকে ২.৫ ফুট উপরে রাখতে হবে। এখন বলতে পারেন অনেক ব্রীডার ফ্লোর থেকে উপর পর্যন্ত পাখি রাখে। একসাথে অনেক পাখি থাকলে পাখি সহজেই পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেয়, তখন ফ্লোরে পাখি ভয় পায় না । নতুন পাখি কিনার পর বার বার পাখির খাঁচা বা জায়গা পরিবর্তন করা মোটেই ঠিক হবে না। পাখিকে অল্প আলো বা স্যাঁতস্যাঁতে স্থানে রাখা যাবে না।
৩.২ : খাঁচা নিয়মিত পরিষ্কার না করাঃ
আপনি হয়তো পাখির খাঁচা নিয়মিত পরিষ্কার করেন না। স্বাভাবিকভাবেই এতে খাঁচা নোংরা হয়। আর নোংরা জায়গাতেই রোগ জীবাণু জন্মায়। তাই অবশ্যই নিয়মিত (সম্ভব হলে প্রতিদিন) খাঁচা পরিষ্কার করতে হবে। মাঝে মাঝে খাঁচা সম্ভব হলে কড়া রোদে খাঁচা রাখা উচিত। তাহলে খাঁচাতে রোগ জীবাণু জন্মাতে পারবে না।
সর্বপরি, পাখি পালনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ধৈর্য্যশীল হওয়া। কারন পাখি কোন যন্ত্র নয় যে নির্দিষ্ট সময় পর পর ফলাফল দিবে। পাখি আপনার আমার মত একটি প্রাণী। আমাদের মত পাখিরও ভাল লাগা খারাপ লাগা আছে। মানুষের যেমন বিয়ের কিছুদিন পর বাচ্চা হয় না বা বিয়ের ১ বছরের মাথায় সকল দম্পতির বাচ্চা জন্ম হয় না, ঠিক তেমনি পাখিরও জোড়া দিলে সাথে সাথেই ডিম দিবে বা সারা বছর একের পর এক ডিম দিবে এটা ভাবা কিন্তু সম্পূর্ণ ভুল। পাখি যখন স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, সঙ্গী পছন্দ হয়, বাসা, বক্স বা কলসি পছন্দ হয়, শরীর ঠিক থাকে তখনই ডিম দেয়। আর বাজি বছরে ২/৩ বারের বেশি ডিম দেয় না। তাই অবশ্যই অবশ্যই পাখি পালনের ক্ষেত্রে আপনাকে ধৈর্য্যশীল হতে হবে, নতুবা আপনি ভাল ফলাফল আশা করতে পারবেন না।
৪.০ : আদর্শ খাবারঃ
প্রতিদিন বাজরিগার এর খাবার বা সিডমিক্স এ কি কি থাকতে পারে এবং কি পরিমানে থাকতে পারে আর অন্যান্য কি খাবার দেয়া যেতে পারে এর তালিকায় ৫ কেজি খাবারের মিশ্রণের উপকরণ এবং পরিমাণঃ
৪.১ : কাউন-৩ কেজি
৪.২ : চিনাঃ ০.৫ কেজি
৪.৩ : গুজি তিলঃ ০.২৫ কেজি
৪.৪ : পোলাও চালের ধানঃ ১ কেজি
৪.৫ : ক্যানারি সিডঃ ০.২৫ কেজি
এগুলার বাইরে অন্যকিছু দরকার নেই, সূর্যমুখির বীজ বারজিগার কে দেয়া উচিত নয় কারণ এটা বাজরিগারের এর শরীরে ফ্যাট বাড়ায় এবং অস্বাস্থকর।
৪.৬ : অন্যান্য খাবারঃ
ক্যাটল ফিস বোন (সামুদ্রিক ফেনা), আপেল সিডার, সিদ্ধ ডিম,পালং শাক,কলমি মিনারেল ব্লক, মুগডাল ভেজানো, গম ভেজানো, কচি ভুট্টা বা ভুট্টা ভাঙ্গা সিদ্ধ, সজনে পাতা, নিম পাতা, এলোভেরা (গরমের দিনে), মধু ও আদা-তুলশি (শীতকালে), মেল ওয়ার্ম, রসুন।
৫.০ : ডিম পাড়ার সময়ঃ
