28/06/2022
ধৈর্যের ৬টি জাগতিক প্রতিদান
ধৈর্য ধরলে পরকালে প্রতিদান তো মিলবেন, সঙ্গে দুনিয়াতেও নগদ কিছু প্রদান দেওয়া হয়। ধৈর্যের সময় এগুলো স্মরণে রাখলে আমাদের জন্য ধৈর্য ধরা সহজ হয়ে যাবে। চলুন, কুরআনের আলোকে জেনে নিই ধৈর্যের জাগতিক প্রতিদানগুলো:
১) ধৈর্যের ইহকালীন কল্যাণ হচ্ছে আল্লাহ তায়ালা ধৈর্যধারণকারীকে তার অপার অনুগ্রহে নেতা ও অভিভাবক বানিয়ে দেবেন। সকলের ওপর তাকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করবেন। কুরআনের বাণী: “আর আমি তাদের মধ্য থেকে বহু নেতা করেছিলাম, তারা আমার আদেশ অনুযায়ী সৎপথ প্রদর্শন করত, যখন তারা ধৈর্যধারণ করেছিল। আর তারা আমার আয়াতসমূহের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখত।" (সূরা সাজদাহ, ২৪)
২) আল্লাহ তায়ালার সাহায্য লাভের মাধ্যমে ধৈর্যধারণকারী দুনিয়াতে সফলকাম হয়। কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে সহায়ক হয়। কুরআনের বাণী: 'তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। অবশ্য এই নামাজ একটি কঠিন কাজ; তবে একনিষ্ঠ ব্যক্তিবর্গের জন্য কঠিন নয়।' (সূরা বাকারা, ৪৫)
৩) আল্লাহ তায়ালা ধৈর্যধারণকারীদের ওপর অগণিত রহমত বর্ষণ করেন এবং তাদেরকে সঠিক পথপ্রদর্শন করেন। কুরআনের বাণী: 'তুমি ধৈর্যধারণকারীদের সুসংবাদ দাও। যারা বিপদকালে বলে, "আমরা তো আল্লাহরই বান্দা এবং তারই কাছে ফিরে যাব।" তাদের ওপর তাদের রবের পক্ষ থেকে রয়েছে করুণা-রাশি আর অনুগ্রহ; এবং তারাই হেদায়েত-প্রাপ্ত।" (সূরা বাকারা, ১৫৫-১৫৭)
৪) মুমিনরা যখন ধৈর্যধারণ করবে, তখন আল্লাহ তাদেরকে শত্রুদের বিরুদ্ধে সাহায্য করবেন এবং বিজয় দান করবেন। কুরআনের বাণী: “যদি তোমরা ধৈর্যধারণ করো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো আর তারা তোমাদের ওপর এরকম আচমকা আক্রমণ করে বসে তাহলে তোমাদের প্রভু প্রচণ্ড আক্রমণকারী পাঁচ হাজার ফেরেশতা দ্বারা তোমাদেরকে সাহায্য করবেন। আল্লাহ এটা করেছেন কেবল তোমাদের জন্য সুসংবাদস্বরূপ এবং যাতে তোমাদের মন প্রশান্ত থাকে। সাহায্য তো শুধু পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময় আল্লাহর কাছ থেকেই আসে।" (সূরা আলে ইমরান ১২৫-১২৬)
৫) বিপদ-আপদে ধৈর্যধারণ করা আল্লাহ তায়ালার আদেশের ওপর অটল অবিচল ও দৃঢ় সংকল্প থাকার নামান্তর। কুরআনের বাণী: "যে ধৈর্যধারণ করে ক্ষমা করে দেয় তার এ কাজ অবশ্যই দৃঢ় সংকল্পের পরিচায়ক।" (সূরা শুরা, ৪৩)
৬) ধৈর্যধারণকারীদের আল্লাহ ভালোবাসেন। কুরআনের বাণী: "আল্লাহ ধৈর্যশীলদের ভালোবাসেন।" (সূরা আলে ইমরান, ১৪৬)
'আল্লাহর ভালোবাসা পেতে হলে' বই থেকে চয়িত
Collected