বাজরিগার ৮ মাস বয়সেই ব্রিডিং করার জন্য উপযুক্ত হলেও সুস্বাস্থ আর ভালো বাচ্চা পাওয়ার জন্য ব্রিডিং করানোর জন্য ১ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিৎ। কিছু কিছু স্ত্রী বাজেরিগার আছে যারা সঠিক সময় বা মেটিং না থাকলেও হরমোনের প্রভাবে নিজেদের স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল না করে অনবরত বংশবিস্তার করে যায়। এর ফলে এগ বাইন্ডিং, ডিমের ভেতরে বাচ্চা মারা যাওয়া, ফ্রেঞ্চ মল্টিং সহ নানা সমস্যা দেখা যায়। বাচ্চা পালন করার কাজটা করে থাকে পুরুষ পাখি কিন্তু ডিম পাড়ার সিদ্ধান্তটা আসে স্ত্রী পাখির কাছ থেকে। তাই পাখির ডিম পাড়ার লক্ষণ , পাখির ডিম পাড়ার প্রভাবক বা কি কি বিষয় পাখিকে ডিম পাড়ায় উৎসাহিত করে এবং অসময়ে পাখি যদি ডিম পাড়তে চায় কিভাবে তা থেকে বিরত করা যায় তা জানা প্রয়োজন।
৫.১ : লক্ষন সমূহঃ
৫.১.১ : সেয়ার (cere) এর রঙ সাদা থেকে ধীরে ধীরে বাদামী রঙ্গে রূপান্তরিত হবে।
৫.১.২: শরীরে হরমোনের প্রভাবে সে আগ্রাসী ও স্থানাভাবাপন্ন হয়ে ঊঠবে। তার ভিতর সবসময় তার বাসাকে রক্ষার একটা প্রবনতা দেখা যাবে।
৫.১.৩ : অতিরিক্ত চর্বণঃ প্রকৃতিতে স্ত্রী পাখি তার বাসা বড় এবং ফাঁপা বানানোর জন্য কামড়াতে থাকে এবং বাসা থেকে ময়লা ফেলে দেয়। আর খাঁচায় সে হাড়ির প্রবেশ পথ কামড়াতে থাকে এবং খাবারের বাটি থেকে খাবার ফেলে দিতে থাকে।
৫.১.৪ : সে কিছুটা অন্ধকার, আরামদায়ক জায়গায় বেশি সময় কাটাবে।
৫.১.৫ : যে স্ত্রী পাখি খুব একটা বেশি মিনারেল ব্লক না ক্যাটলফিস বোন খায় না, সে একেবারে একটা পুরো খেয়ে শেষ করে ফেলবে ডিম পাড়ার আগে ক্যালসিয়ামের অভাব পূরণ করার জন্য।
৫.২ : প্রভাবক বিষয়সমূহঃ
৫.২.১ : প্রকৃতিতে বর্ষাকালে যখন দিনের বেলায় আলো দীর্ঘ সময় ধরে থাকে তখন স্ত্রী পাখি বেশি সময় ধরে বাচ্চাদের জন্য খাবার খুঁজতে পারে এবং সেই সময়টাতেই সে ডিম পাড়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকে। খাঁচায়ও এই একই ঘটনা ঘটে।
৫.২.২ : উচ্চ মাত্রার প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার তাদের ডিম পাড়ার প্রবৃত্তিকে প্রভাবিত করে।
৫.২.৩ : ভালো কোন বাসা পেলে তারা ডিম পাড়ার জন্য উৎসাহিত বোধ করে।
৫.২.৪ : ব্রিডিং এর জন্য নিরাপত্তা অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। তাই যখন স্ত্রী পাখিটি নিরাপদ বোধ করবে তখন সে ডিম পাড়ার জন্য আগ্রহী হবে।
৫.২.৫ : মোল্টিং ( স্বাভাবিক ভাবে পাখির পালক ঝরে যাওয়া ) এর পর একটা স্ত্রী পাখি তার পূর্ণ শারীরিক ক্ষমতায় থাকে, এর সাথে সাথে তার ভিতর ব্রিডিং এর পূর্বলক্ষন গুলো প্রকাশ পেতে শুরু করে।
৫.৩ : ব্রিডিং প্রতিরোধক ব্যবস্থাঃ
অপরিণত বয়সে ব্রিডিং এড়াতে বা ঘন ঘন বাচ্চা দেয়া এড়াতে আপনাকে অবশ্যই পেয়ার বা জোড়া গুলোকে বিশ্রাম দিতে হবে। তাই অনাকাঙ্খিত ব্রিডিং এড়ানোর কিছু কিছু পদ্ধতি আছে যেমনঃ
৫.৩.১ : দিনের আলোক সময় কমিয়ে দেয়া। পাখির ঘরে পর্দার ব্যবস্থা থাকলে ভালো। এতে পর্দা টেনে দিয়ে পাখির ঘর অন্ধকারাচ্ছন্ন করে দেয়া যায়। দিন ছোট হলে স্ত্রী পাখি ডিম দিতে অনুৎসাহিত হবে।
৫.৩.২ :পাখিকে উচ্চ মাত্রার প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার না দিয়ে শাক-সবজী, ফলমূল ইত্যাদি খাবার বেশি দিতে হবে।
৫.৩.৩ :পাখির থাকার জায়গা/পরিবেশ পরিবর্তন করাটাও একটা সহজ পদ্ধতি। যেমন পাখির খাঁচার বসার কাঠি গুলো বদলে দেয়া, খাঁচায় নতুন কোন খেলনা দেয়া, বা খাঁচা অন্যত্র সরিয়ে নেয়া ইত্যাদি। নতুন পরিবেশে গেলে পাখি থিতু না হওয়া পর্যন্ত ব্রিডিং অবস্থায় আসবে না। সোজা কথা হল তার পরিচিত পরিবেশ পাল্টে দিতে হবে।
৫.৩.৪ :স্ত্রী-পুরুষ আলাদা করে রাখা হল আরেকটি সহজ পদ্ধতি। তার পরেও কিছু কিছু স্ত্রী পাখি ডিম দিয়ে দিতে পারে, সেক্ষেত্রে সেগুলো ফেলে দিতে হবে। কারন সেগুলো থেকে বাচ্চা ফুটবে না।
৬.০ মিউটেশন ও জেনেটিক্সঃ
পরিব্যক্তি বা মিউটেশন (ইংরেজি:Mutation) হল কোষ জিনোমের ডিএনএ গঠনের স্থায়ী পরিবর্তন। ডিএনএ রেপ্লিকেশনের সময়, (বিশেষ করে মিয়োসিস কোষ বিভাজনে) ভ্রান্তি ফলাফল পরিব্যাপ্তি বা মিউটেশন। এছাড়াও কোন কারণে ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্থ হলে (যেমনঃ রেডিয়েশন বা কারসিনোজেনের প্রভাবে) ডিএনএ রিপেয়ার ভুল সিকোয়েন্সে হওয়ার সুযোগ থাকে। ডিএনএ রেপ্লিকেশনের সময় (ট্রান্সলেসন সিন্থেসিস) ভুলের কারণেও মিউটেশন দেখা দেয়। এছাড়াও ডিএনএতে বাইরের কোন উপাদানের মাধ্যমে সিকুয়েন্সে নতুন উপাদান যুক্ত অথবা মুছে ফেলার দরুনও মিউটেশন সংঘটিত হতে পারে।
৬.১ : প্রকারভেদ: মিউটেশন সাধারণত পাঁচ ধরনের হয়।
৬.১.১ : Insertion or Delation ( এখানে কোন ডিএনএ এর ভিতরে অন্য কোন নিউক্লিওটাইড সিকোয়েন্সের প্রবেশ ঘটে অথবা কোন নিউক্লিওটাইড সিকোয়েন্স বাদ পড়ে যায়)
৬.১.২ :Duplication (এখানে কোন নিউক্লিওটাইড সিক্যুয়েন্সের অনুরূপ কপি তৈরি হয় এবং ডি এন এর সাথে জুড়ে যায়)
৬.১.৩ :Translocation (এখানে দুইটি ডিএনএ স্ট্যান্ড এর মধ্যে কোন নিউক্লিওটাইড সিকোয়েন্সের অংশ বিনিময় হয়)
৬.১.৪ :Inversion (এখানে একটি নিউক্লিওটাইড সিকোয়েন্স ভেঙে যায় এবং সে পূর্বে যে অবস্থায় ছিল ঠিক তার বিপরীত অবস্থায় পুনরায় ডি এন এ এর সাথে লেগে যায়)
৬.১.৫ :Nondisjunction (মিয়োসিস কোষ বিভাজনের সময় ক্রোমোজোম সমুহ যদি ঠিক ভাবে আলাদা হতে না পারে তখন এ ধরনের প্রকরণ দেখা যায়)
৬.২ : কিন্তু বাজেরিগার পাখির মিউটেশনকে প্রধানত ৩ ভাগে ভাগ করা যায়-
৬.২.১ : ডমিনেন্ট মিউটেশন
৬.২.২ :রিসেসিভ মিউটেশন
৬.২.৩ :সেক্স লিঙ্কড মিউটেশন
৬.৩ : এছাড়া বাজেরিগার পাখির মিউটেশনকে আরও বিভিন্নভাবে ভাগ করা যায়। যেমন শরীরের রঙের ভিন্নতার জন্য ৩টি মিউটেশন-
৬.৩.১ : ডার্ক ফ্যাক্টর (Dark Factor)
৬.৩.২ :গ্রে ফ্যাক্টর (Grey Factor)
৬.৩.৩ :ভাওলেট ফ্যাক্টর (Violet Factor)
৬.৪ আবার নীল বাজেরিগার পাখির মাথার রঙের ভিন্নতার জন্য ৩টি মিউটেশন-
৬.৪.১ : ইয়োলো ফেস-১ (Yellow Face-1)
৬.৪.২ :ইয়োলো ফেস-২ (Yellow Face-2)
৬.৪.৩ :গোল্ডেন ফেস (Golden Face)
৬.৫ : ধূসর বা গ্রে মার্কিং -এর জন্য ৪টি মিউটেশন-
৬.৫.১ : ক্লিয়ার উইং (Clearwing)
৬.৫.১ : গ্রেউইং (Greywing)
৬.৫.১ : ডাইলিউট (Dilute)
৬.৫.১ : ফুল বডি গ্রেউইং (FBG)
৬.৬ : বাদামী বা ব্রাউন মার্কিং -এর জন্য ৫টি মিউটেশন-
৬.৬.১ : জার্মান ফ্যালো (German Fallow)
৬.৬.২ : ইংলিশ ফ্যালো (English Fallow)
৬.৬.৩ :স্কটিশ ফ্যালো (Scotish Fallow)
৬.৬.৪ :ছিনামন (Cinnamon)
৬.৬.৫ :লেইস উইং (Lace Wing)
৬.৭ : ডানায় কোন রকম মার্কিং ছাড়া রয়েছে ৩টি মিউটেশন-
৬.৭.১ : ইনো (Ino)
৬.৭.২ : ডি এফ স্প্যাঙ্গেল (DF Spangle)
৬.৭.৩ : ডার্ক আইড ক্লিয়ার (Dark Eyed Clear)
৬.৮ : রুবি বা লাল রঙের চোখেরও আছে আবার ৫টি মিউটেশন-
৬.৮.১ : ইনো (Ino)
৬.৮.২ : জার্মান ফ্যালো (German Fallow)
৬.৮.৩ : ইংলিশ ফ্যালো (English Fallow)
৬.৮.৪ : স্কটিশ ফ্যালো (Scotish Fallow)
৬.৮.৫ : লেইস উইং (Lace Wing)
৬.৯ : পাইড বজেরিগারের আছে ৩টি মিউটেশন-
৬.৯.১ : ডমিনেন্ট পাইড (Dominant Pied)
৬.৯.২ : ক্লিয়ার ফ্লাইট পাইড (Clear Flight Pied)
৬.৯.৩ : রিসেসিভ পাইড (Recessive Pied)
৬.১০ : ক্লিয়ার বডি আছে ২ মিউটেশনের-
৬.১০.১ : ইজিলি ক্লিয়ার বডি-ইসিবি (Easley Clear Body-ECB)
৬.১০.২ : টেক্সাস ক্লিয়ার বডি-টিসিবি (Texas Clear Body-TCB)
এছাড়াও রয়েছে আরও কিছু মিউটেশন-
স্প্যাঙ্গেল (Spangle)
অপালিন (Opaline)
ক্রেষ্টেড (Crested)
জাপানিজ ক্রেষ্টেড (Japanese Crested)
ইংলিশ বাজেরিগার (English Budgerigar)
ব্লাক ফেস (Black Face)
ব্লাক উইং (Black Wing)
ডার্ক উইং (Darkwing)
উপরের সব মিউটেশন ছাড়াও রয়েছে দুই বা ততোধিক মিউটেশনের সমন্বয়ে গঠিত কম্পোজিট৷ কিছু জনপ্রিয় কম্পোসাইট হল-
রেইনবো (Rainbow)
ফুল বডি গ্রেউইং (FBG)
লেইস উইং (Lace Wing)
ডার্ক আইড ক্লিয়ার (Dark Eyed Clear)
স্বীকৃতিপ্রাপ্ত মিউটেশন গুলার নামের তালিকাঃ
যেহেতু একটি পাখিতে একি সাথে অনেকগুলো মিউটেশন থাকে ফলে পাখির সম্পূর্ণ মিউটেশন লিখলে সেটি অনেক বড় হয়ে যায়। তাই এখন বেশিরভাগ ব্রিডাররা মিউটেশনগুলোর সংক্ষিপ্ত নাম ব্যবহার করেন। নিচে বাজেরিগারের মিউটেশনগুলোর সংক্ষিপ্ত এবং সম্পূর্ণ নামের তালিকা দেওয়া হলঃ
৭.০ : পাখির দাম
বাজরিকা পাখি মিউটেসন এর উপর দাম নির্ভর করে, কিন্তু ৯ মাস বয়সের বাজরিকা পাখি ১১০০ থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে এক জোড়া পেয়ে যাবেন। বাজরিকা পাখি বছরে ৮/৯ বার ডিম বাচ্চা করে। আর বাজরিকা পাখির বাচ্চা প্রায় ৩০০ টাকা জোড়া পেয়ে যাবেন। বাজরিকা পাখির মিউটেসন এর প্রভাবে এক জোড়া পাখি ১৫,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকাও হয়।
৮.০ : রোগ ও রোগের চিকিৎসাঃ
বাজেরিগার পাখিরা তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী প্রাণী, কিন্তু এখনও বিভিন্ন রোগের শিকার হতে পারে। আপনার সর্বদা উচিত একজন পশু চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে কিংবা ঘরোয়াভাবে পাখির যথাযথ যত্ন নেয়া। বাজরিগার পাখির মালিক হিসেবে আপনার উচিত অসুস্থ পাখিকে শনাক্ত করে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া। নিচে বাজরিগার পাখির রোগ ও লক্ষণগুলো তালিকাভুক্ত করা হলো
কোষ্ঠকাঠিন্যঃ কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা যায় প্রায় সব পাখিদের মধ্যে। পাখির হজম প্রক্রিয়ায় যখন সমস্যা সৃষ্টি হয় তখনই কোষ্ঠকাঠিন্য হয়ে থাকে।
লক্ষনঃ
পাখির মল ছোট আকৃতির ও শক্ত হবে, অনেক সময় পাখির মলত্যাগ করতে কষ্ট হয়, চোখে ঘুম আসে, মল শক্ত হয় বলে অনেক সময় পায়ু পথে লেগে থাকে বলে পায়ু পথ বন্ধ হয়ে যায় এর ফলে পাখি দুর্বল হয়ে পড়ে।
চিকিৎসাঃ
পাখিকে এই সময় ভিটামিন বি কমপ্লেক্স পানির সাথে মিশিয়ে খেতে দিতে হবে এবং প্রচুর শাক সবজি খেতে দিতে হবে, যতদিন ভালো না হয় ততদিন। পাখির মল যদি পায়ু পথে লেগে থাকে তাহলে হাল্কা গরম কুসুম জল দিয়ে এক টুকরা তুলা দিয়ে পায়ু পথ পরিস্কার করে দিয়ে ভ্যাসলিন বা ওলিভ ওয়েল লাগিয়ে দিতে হবে।
কৃমিনাশকঃ পাখিকে ৩ মাস বয়সে প্রথম কৃমিনাশক ঔষধ প্রদান করতে হবে, এবং প্রতি ৩ মাস পরপর কৃমিনাশক ঔষধ প্রদান করতে হবে।
লক্ষনঃ
অনেক দিন ধরে পাতলা পায়খানা, বেশি পানি পান করা, ডানা ঝুলে যাওয়া, ওজন কমে গিয়ে বুকের হাড্ডি বের হয়ে আসা, চুপচাপ বসে থাকা শুধু খাওয়ার সময় উঠা, উৎপাদন কম হয়া, ডিম না দেয়া, পায়াখানার সাথে ক্রিমি আসা বা পরা ।
চিকিৎসাঃ
ঔষধ ও ঔষধ তৈরির নিয়মাবলি ও পরিমাপঃ Elcaris vet(square),Poulnex (Novartis), Avinex(Reneta) যেকোন একটি ১ লিটার পানিতে ২ গ্রাম ঔষধ মিশিয়ে অই পানি প্রতি কবুতরকে ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় খালি পেটে ১০ মিলি করে ড্রপ দিয়ে খাইয়ে দিন । দৈহিক ওজন ৩০০-৫০০ গ্রাম হলে ১৫-২০ মিলি করে খাওয়ান ।
কেনকারঃ
এটি সাধারন কবুতর, ফ্রিঞ্চ, ক্যানারী, ককাটেল এর হয়ে থাকে, বাজরীগারে হওয়ার সম্ভবনা একটু কম। এই সময় রোগের কারন হচ্ছে মাইক্রোস্কোপিক প্রোটজয়া নামক জীবাণু।
লক্ষনঃ
এই রোগের লক্ষন পাখির শ্বাস প্রক্রিয়ার সাথে সংজুক্ত। এই রোগে আক্রান্ত পাখির বমি হয়, মুখ দিয়ে ফেনা বের হয়, পাখি দূর্বল হয়ে পড়ে, ওজন হ্রাস পায়, বেশির ভাগ সময় চোখ বন্ধ করে রাখে।
চিকিৎসাঃ
Metronidazole, রনিদাজল, এন্টিবায়োটিক খুবি কার্যক্রী ভূমিকা পালন করে।
চোখের প্রদাহঃ এটি একটি সাধারন সমস্যা। প্রায় স পাখিরি এই সমস্যার স্মমুখীন হয়ে থাকে। সাধারন চোখে ঠান্ডা লাগ্লে বা জীবানু অথবা ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হলে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়।
লক্ষনঃ
চোখের স্বাভাবিক চুলকানি বেড়ে যায়, চোখে পানি চলে আসে, চোখ বন্ধ করে রাখে, অলসতা বৃদ্ধি পায়, চোখের উপরো ও নিচের পাতা ফুলে যায়, খাওয়া দাওয়ার প্রতি অনীহা, দুর্বলতা বৃদ্ধি পায় এবং ওজন হ্রাস পায়।
চিকিৎসাঃ
এই সময় পাখিকে Doxycyline-10% এ (চোখের ঠান্ডা দূর করার জন্য) এবং Riboflavin (B2) (চোখের চুলকানি ও জ্বালা যন্ত্রনা কমানোর জন্য) এবং দিতে হবে। এছাড়া পাখিকে রেনামাইসিন আই ওয়েনমেন্ট (যেকোন মানুষের ঔষধের দোকানে পাওয়া যায়) প্রথম তিনদিনে চারবার পরের দুই দিন ২ বার এবং পরের ২ দিন দিনে একবার করে আক্রান্ত চোখে লাগিয়ে দিতে হবে। অথবা সিপ্রোসিন আই ড্রপ (যেকোন মানুষের ঔষধের দোকানে পাওয়া যায়) ব্যবহার করা যায়। প্রথম ৩ দিন ৪ বার, পরের ২ দিন ২ বার, পরের ২ দিন ১ বার করে দিতে হবে।
ঠান্ডা লাগাঃ পাখিদের ঠান্ডা লাগা একটি সাধারন রোগ সব পাখিরি ঠান্ডা লাগতেই পারে।
কারনঃ
হঠাৎ তাপমাত্রার পরিবর্তন হলে, হঠাৎ বৃষ্টি হলে, বাতাসের আদ্রতার প্রমান বেরে গেলে, মোল্টিং বা পালক বদলানোর সময় বা পাখিকে সারা বাতাসের স্পর্শে রাখলে।
লক্ষনঃ
পাখির ঠান্ডা লাগলে পাখি ক্রমাগত নাক দিয়ে আওয়াজ করতে থাকে ও মাথা নাড়াতে থাকে এবং খুব জোরে মাথা নাড়ানোর সাথে সাথে নাক দিয়ে জলের মত সর্দি বেরতে থাকে। যেহেতু এই সময় পাখির নাক বন্ধ হয়ে যায় সেজন্য মুখ দিয়ে শ্বাস নেয়। চোখের উপর ও নিচের পাতা হুলে যেতে পারে, চোখের ভিতর পানি চলে আসে, চোখের পাতা প্রায় বন্ধ হয়ে আসে। খাবার প্রতি পাখির আগ্রহ কমে যায়।
চিকিৎসাঃ
যে পাখির ঠান্ডা লেগেছে তাকে বাল্বের আলো দিয়ে আলাদা করে রাখতে হবে, জতক্ষন তার ঠান্দা লাগার উপসর্গগুলো দূর না হয় (তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের জাতে কম না হয়)। পাখিকে হাল্কা কুসুম গরম পানিতে মাল্টিভিটামিন এবং মধু দেয়া যেতে পারে। এছাড়া কিছু এন্টিবায়টিক ঠান্ডার জন্য দেয়া যেতে পারে যেমন- Enrofloxacin, Doxycycline 10%, Ciprofloxacin এই এন্টিবায়টিক গুলোর যে কোন একটি হাল্কা কুসুম গরম পানির সাথে (প্রতি ১ লিটারে ১ গ্রাম) মিশিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
আমাশয়ঃ রক্ত আমাশয় প্রটোজোয়া আইমেরিয়া নামক জীবানু দ্বারা সৃষ্ট। এই রোগের লক্ষন দেখতে অনেক টা ঠান্ডা লাগার মত দেখতে মনে হয়।
লক্ষনঃ
তরল মল যাওয়া, পাখি পশম ফুলিয়ে বসে থাকে, ওজন হ্রাস পায়, চুপচাপ বসে থাকা এবং কিছুক্ষন পরপর স্রীর ঝাকুনি দেয়, আঠালো দুর্গন্ধযুক্ত পাতলা পায়খানা, মলের সাথে রক্ত যায় এবং হঠাৎ মৃত্যু হোয়া, বেশিক্ষন খাচার নিচে এক কোনে বিশ্রাম নেয়া। এই সব লক্ষন রক্ত আমাশয়ের।
চিকিৎসাঃ
Trimethoprim, Cotrimvet sus pension, ESB 30%, Sulphadimidine এর যে কোন একটি এন্টিবায়টিক হালকা কুসুম গরম পানির সাথে (প্রতি ১ লিটারে ১ গ্রাম) মিশিয়ে দিতে হবে।
ডায়রিয়াঃ অনেক সময় বাজরীগার ডায়রিয়ার রোগে আক্রান্ত হয়। এই রোগের মূল কারন হচ্ছে পাখির অন্তনালীর রোগ জীবানু।
ডায়রিয়া কারনঃ
ডায়রিয়া সাধারন্ত পানির মধ্যমে, খাবারের মাধ্যমে, পাখির হজম প্রক্রিয়া ব্যাহত হলে এছাড়া কিছু পরজীবি কিছু জীবানু ও ব্যাক্টেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হলে এ রোগ ছড়াতে পারে।
লক্ষনঃ
এ রোগের কারনে আক্রান্ত পাখি অন্য পাখিদের তুলনায় একটু চুপচাপ থাকে এবং কিছুটা পশম ফুলিয়ে বসে থাকে। তবে এই অবস্থায় আরো অবনতি হলে পাখি তার শরীর ফুলিয়ে প্রায় গোল হয়ে যায় এবং প্রচুর পরিমানে পানি খায়, পায়খানার রঙ ধুসর খয়রি বা গাঁড় খয়রি, বাদামি এবং অবস্থার অবনতির সময় সবুজ বা হ্লুদ রঙ ধারন করে। পায়খানা থেকে খারাপ গন্ধ বের হয়। মলদ্বারের চারপাশের পালক ভেজা থাকে এবং ঐ জায়গায় গরম ও লাল হয়ে থাকে। অতিরিক্ত ডায়রিয়া হোয়ার হলে পাখির কিডনিতে সমস্যা হতে পারে।
চিকিৎসাঃ
ডায়রিয়ায় আক্রান্ত পাখিকে তৎক্ষণাৎ আলাদা করে দিয়ে সবুজ ও নরম খাদ্য বন্ধ করে দিতে হবে। খাচার ভিতর ৪০-৬০ ওয়ার্ট এর ১টি বাল্ব জালিয়ে দিতে হবে। পাখিকে লাল চা হালকা ঠান্ডা করে দিতে হবে। পাখি যদি সবুজ রঙের পায় খানা করে তখন ৫০ এম.এল চাএর সাথে ২ এম.এল আপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে দিতে হবে এবং সাথে সাথে শুকনো খাবার দিতে হবে যেমন- চোনা, কাওন ইত্যাদি। এভাবে চালিয়ে জেতে হবে জত দিন ভাল না হয়। এছাড়া কিছু এন্টিবায়টিক ডায়রিয়ার জন্য খুবি কার্যকরী যেমন- Terramycin, ESB 30%, Teracycline, Oxytetracycline 20% উপ্রোক্ত এন্টিবায়টিক গুলোর যে কোন একটি ঠান্ডা ফুটানো পানির সাথে নির্দিষ্ট পরিমানে (প্রতি ১ লিটারে ১ গ্রাম) মিশিয়ে তার সাথে কিছু পরিমান স্যালাইন বা গ্লুকোজ মিশিয়ে ব্যবহার ফল আর বেশী ভাল হয়।
গ্রিন পুপ বা সবুজ পায়খানাঃ
এটি একটি পানি বাহিত রোগ । এ রোগে আক্রান্ত হলে পাখি সবুজ বর্ণের পায়খানা করে । গ্রিন পুপের কারণে অনেক পাখি মারা যায়, নবীন পাখি পালকেরা গ্রিন পুপের কারণে সর্বশান্ত হয়ে পাখি পালনই ছেড়ে দেন। তাই কি কি করলে গ্রিন পুপ হবে না, বা আক্রান্ত হয়ে গেলে এর প্রতিকার কি জেনে নিন।
কারণঃ পাখিকে অপরিস্কার পানি পান করালে, বাসী পানি পান করালে। পাখিকে খোলা পাত্রে পানি করালে ( এতে পাখি পানি পান করার পাত্রে পপ করে আবার সেই পানি খেয়ে থাকে, এতে রোগ দীর্ঘ স্থায়ী হয়)।
গ্রিন পুপ প্রতিরোধে করনীয়ঃ খোলা পাত্রে পানি দিবেন না পানির ফিডারে পানি দিবেন। প্রতিদিন লবণ মিশ্রিত গরম পানি দিয়ে ওয়াটার ফিডার পরিষ্কার করুন।
করণীয়ঃ ১ম পদ্ধতিঃ
আক্রান্ত পাখিকে আলাদা করে দিন।
১ লিটার পানিতে সিপ্রোসিন ১ মিলি (Ciprocin 1ml) + এমোক্সিসিলিন ১ গ্রাম (Amoxicillin 1gm)+ হামিকো পি এইচ ১ মিলি ৭ দিন (Hameco Ph 1ml) অথবা সিপ্রিল- সলিউশন কোরিয়ান ঔষধ (Cipryl-Solution) মিশিয়ে পাখিকে খেতে দিন।
পাখি সুস্থ হলে টক দই ১০-১৫ দিন খেতে দিন ( আড়ং এর টক দই টা গুনে মানে ভালো সেটা দিতে পারেন)।
করণীয়ঃ ২য় পদ্ধতিঃ
অ্যাপল সিডার ভিনেগার ১ লিটার পানিতে ৫ মিলি অথবা ১ চা চামচ পরিমাণ মিশিয়ে ৭ দিন খেতে দিতে হবে। অথবা টেট্রাক্স ৫০০ মিগ্রা (tetrax 500mg) ক্যাপস্যুল ১ লিটার পানিতে ১ টি করে ৩ দিন , এবং অবশ্যই ৬ ঘণ্টার মধ্যে পানি বদলে ফেলবেন।
করণীয়ঃ ৩য় পদ্ধতিঃ
১ গ্রাম Oxycentine 20% , ৫০০ মিলি পানিতে মিশিয়ে টানা ৭ দিন দিতে হবে( পাখি যদি অতিরিক্ত দুর্বল হয়ে পরে তাহলে Hemico-PH , ০.৫০ মিলি ও সাথে দিতে হবে) ।পাখি সুস্থ হয়ে গেলেও টানা ৭ দিন দিতে হবে।৭ দিন পরে Protexin, ১ গ্রাম এবং Liva-vit, ১ মিলি , ১০০০ মিলি পানিতে একত্রে মিশিয়ে টানা ৭ দিন দিতে হবে।
Paratyphoid বা salmonellaব্যকটেরয়া জনিত রোগঃ
লক্ষনঃ বাজরিগার পাখির ওজন কমে যাওয়া, পাখা ঝুলে যাওয়া, ঝিমানো ভাব ও পানি জাতীয় সাদা চুনা পায়খানা বা সবুজ পায়খানা।
চিকিৎসাঃ
এই রোগের চিকিৎসার জন্য আমদের দেশে সহজলভ্য এবং সাশ্রয়ীমূল্য নিরাপদ আয়্যুরবেদী ঔষধ ব্যবহার করবেন । ঔষধটি তৈরির পদ্ধতি নিচে তুলে ধরা হলো।
Safi: সিরাপ ২ চা চামচ বা ১০ মি.লি.
Fevnil: ২ চা চামচ বা ১০ মি.লি.
Marbelus: ১ চা চামচ বা ৫ মি.লি.
১ লিটার পানির সাথে সবগুলো ঔষুধ মিক্স করে একটানা ৭ দিন খাওয়াতে হবে। ঔষুধ মিশ্রিত পানি ১২ ঘন্টার বেশি ব্যবহার করা যাবে না । এর পরের ৩-৪ দিন সাধারণ পানি দিতে হবে।
Safi, Marbelous ও Fevnil ঔষুধের কার্যকারিতাঃ
SAFI: এটি ব্যবহার করা হবে রক্ত দূষন কমানো এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করার জন্য।
Fevnil: এটি ব্যবহার করা হয় জ্বর, হাম, জলবসন্ত, টাইফয়েড, প্যারাটাইফয়েড এবং ইনফ্লুয়েঞ্জা রোগের জন্য।
Marbelus: এটি ব্যবহার করা হবে ডায়রিয়া ও আমাশয় প্রতিরোধ এবং হজম শক্তি বাড়ানোর জন্য